বিরতির পর ২৯এ মার্চ আবার বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন । আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এছাড়াও উত্তাপ ছড়াবে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি ইস্যু।
কামরুজ্জামান পৃথু
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:০০ পিএমআপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কি অধ্যাদেশের প্রশ্নে একমত হতে পারবে? সাধারণ মানুষের মৌলিক সংকটগুলো কি গুরুত্ব পাবে আলোচনায়? এই অধিবেশন কি পারবে দেশের আগামীর রাজনৈতিক পথরেখা নির্ধারণ করতে? দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন এখন এগুলোই।
বিরতির পর ২৯এ মার্চআবার বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন। আর সেদিনটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষার দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অধ্যাদেশগুলোর সবকটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন ও অনুমোদন করতে হবে। আর তা না হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।
অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার জন্য এরই মধ্যে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই দফা বৈঠকের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে। যা এই অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের সবকটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার।
তার মতে, জুলাই আন্দোলনে যে কথাগুলো সামনে এসেছিল সেই কথাগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি যেহেতু শপথ নেয়নি, কাজেই একটি প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কারে আগ্রহী কি না?
এবারের সংসদ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে গড়া জানিয়ে আশরাফ কায়সার বলেন, “আগেরগুলো আমাদের কাছে নির্বাচন মনে হতো না। যেখানে বিরোধী দল জানতে চাইতো আমরা বিরোধী দল নাকি সরকারি দল।”
সংবিধান সংস্কার পরিষদ, সংস্কার বাস্তবায়নের রূপরেখা, বিরোধী দলের জন্য সংসদে ‘স্পেস ক্রিয়েট’ করার মতো বিষয়গুলো আগামী কয়েকটা অধিবেশনের ‘টপিক’ থাকবে বলে মনে করছেন আশরাফ কায়সার।
এবারের সংসদ একটি ‘প্রাণবন্ত বিতর্কের জায়গা’ হবে বলেও মনে করেন তিনি।
একই রকম কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক কামরান রেজা চৌধুরী।
“এই অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নিয়ে সংসদে ব্যাপক টানা-হেঁচড়া হতে পারে,” আলাপ-কে বলেছেন এই সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ বিষয়ক রিপোর্টিং করছেন।
এবারের অধিবেশনে গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই আলোচনায় কতটা ছাড় দেবে বিএনপি তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী।
বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাই তারা “এখন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী,” বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
“আমরা অতীতেও দেখছি, এখনো দেখছি, যে দল টু-থার্ড মেজরিটি পায় তারা সমস্ত আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায়,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
গণভোটের ‘ফসল’ ও আইনি জটিলতা
একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেয় ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার।
“গণভোটের আদেশের ভিত্তিতে যে ফসল বা নির্বাচন ঘরে তোলা হয়েছে, এখন সেই আদেশ বাতিল করলে ফসলের কী হবে?,” প্রশ্ন তুলেছেন আবু হেনা রাজ্জাকী।
তার মতে, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “রাষ্ট্রপতির আদেশই আইন।” “কিন্তু এই সার্বভৌম সংসদ সেই আইনের কতটুকু গ্রহণ করবে, সেটিই দেখার বিষয়।”
সংসদ সার্বভৌম বলে তারা যে কোনো অধ্যাদেশ বাতিল করতে পারলেও ‘জনমত’কে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি, আইন, আদালতসহ সংবিধানে বর্ণিত বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদের ধারা ১ অনুযায়ী, ‘আইন’ অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি।
তবে রাজ্জাকীর সাথে একমত নন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।
রাষ্ট্রপতির আদেশ সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে যদি যুক্ত থাকে, সেটা সংসদকে অনুমোদন করতে হবে, মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গণভোটে জনগণ হ্যাঁ দিয়েছে বলেই সেটা পাস হয়ে যাবে ভাবার কোন কারণ নেই।”
রাজনৈতিক কৌশলের লড়াই: বিএনপি বনাম অন্যান্য
রবিবার শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।
জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ “অক্ষরে অক্ষরে পালনের” দাবি তুলবে বলে মনে করছেন কামরান রেজা চৌধুরী। অন্যদিকে বিএনপির যে সব দ্বিমত ছিলো, তার আলোকে বিএনপি এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এই ইস্যুতে বিরোধী দল বিএনপিকে চাপে ফেলার কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা তার।
বিতর্ক তৈরি হতে পারে রাষ্ট্রপতিকে নিয়েও। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল সংসদে। বক্তব্য চলাকালে ওয়াক আউট করে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা। এই বিতর্ক চলতে পারে অধিবেশনের তৃতীয় দিনেও।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যের উপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব “নতুন বাংলাদেশের সাথে মানানসই না” বলে মন্তব্য করেছেন আশরাফ কায়সার। তার মতে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা: জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য
সরকার গঠনে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েল যুদ্ধ। তার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। যদিও সরকার বলছে কোন সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
তবে এই বিষয়ে বিএনপিকে চাপে ফেলার কিছু নাই বলে মনে করেন কামরান রেজা চৌধুরী।
“কৃত্রিম সংকটের দায় বিএনপি সরকারের ঘাড়ে যাবে এবং তাদেরই এই দায়িত্ব নিতে হবে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
আবু হেনা রাজ্জাকীও মনে করেন, জ্বালানি নিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। “সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নেই বললেও পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”
জ্বালানি সংকট এবং ঈদ যাত্রা নিয়ে বিএনপিকে বিরোধীদের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে কি না – এমন প্রশ্নের উত্তরে আশরাফ কায়সার বলেন, “এবার ফিরে আসা এবং যাওয়াটা কোনটাই খুব একটা সুখের হয়নি। বিরোধী দল এগুলোকে নিয়ে ইস্যু করতে পারে।”
একদিকে অন্তবর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ, অন্যদিকে জ্বালানি-দ্রব্যমূল্য ইস্যু; সব মিলিয়ে এই সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রাণবন্ত বটে, তবু চ্যালেঞ্জের সংসদ অধিবেশন
বিরতির পর ২৯এ মার্চ আবার বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন । আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এছাড়াও উত্তাপ ছড়াবে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি ইস্যু।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কি অধ্যাদেশের প্রশ্নে একমত হতে পারবে? সাধারণ মানুষের মৌলিক সংকটগুলো কি গুরুত্ব পাবে আলোচনায়? এই অধিবেশন কি পারবে দেশের আগামীর রাজনৈতিক পথরেখা নির্ধারণ করতে? দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন এখন এগুলোই।
বিরতির পর ২৯এ মার্চ আবার বসছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন। আর সেদিনটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষার দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অধ্যাদেশগুলোর সবকটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন ও অনুমোদন করতে হবে। আর তা না হলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।
অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার জন্য এরই মধ্যে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই দফা বৈঠকের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে। যা এই অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের সবকটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার।
তার মতে, জুলাই আন্দোলনে যে কথাগুলো সামনে এসেছিল সেই কথাগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি যেহেতু শপথ নেয়নি, কাজেই একটি প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কারে আগ্রহী কি না?
এবারের সংসদ নির্বাচনের ভেতর দিয়ে গড়া জানিয়ে আশরাফ কায়সার বলেন, “আগেরগুলো আমাদের কাছে নির্বাচন মনে হতো না। যেখানে বিরোধী দল জানতে চাইতো আমরা বিরোধী দল নাকি সরকারি দল।”
সংবিধান সংস্কার পরিষদ, সংস্কার বাস্তবায়নের রূপরেখা, বিরোধী দলের জন্য সংসদে ‘স্পেস ক্রিয়েট’ করার মতো বিষয়গুলো আগামী কয়েকটা অধিবেশনের ‘টপিক’ থাকবে বলে মনে করছেন আশরাফ কায়সার।
এবারের সংসদ একটি ‘প্রাণবন্ত বিতর্কের জায়গা’ হবে বলেও মনে করেন তিনি।
একই রকম কথা বলেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক কামরান রেজা চৌধুরী।
“এই অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নিয়ে সংসদে ব্যাপক টানা-হেঁচড়া হতে পারে,” আলাপ-কে বলেছেন এই সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদ বিষয়ক রিপোর্টিং করছেন।
এবারের অধিবেশনে গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই আলোচনায় কতটা ছাড় দেবে বিএনপি তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী।
বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাই তারা “এখন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী,” বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
“আমরা অতীতেও দেখছি, এখনো দেখছি, যে দল টু-থার্ড মেজরিটি পায় তারা সমস্ত আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যায়,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
গণভোটের ‘ফসল’ ও আইনি জটিলতা
একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেয় ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার।
“গণভোটের আদেশের ভিত্তিতে যে ফসল বা নির্বাচন ঘরে তোলা হয়েছে, এখন সেই আদেশ বাতিল করলে ফসলের কী হবে?,” প্রশ্ন তুলেছেন আবু হেনা রাজ্জাকী।
তার মতে, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী “রাষ্ট্রপতির আদেশই আইন।” “কিন্তু এই সার্বভৌম সংসদ সেই আইনের কতটুকু গ্রহণ করবে, সেটিই দেখার বিষয়।”
সংসদ সার্বভৌম বলে তারা যে কোনো অধ্যাদেশ বাতিল করতে পারলেও ‘জনমত’কে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি, আইন, আদালতসহ সংবিধানে বর্ণিত বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদের ধারা ১ অনুযায়ী, ‘আইন’ অর্থ কোন আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যে কোন প্রথা বা রীতি।
তবে রাজ্জাকীর সাথে একমত নন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।
“রাষ্ট্রপতি আদেশ দিলেই ওটা চূড়ান্ত কোন ডকুমেন্ট না,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির আদেশ সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে যদি যুক্ত থাকে, সেটা সংসদকে অনুমোদন করতে হবে, মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গণভোটে জনগণ হ্যাঁ দিয়েছে বলেই সেটা পাস হয়ে যাবে ভাবার কোন কারণ নেই।”
রাজনৈতিক কৌশলের লড়াই: বিএনপি বনাম অন্যান্য
রবিবার শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।
জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদ “অক্ষরে অক্ষরে পালনের” দাবি তুলবে বলে মনে করছেন কামরান রেজা চৌধুরী। অন্যদিকে বিএনপির যে সব দ্বিমত ছিলো, তার আলোকে বিএনপি এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এই ইস্যুতে বিরোধী দল বিএনপিকে চাপে ফেলার কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা তার।
বিতর্ক তৈরি হতে পারে রাষ্ট্রপতিকে নিয়েও। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল সংসদে। বক্তব্য চলাকালে ওয়াক আউট করে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা। এই বিতর্ক চলতে পারে অধিবেশনের তৃতীয় দিনেও।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যের উপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব “নতুন বাংলাদেশের সাথে মানানসই না” বলে মন্তব্য করেছেন আশরাফ কায়সার। তার মতে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা: জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য
সরকার গঠনে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েল যুদ্ধ। তার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। যদিও সরকার বলছে কোন সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
তবে এই বিষয়ে বিএনপিকে চাপে ফেলার কিছু নাই বলে মনে করেন কামরান রেজা চৌধুরী।
“কৃত্রিম সংকটের দায় বিএনপি সরকারের ঘাড়ে যাবে এবং তাদেরই এই দায়িত্ব নিতে হবে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
আবু হেনা রাজ্জাকীও মনে করেন, জ্বালানি নিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। “সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নেই বললেও পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”
জ্বালানি সংকট এবং ঈদ যাত্রা নিয়ে বিএনপিকে বিরোধীদের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে কি না – এমন প্রশ্নের উত্তরে আশরাফ কায়সার বলেন, “এবার ফিরে আসা এবং যাওয়াটা কোনটাই খুব একটা সুখের হয়নি। বিরোধী দল এগুলোকে নিয়ে ইস্যু করতে পারে।”
একদিকে অন্তবর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ, অন্যদিকে জ্বালানি-দ্রব্যমূল্য ইস্যু; সব মিলিয়ে এই সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয়: