সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে ১২ই মার্চ। এই অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় আর একদম শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন জনসম্মুখে আসেননি। আর ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু ফৌজদারি মামলায় কারাগারে আছেন।

তাদের অনুপস্থিতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশন কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

সংসদের প্রথম অধিবেশন

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন হতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ১২ই মার্চ রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।

“এই সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে,” রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বেঠক শেষে একথা বলেন তিনি।

প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সে বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।”

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচন হয়। বিদায়ী স্পিকার নিজে প্রার্থী হলে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন।

শূন্যতা নিয়ে নানা মত

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের শূন্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি সভাপতিত্ব করার জন্য কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আবার কেউ বলছেন স্পিকারের অনুপস্থিতে সংসদ জ্যেষ্ঠ কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দিতে পারে।

একই সাথে কেউ কেউ বলছেন সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

“সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন, রাষ্ট্রপতিও সেটি জমা নিয়েছেন। তাই আইন অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার স্পিকার পদে আসীন আছেন। তিনি তো মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় নাই বা এমপি পদও যায় নাই,” সাংবাদিক কামরান রেজা চৌধুরী বলেন।

সংবিধানের ৭২(৬) অনুচ্ছেদ বলছে নতুন ‍স্পিকার দায়িত্ব নেয়ার আগে পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার তার দায়িত্বে বহাল আছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।

যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার বা তার প্রতিনিধি না পাওয়া যায় তবে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন এবং সংসদের অধিবেশন সভাপতিত্ব করতে পারবেন, বলে জানান কামরান রেজা চৌধুরী, যিনি দীর্ঘদিন সংসদ বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে যুক্ত ছিলেন।

“কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দিবেন যিনি স্পিকার নির্বাচনের সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন” আলাপ-কে বলেন তিনি।

সাধারণত গেজেট প্রকাশের পর স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে।

জাতীয় সংসদ কার্যপ্রণালি বিধি (সংশোধিত ২০০৬) অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকারের সামনে শপথ নেবেন।

সংবিধানে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির শপথ পড়ানোর সুযোগ থাকলেও, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন কাউকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন বলে জানা যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে ১৭ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন।

ফলে এখন শুধু নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন না দিলেও প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন বলে জানান কামরান রেজা চৌধুরী।

“শপথ পড়ানোর জন্য আর সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য একই ব্যক্তিকে হতে হবে এমন নয়। রাষ্ট্রপতি যদি দুজনকে নির্বাচিত করেন, করতে পারেন। শপথ আর অধিবেশন তো একই দিনে হয় না, আলাদা আলাদা দিনে হয়,” আলাপ-কে তিনি বলেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, “মনে করি না এখানে কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করেছে, তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে নাম প্রস্তাব, মনোনয়ন এরপর স্পিকার নির্বাচন। এরপরে বিরতি দিয়ে নতুন নির্বাচিত স্পিকার দায়িত্ব নেবেন।”

প্রথম অধিবেশনের বৈঠকে সভাপতি কে হবেন ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে সরকারি দপ্তরে।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন,“ফাইল তৈরি হচ্ছে। দ্রুতই জানতে পারবেন কে দায়িত্ব পালন করবেন।”