পরিবেশ শান্ত, উপস্থিতি কম, জয়ের সম্ভাবনা কাদের 

শান্ত পরিবেশ, কম ভোটার উপস্থিতি, তবু উচ্চ প্রত্যাশা—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলো বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই। আওয়ামী লীগবিহীন জাতীয় ভোটে বিএনপি ও জামায়াতের সরাসরি লড়াই, বিচ্ছিন্ন মৃত্যুর ঘটনা, অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন এবং জয়ের হিসাব—সব মিলিয়ে কেমন গেল নির্বাচনের দিন? মাঠের চিত্র, জরিপের ইঙ্গিত এবং বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে কে এগিয়ে?

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, রাজপথের উত্তাপ আর ভার্চুয়াল মাধ্যমে তীব্র প্রচারণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। 

এই ভোট নিয়ে ছিল বহু রকমের প্রত্যাশা ও সংশয়, ক্ষমতার পালাবদলের সম্ভাবনা এবং নির্বাচনি পরিবেশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও ছিল বিতর্ক।

এবারের ভোটের দিন কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা মানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি হয়ে ওঠে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষাও।

আর দেশে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ভোটাররা একাধিক ব্যালটে ভোট দিলেন এবার। 

বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা, পারস্পরিক দোষারোপ, ভোটার উপস্থিতির হার, প্রার্থীদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া- সব মিলিয়ে ভোটের দিন ছিল রেওয়াজ অনুযায়ী ঘটনাবহুল। 

কোথাও উৎসবমুখর পরিবেশ, কোথাও ছিটেফোঁটা উত্তেজনা, কোথাও তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, আবার কোথাও ছিল অনাগ্রহের অভিযোগ। 

এবার এমন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশে অন্যতম বড় দল আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার চলমান থাকায় নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে আওয়ামী লীগের।

জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়া আওয়ামী লীগ বাদে জাতীয় নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হলো সেই প্রশ্ন যেমন উঠেছে। তেমনি প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশে অন্যান্য প্রতিযোগী নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের ভোট কেমন হলো তা নিয়েও। 

তবু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক নজর—সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্ব পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। 

এখন ফলের অপেক্ষায় দেশবাসী, কারা আসছেন ক্ষমতায়, দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতে? 

বিবিসি বাংলার সাবেক সম্পাদক সাবির মুস্তাফা দুপুরে আলাপকে বলেন, “ব্যাপক কোনো ভোটকেন্দ্র দখল, জালিয়াতি- সে রকম কোনো ঘটনা ব্যাপকভাবে এখনো পর্যন্ত আসেনি। টুকিটাকি কিছু ঘটনা।”

নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল বলেন, “এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, মানে খুব গুরুতর আঙুল তোলার মতো কিছু হয় নাই।” 

শেষ হলো ভোটের হিসেব-নিকেশ 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় ২৯৯টি আসনের ভোট। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আগে থেকেই স্থগিত রয়েছে শেরপুর-৩ আসনের ভোট।   

দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে দুই হাজার ২৮ জন দলীয় প্রার্থী লড়ছেন এবার ভোটে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটারের জন্য সারাদেশে ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি।

সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয় ভোট দেওয়া। কিন্তু তার আগে থেকেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। 

সকালে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারও বাড়তে শুরু করে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। 

দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান তিনি। 

সকাল থেকে কিছু কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার তথ্য সামনে আসতে থাকে। ভোট শেষ হওয়ার আগেই চারজনের মৃত্যু ঘটে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করা হয়েছে। 

চূড়ান্ত গণনার পর ভোট পড়ার সঠিক হার বের হবে এবং তা আরো বাড়বে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ভোট চলাকালে দেশের চার স্থানে পৃথক ঘটনায় চার ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে রাজ্জাক মিয়া, চট্টগ্রামে ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে মো. মনু মিয়া, খুলনায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিএনপির নেতা মহিবুজ্জামান কচি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কাচারি পাড়ায় জ্ঞান হারিয়ে পোলিং কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম মারা যান। 

কেমন হলো ভোট

এবারের ভোট নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে দেশের সেরা নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবার। 

সকালে ঢাকার গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আজকে যে প্রক্রিয়া শুরু হলো এর মাধ্যমে আমরা অতীতকে বর্জন করলাম, যেসব দুস্বপ্নময় অতীত ছিল, সেসব আমরা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করলাম।”

বাংলাদেশে এর আগে চারটি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক বলে মনে করা হয়। এগুলো ছিল-১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন। 

ওই ভোটগুলোর তুলনায় এবারের ভোট কেমন অংশগ্রহণমূলক হলো? 

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাবির মুস্তাফা বলেন, “টিভিতে যা দেখছি, মনে হচ্ছে না ৭০ শতাংশ টার্নআউট হবে। ৫০ শতাংশ হলেও একটা ভালো ফিগার।” 

“আমি যতটুকু দেখেছি, সেখানে একানব্বই এবং আটের ভিড়টা আমি লক্ষ্য করি নাই।” 

২০০৮ পর্যন্ত চারটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন সাবির মুস্তাফা। 

 “এটাই বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন না। এর আগেও চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখেছি।… এগুলো ভালো, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ভোট বলা হয়। একানব্বইয়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ, সেটা আমি এবার দেখিনি।” 

নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল মনে করেন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি খারাপ না। 

“আমি মনে করি, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মানে খুব গুরুতর আঙুল তোলার মতো কিছু হয় নাই, তবে এখানে নির্বাচন কমিশনের সীমাবদ্ধতা অনেক।” 

যে কারণে শান্তিপূর্ণ

এবারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামীকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট বা আইআরআইয়ের ডিসেম্বরের এক জরিপে দেখা যাচ্ছে— বিএনপির সমর্থন যেখানে ৩৩ শতাংশ, সেখানে জামায়াতের সমর্থন ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের কয়েকটি সংস্থার জরিপে জামায়াত আরও এগিয়ে রয়েছে বলে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ন্যারেটিভ, প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) এবং জাগরণ ফাউন্ডেশনের যৌথ ওই জরিপে বলা হয়েছে, বিএনপির সমর্থন ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জামায়াতের সমর্থন ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

দুই দলই জয় নিয়ে আশাবাদী হওয়ায় সহিংসতাও কম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।     

সকালে ঢাকার ‎মিরপুরে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে (বালক শাখা) ভোট দেওয়ার পর বিজয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। 

শফিকুর রহমান বলেন, “ভোট যখন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে, সেই রেজাল্ট আমরাও মানবো, অন্যদেরকেও মানতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য,” তিনি যোগ করেন।

ভোট দেওয়ার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন,“আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী জয়লাভের ব্যাপারে। জয় পেলে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন করা, যেন সমগ্র দেশের মানুষ নিরাপদ বোধ করে,” বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

দুপুরের পর তিনি বলেন, “ভোট সুষ্ঠু হলে, নিরপেক্ষ হলে অবশ্যই আমরা মেনে নেবো, সব দলই মেনে নেবে। তবে একটা শর্ত আছে। ভোট সুষ্ঠু না হলে আমরা ফল মানবো না।”

বেশিরভাগ কেন্দ্রে সুষ্ঠু হলেও কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোট প্রভাবিত বা বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। 

সাবির মুস্তাফা বলেন, “সো ফার ভোটাভুটি বা ভোটের আয়োজন শান্তিপূর্ণই মনে হচ্ছে। কারণ, এখানে যে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল, বিএনপি এবং জামায়াত, তারা দুজনেই বিজয় প্রত্যাশী।” 

এই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় দুই পক্ষই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। 

“তারা চাচ্ছে নির্বাচনটা নির্বিঘ্নে হোক, কোনো অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনা ছাড়াই হোক। দুই পার্টিই যখন সেই মনোভাব পোষণ করে, তখন গণ্ডগোলের কোনো স্কোপ থাকে না।” 

বিভিন্ন জরিপের ফলাফলের মতোই তাসনিম খলিলও মনে করেন বিএনপিই বিজয়ী হয়ে আসছে। 

“আমরা এখন যেটা এখন ধারণা করতে পারি, পোলিং-টোলিং সবকিছু দেখে যে, বিএনপি বিজয়ী হতে যাচ্ছে।” 

ফল কখন হবে

সাড়ে চারটার পর ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ বন্ধ হয়, ভোট নেওয়া হয় চারটা পর্যন্ত। এরপর শুরু হয় ভোট গোনার কর্মযজ্ঞ। 

ফল কখন হবে তা এখনো নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য একটি সময়সীমা ঘোষণা করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। 

তিনি বলেছেন, আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। 

গেজেট প্রকাশের ফলাফল এবং পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই নতুন সরকার গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। 

“আমার ধারণা গেজেট নোটিফিকেশন ১৩ তারিখ রাতে, বা ১৪ তারিখের মধ্যে হয়ে যাবে। সরকার গঠন অবশ্যই রোজার আগে হয়ে যাবে। সতেরো আঠারো তারিখ বা তার আগেই হয়ে যাবে।”

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া

এদিন সকালে ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা ভোটের দিনকে ‘জন্মদিন পালন করি’ বলে মন্তব্য মন্তব্য করেন, যে ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। 

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আজকে থেকে আমরা প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুযোগ পেলাম। আজকে জন্মদিন পালন করি, সারাদিনব্যাপী উৎসব করি। জাতির সবাই মিলে উৎসব করি। এবং এটা আরও নিশ্চিত হবে গণভোটটা দিয়ে।”

এ বিষয়ে সাবির মুস্তাফা বলেন, “ড. ইউনূস, উনি আবার একটু ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে কথা বলেন। তিলকে তাল করতে তিনি পছন্দ করেন।” 

“এখন নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন মানেটা কী। বাংলাদেশের জন্মদিন হচ্ছে ২৬এ মার্চ, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ নয়। উনি যদি বাংলাদেশের জন্মদিনও বদলাতে চান, তিনি সফল হবেন না।” 

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুন নূর তুষার। 

“উনি অনেক ধরনের অনেক কথা বলেন। উনি একবার বাংলাদেশকে রিসেট করিয়েছেন। উনি মবকে সেলিব্রেশন বলেছিলেন। উনি এমন নানান কথাবার্তা বলেন। আমার ধারণা উনি সকালে যেটা বলেন বিকালে সেটা ভুলে যান।”