কিউএস র্যাংকিংয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়
র্যাংকিং বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২৮.৩ স্কোর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করছে ৬০০ নাম্বারে। দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় ‘সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ সূচকে স্কোর করেছে ৮, শিক্ষা ও গবেষণার মান ২৮.৩।
কামরুজ্জামান পৃথু
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএমআপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ এএম
কিউএস র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিছিয়ে পড়া নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে কিউএস র্যাংকিং ২০২৭। বিশ্বের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে র্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।
র্যাংকিংয়ের সূচকগুলোতে দেখা যায় এমআইটির গবেষণা এবং শিক্ষার মানে স্কোর পেয়েছে ১০০ তে ১০০। এ ছাড়াও চাকরির বাজারে নিয়োগদাতাদের মূল্যায়ন সূচক, আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের অনুপাত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সবগুলো সূচকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ১০০।
তালিকায় বাংলাদেশের ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়
কিউএস র্যাংকিংয়ের তালিকায় বাংলাদেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে।
র্যাংকিং বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২৮.৩ স্কোর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করছে ৬০০ নাম্বারে। দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় ‘সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ সূচকে স্কোর করেছে ৮, শিক্ষা ও গবেষণার মান ২৮.৩।
নিয়োগদাতাদের মূল্যায়ন সূচকে ৫০, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত সূচকে ২, কর্মসংস্থান ফলাফল সূচকে ৯৫ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত সূচকে ৮ স্কোর অর্জন করেছে।
র্যাংকিংয়ের তথ্যে দেখা যায়, শীর্ষ ১ হাজারের মধ্যে বাংলাদেশের আরও দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। র্যাংকিংয়ে ৭১১ থেকে ৭২০ এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান ৯০১ থেকে ৯৫০ এর মধ্যে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আছে ১০০১ থেকে ১২০০ এর মধ্যে।
তালিকায় ১৪০১ এর পরে আছে বাকি আটটি বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চিটাগং ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (চুয়েট), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (কুয়েট), শাহজালাল ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো র্যাংকিংয়ে পেছনের সারিতে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিমাত্রায় রাজনীতিকীকরণকে দায়ী করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি মূল্যায়ন করা হয় বলে বলেন তিনি।
অন্যদিকে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনুর রহমান খান।
র্যাংকিংয়ের অন্যতম একটি শর্ত হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি কতটা আকর্ষণীয়। সে জায়গায় বাংলাদেশ বেশ কিছু কারণে পিছিয়ে আছে জানান ড. হাসিনুর রহমান খান।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থী আসলেও এখন সেটি প্রায় শূন্যের কোঠায়। আর বিদেশি শিক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও পর্যাপ্ত বেতন কাঠামোর অভাব আছে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
একইসঙ্গে শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকাকেও একটি বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষার পর্যাপ্ত ব্যয় ছাড়া বিজ্ঞান বা বাণিজ্য কোনো ক্ষেত্রেই মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা সম্ভব নয়”।
গবেষণার সংখ্যা ও সাইটেশন কিউএস র্যাংকিংয়ের অন্যতম শর্ত। পলিসিগত ঘাটতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা গবেষণার সু্যোগ পাচ্ছেন না বলে মনে করেন হাসিনুর রহমান খান।
“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইনগত ও কাঠামোগতভাবে মূলত ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা পাঠদানভিত্তিক হিসেবে পরিচালিত হয়, যা ‘রিসার্চ ইউনিভার্সিটি’ বা গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুযোগ তৈরি করে দেয় না’।
কিউএস র্যাংকিংয়ে উন্নতির জন্য গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের জন্য নীতিমালায় পরিবর্তন ও গবেষণাভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।
একই বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক আলাপ-কে বলেন, “গবেষণার জন্য দু ধরনের বিষয় প্রয়োজন। একটা হচ্ছে গবেষক আরেকটা হচ্ছে গবেষণার জন্য রিসোর্স।”
“রিসোর্স পেতে হলে টাকা দরকার। এই জায়গাতে বরাদ্দ টোটাল বাজেটের তুলনায় খুবই কম। যার ফলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান না। এগুলো মূলত টিচিং ইউনিভার্সিটি। সেই সাথে অল্প কিছু গবেষণা হয়। ফলে র্যাংকিংয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যে ইউনিভার্সিটি আসে তাদের বাজেটের তুলনায় গবেষণার এই আউটপুট ঠিকই আছে। এটা বাড়াতে হলে গবেষকদেরকে গবেষণার কাজে লাগাতে হবে।”
এ ছাড়াও অন্য গবেষকরা বাংলাদেশের গবেষকদের গবেষণা প্রবন্ধকে সাইট করছে সে বিষয়েও জোর দেন ড. রাজ্জাক। তিনি বলেন, সাইট হতে হলে গবেষণার মান ভালো হওয়া প্রয়োজন। পাবলিকেশনের মান ভালো না হলে সাইটেশনটা কম হবে। আমাদের দেশে এমনও অধ্যাপক আছে যাদের গবেষণা ৫০০ সাইটেশনও হয়নি। ২০০ থেকে ৪০০ সাইটেশন নিয়ে প্রচুর অধ্যাপক আছেন। আবার অনেকের গবেষণা ২ হাজার সাইটেশনও আছে। কিন্তু এই সংখ্যাটা খুব কম। গবেষণার মানের উপর সাইটেশন নির্ভর করে।”
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় আছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো।
তালিকায় ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে পাকিস্তানের। ওয়ার্ল্ড কিউএস র্যাংকিংয়ে ৩৮১ তম অবস্থানে থেকে কায়েদ-এ আজম বিশ্ববিদ্যালয় আছে দেশটির প্রথম স্থানে। আরও ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে তালিকার প্রথম ১ হাজারে।
র্যাংকিংয়ে প্রথম ৫০০ এর মধ্যে আছে ভারতের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে আইআইটি’র (দিল্লি) অবস্থান ১১৮ তম। ৫০১ থেকে ১ হাজারের মধ্যে আরও ২৬টি নিয়ে এই তালিকায় স্থান পেয়েছে ভারতের মোট ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএস র্যাংকিংয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়
র্যাংকিং বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২৮.৩ স্কোর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করছে ৬০০ নাম্বারে। দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় ‘সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ সূচকে স্কোর করেছে ৮, শিক্ষা ও গবেষণার মান ২৮.৩।
কিউএস র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিছিয়ে পড়া নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে প্রকাশ হয়েছে কিউএস র্যাংকিং ২০২৭। বিশ্বের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে র্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।
র্যাংকিংয়ের সূচকগুলোতে দেখা যায় এমআইটির গবেষণা এবং শিক্ষার মানে স্কোর পেয়েছে ১০০ তে ১০০। এ ছাড়াও চাকরির বাজারে নিয়োগদাতাদের মূল্যায়ন সূচক, আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের অনুপাত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত সবগুলো সূচকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কোর ১০০।
তালিকায় বাংলাদেশের ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়
কিউএস র্যাংকিংয়ের তালিকায় বাংলাদেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে।
র্যাংকিং বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২৮.৩ স্কোর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান করছে ৬০০ নাম্বারে। দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয় ‘সাইটেশন পার ফ্যাকাল্টি’ সূচকে স্কোর করেছে ৮, শিক্ষা ও গবেষণার মান ২৮.৩।
নিয়োগদাতাদের মূল্যায়ন সূচকে ৫০, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত সূচকে ২, কর্মসংস্থান ফলাফল সূচকে ৯৫ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত সূচকে ৮ স্কোর অর্জন করেছে।
র্যাংকিংয়ের তথ্যে দেখা যায়, শীর্ষ ১ হাজারের মধ্যে বাংলাদেশের আরও দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। র্যাংকিংয়ে ৭১১ থেকে ৭২০ এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান ৯০১ থেকে ৯৫০ এর মধ্যে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আছে ১০০১ থেকে ১২০০ এর মধ্যে।
তালিকায় ১৪০১ এর পরে আছে বাকি আটটি বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চিটাগং ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (চুয়েট), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (কুয়েট), শাহজালাল ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো র্যাংকিংয়ে পেছনের সারিতে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিমাত্রায় রাজনীতিকীকরণকে দায়ী করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে বেশি মূল্যায়ন করা হয় বলে বলেন তিনি।
অন্যদিকে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনুর রহমান খান।
র্যাংকিংয়ের অন্যতম একটি শর্ত হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি কতটা আকর্ষণীয়। সে জায়গায় বাংলাদেশ বেশ কিছু কারণে পিছিয়ে আছে জানান ড. হাসিনুর রহমান খান।
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থী আসলেও এখন সেটি প্রায় শূন্যের কোঠায়। আর বিদেশি শিক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও পর্যাপ্ত বেতন কাঠামোর অভাব আছে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
একইসঙ্গে শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকাকেও একটি বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষার পর্যাপ্ত ব্যয় ছাড়া বিজ্ঞান বা বাণিজ্য কোনো ক্ষেত্রেই মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা সম্ভব নয়”।
গবেষণার সংখ্যা ও সাইটেশন কিউএস র্যাংকিংয়ের অন্যতম শর্ত। পলিসিগত ঘাটতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা গবেষণার সু্যোগ পাচ্ছেন না বলে মনে করেন হাসিনুর রহমান খান।
“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইনগত ও কাঠামোগতভাবে মূলত ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা পাঠদানভিত্তিক হিসেবে পরিচালিত হয়, যা ‘রিসার্চ ইউনিভার্সিটি’ বা গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুযোগ তৈরি করে দেয় না’।
কিউএস র্যাংকিংয়ে উন্নতির জন্য গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের জন্য নীতিমালায় পরিবর্তন ও গবেষণাভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।
একই বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক আলাপ-কে বলেন, “গবেষণার জন্য দু ধরনের বিষয় প্রয়োজন। একটা হচ্ছে গবেষক আরেকটা হচ্ছে গবেষণার জন্য রিসোর্স।”
“রিসোর্স পেতে হলে টাকা দরকার। এই জায়গাতে বরাদ্দ টোটাল বাজেটের তুলনায় খুবই কম। যার ফলে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আসলে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান না। এগুলো মূলত টিচিং ইউনিভার্সিটি। সেই সাথে অল্প কিছু গবেষণা হয়। ফলে র্যাংকিংয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যে ইউনিভার্সিটি আসে তাদের বাজেটের তুলনায় গবেষণার এই আউটপুট ঠিকই আছে। এটা বাড়াতে হলে গবেষকদেরকে গবেষণার কাজে লাগাতে হবে।”
এ ছাড়াও অন্য গবেষকরা বাংলাদেশের গবেষকদের গবেষণা প্রবন্ধকে সাইট করছে সে বিষয়েও জোর দেন ড. রাজ্জাক। তিনি বলেন, সাইট হতে হলে গবেষণার মান ভালো হওয়া প্রয়োজন। পাবলিকেশনের মান ভালো না হলে সাইটেশনটা কম হবে। আমাদের দেশে এমনও অধ্যাপক আছে যাদের গবেষণা ৫০০ সাইটেশনও হয়নি। ২০০ থেকে ৪০০ সাইটেশন নিয়ে প্রচুর অধ্যাপক আছেন। আবার অনেকের গবেষণা ২ হাজার সাইটেশনও আছে। কিন্তু এই সংখ্যাটা খুব কম। গবেষণার মানের উপর সাইটেশন নির্ভর করে।”
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় আছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো।
তালিকায় ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে পাকিস্তানের। ওয়ার্ল্ড কিউএস র্যাংকিংয়ে ৩৮১ তম অবস্থানে থেকে কায়েদ-এ আজম বিশ্ববিদ্যালয় আছে দেশটির প্রথম স্থানে। আরও ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে তালিকার প্রথম ১ হাজারে।
র্যাংকিংয়ে প্রথম ৫০০ এর মধ্যে আছে ভারতের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে আইআইটি’র (দিল্লি) অবস্থান ১১৮ তম। ৫০১ থেকে ১ হাজারের মধ্যে আরও ২৬টি নিয়ে এই তালিকায় স্থান পেয়েছে ভারতের মোট ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়।