রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব 

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সাইড ইভেন্টে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় তারেক রহমান বলেন, ১২ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল বহন করতে পারে না। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই এই সংকটের অবসান ঘটতে পারে।

বক্তব্যে তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ''অতীতে তাদের দূরদর্শী নেতৃত্বেই সফলভাবে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিলো।"

২০১৭ সালের সহিংসতার পর রোহিঙ্গা সংকট এখন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানবিকতার তাগিদে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক চাপ তৈরি করছে।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালে তা কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনতে হয়েছে। মানবিক সহায়তার এই ঘাটতি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে, দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করার কথা জানান।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করে নিজ জমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল মানবিক তহবিল নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থ প্রস্তাবে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান জবাবদিহিমূলক বিচারপ্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থন এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। 

আর পঞ্চম প্রস্তাবে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও ডিজিটাল প্রতারণার মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে নিশ্চিত করি, রোহিঙ্গাদের ভাগ্য যেন নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির আরেকটি গল্প হয়ে না থাকে। বরং তা হয়ে উঠুক ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আশার গল্প। আর এই গল্পের সূচনা হোক এখনই।’

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বাংলায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।