হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শিক্ষকদের শাস্তি, এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ পিএমআপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৪৪ জন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ছবি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া কিংবা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের উচিত অতীতের দমন-পীড়নের পুনরাবৃত্তি না করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।”
সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত ও পাঠদানে নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, পরীক্ষার সনদ আটকে রাখা ও ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ব্যবস্থার পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের সহিংসতায় জড়িত থাকা, দলটির পক্ষে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কর্মকাণ্ড এবং ‘ইসলামি পোশাক’ পরা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৪৪ জন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আরও ২৫ জনের পাঠদানের দায়িত্ব সীমিত করা হয়। পরে ছয় শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আরও ৩৪ জনের পদাবনতি বা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আরও ১০ জনকে। এ ছাড়া ৮৫ জন শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সংস্থাটি বিবৃতিতে বলছে, ২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১২৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। একইসঙ্গে তাদের পরীক্ষার সনদও আটকে রাখা হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরও ২৭৭ আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার কথা জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। অভিযোগ অস্বীকার করা অনেক শিক্ষার্থীকে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সংস্থাটি এক ডজনের বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি এবং ভিডিও পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে টেলিভিশন আলোচনায় ছাত্র আন্দোলনকে ‘অবৈধ, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক’ বলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এইচআরডব্লিউ পর্যালোচিত ভিডিওতে এমন বক্তব্যের প্রমাণ পায়নি। ২০২৬ সালের ৩১এ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে। তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পূরবা ইসলাম ও ইয়াহিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগপন্থি মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইয়াহিয়া খন্দকারের বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৬ সালের অগাস্টে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগপন্থি একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষককে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাবের শিকার। ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং বিরোধী দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
“আগের সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে সমর্থন করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত নয় বলে প্রমাণিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত এমন জায়গা, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে”, বলেন মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।
হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শিক্ষকদের শাস্তি, এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া কিংবা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের উচিত অতীতের দমন-পীড়নের পুনরাবৃত্তি না করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।”
সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত ও পাঠদানে নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, পরীক্ষার সনদ আটকে রাখা ও ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ব্যবস্থার পেছনে আওয়ামী লীগ সরকারের সহিংসতায় জড়িত থাকা, দলটির পক্ষে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কর্মকাণ্ড এবং ‘ইসলামি পোশাক’ পরা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৪৪ জন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আরও ২৫ জনের পাঠদানের দায়িত্ব সীমিত করা হয়। পরে ছয় শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আরও ৩৪ জনের পদাবনতি বা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আরও ১০ জনকে। এ ছাড়া ৮৫ জন শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সংস্থাটি বিবৃতিতে বলছে, ২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১২৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। একইসঙ্গে তাদের পরীক্ষার সনদও আটকে রাখা হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরও ২৭৭ আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলার কথা জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। অভিযোগ অস্বীকার করা অনেক শিক্ষার্থীকে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সংস্থাটি এক ডজনের বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি এবং ভিডিও পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে টেলিভিশন আলোচনায় ছাত্র আন্দোলনকে ‘অবৈধ, ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক’ বলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এইচআরডব্লিউ পর্যালোচিত ভিডিওতে এমন বক্তব্যের প্রমাণ পায়নি। ২০২৬ সালের ৩১এ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে। তিনি এর বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পূরবা ইসলাম ও ইয়াহিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগপন্থি মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইয়াহিয়া খন্দকারের বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৬ সালের অগাস্টে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগপন্থি একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ জন শিক্ষককে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলছে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রভাবের শিকার। ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং বিরোধী দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চর্চা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
“আগের সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে সমর্থন করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত নয় বলে প্রমাণিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত এমন জায়গা, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে”, বলেন মীনাক্ষী গাঙ্গুলি।
বিষয়: