পদ্মা-মেঘনা ছেড়ে কেন নর্মদায় যাচ্ছে ইলিশের ঝাঁক

ইলিশের দেশ বাংলাদেশ, অথচ বাজার সয়লাব হয়ে গিয়েছিলো ভারতীয় ইলিশে। গত এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৩১ গুণ। যখন পদ্মা, মেঘনায় ইলিশের উপস্থিতি কমছে, ঠিক সেই সময়ে ভারতের নর্মদায় বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। কেন বদলে যাচ্ছে ইলিশের এই চেনা চিত্র?

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ এএম

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এলেই একসময় বাংলাদেশের ইলিশ নিয়ে ভারতের বাজারে তৈরি হতো আলাদা আগ্রহ। দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে কত টন ইলিশ ভারতে যাবে, তা নিয়ে চলত আলোচনা। সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। গত দুই বছরে উল্টো ভারত থেকেই বাংলাদেশে এসেছে ইলিশ।

ঢাকার রায়ের বাজারের একটি মাছের দোকানে সম্প্রতি ভারতীয় ইলিশ দেখে এমনই বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন এক ক্রেতা। বিক্রেতা জানালেন, মাছগুলো ভারত থেকে এসেছে এবং দেশি ইলিশের তুলনায় দামও কম। ক্রেতার অবাক হওয়ার কারণও স্পষ্ট। ছোটোবেলা থেকে তিনি শুনে এসেছেন, দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ যায়।

ইলিশের দেশ বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের এই দৃশ্য এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তবে ২৩এ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। মৎস্য অধিদপ্তর আমদানির জন্য দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি বাতিল করেছে।

হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কয়েকটি কারণের কথা বলছেন।

এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি, আমদানিতে কম মূল্য দেখিয়ে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা এবং দেশি ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়। এগুলো অবশ্য সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সরকারের ঘোষিত কারণ নয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো। ২৩এ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এসেছে ৫৩৫ টন।

অর্থাৎ, দেশের ইলিশের সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে যে আমদানি শুরু হয়েছিল, সেই পথও এখন বন্ধ। তাতে কি আরেক দফা বাড়বে ইলিশের দাম?

কিন্তু আমদানি-রপ্তানির হিসাবের আড়ালে আরও বড় একটি প্রশ্ন আছে, বাংলাদেশে ইলিশের সরবরাহ কমছে কেন?

উপহারের মোড়কে ইলিশ রপ্তানি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশ বাণিজ্যের ইতিহাস নতুন নয়। ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয় ১৯৯৬ সালে।

বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ গেছে।

অ্যাসোসিয়েশনটির হিসাবে, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করত।

২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে উপহারের মোড়কে বিশেষ অনুমতিতে আবার রপ্তানি শুরু হয়।
তবে রপ্তানির অনুমতি আর বাস্তবে রপ্তানির পরিমাণের মধ্যে বরাবরই পার্থক্য ছিলো অনেক।

ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি আর বাস্তবে রপ্তানির পরিমাণের মধ্যে বরাবরই পার্থক্য অনেক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও বাস্তবে রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন।

২০২২ সালে অনুমতি ছিলো ২ হাজার ৯০০ টনের, রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের অনুমোতির বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন।

আর ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টনের অনুমতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভারতে যায় মাত্র ৫৭৭ টন।

ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মতে, দেশের বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি থাকা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে অনুমোদিত পুরো পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতে ইলিশের এক আমদানি ও রপ্তানিকারক আলাপ-কে বলেন, “গত বছর ১০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত রপ্তানি করতে পেরেছি মাত্র ৩০ টন। এবার আমদানি করছি। এখন পর্যন্ত বেশ।”

অর্থাৎ, একসময় ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা থাকলেও দেশের বাজারের চাহিদাই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছিলো। এরপরই বদলে যায় বাণিজ্যের দিক।

এক বছরেই আমদানি বেড়েছে ৩১ গুণ

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি এবার শোরগোল ফেলে দিলেও এনবিআরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছিলো গতবছরই।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি শুরু হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে আমদানি হয় ১৭ দশমিক ৮৫ টন বা ১৭ হাজার ৮৫০ কেজি।

কিন্তু চলতি বছর ইলিশ আমদানির পালে বড় হাওয়া লাগে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ইলিশের আমদানি বাড়তে থাকে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসের পরিদর্শক মো. আস-ওয়াদুল আলম আলাপ-কে বলেন, “১লা জুলাই থেকে ২২এ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৫৫৩ টন বা ৫ লাখ ৫৩ হাজার কেজি ইলিশ। বাংলাদেশের ২০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই আমদানি করেছে।”

তার দেওয়া এই হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩১ গুণ।

এর পেছনে দামকেই প্রধান কারণ হিসাবে মনে করছেন আমদানিকারকরা।

আমদানিকারকের হিসাবে, ভারত থেকে ১ থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বাংলাদেশে আনতে সব খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা লাগে।

একই আকারের দেশি ইলিশের দাম স্থানীয় বাজারে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে।

তবে আস-ওয়াদুল আলম জানালেন ভারত থেকে আসা ইলিশের আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক অনেক কম।

৫৫৩ টন ইলিশের মোট আমদানি মূল্য ৯ লাখ ১০ হাজার ৮৪৯ ডলার ছিলো বলে আলাপ-কে জানিয়েছেন তিনি।

ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা হিসাবে এর মূল্য প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজির মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ২০২ টাকা ৪০ পয়সা।

তবে এটি আমদানি মূল্য। এর সঙ্গে শুল্ক-কর, পরিবহন, সংরক্ষণ, শ্রম, ব্যবসায়ীর অন্যান্য খরচ ও মুনাফা যুক্ত হয়ে খুচরা বাজারে দাম হিসাব করলে আরও কিছুটা বাড়বে সেই দাম।

আর এখানেই তৈরি হয়েছে আরেক ধরনের অভিযোগ। ভারতীয় ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রির অভিযোগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যশোরের বড়বাজারে অভিযান চালায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় এক আড়তদারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইলিশ আসছে, কিন্তু কেন?

বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদনের চিত্র দেখলে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির আরেকটি কারণ উঠে আসে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরকারি হিসাবে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

অর্থাৎ, তিন বছরের ব্যবধানে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন কমেছে প্রায় ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বা প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ কেজি।

শেষ তিন বছরের ধারাবাহিকভাবে কমছে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন।

তবে এই পতনকে শুধু একটি কারণে ব্যাখ্যা করা যায় না। ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। জীবনের বড় সময় সাগরে কাটিয়ে প্রজননের জন্য নদীর মিঠা পানির দিকে আসে। তাই সাগর, নদী, পানির তাপমাত্রা, স্রোত, গভীরতা এবং চলাচলের পথ সবকিছুই তার জীবনচক্রের সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশে নদীর প্রবাহ পরিবর্তন, পলি জমে ডুবোচর তৈরি, নাব্যতা কমে যাওয়া, নদীপথ সংকুচিত হওয়া, দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরা, অবৈধ জাল, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন বিষয় ইলিশের প্রজনন ও চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের পানির পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়।

গবেষণায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগের সময়ের তুলনায় পানির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাটিতে ওই এলাকায় তিন বছরে ইলিশ আহরণ ৪৫ শতাংশ কমার কথাও বলা হয়েছে।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক খোরশেদ আলমের মতে, “কয়লা পরিবহনের জাহাজ, তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি, কয়লার ছাই ও তরল বর্জ্য ইলিশের প্রজনন এবং খাদ্যভিত্তিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।”

নর্মদায় কেন বাড়ছে ইলিশ?

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমার একই সময়ে ভারতের গুজরাটের নর্মদা নদীর মোহনায় ইলিশের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের এনডিটিভির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং অনুকূল বর্ষার কারণে গুজরাটের ভারুচের কাছে নর্মদা নদীর মোহনায় ইলিশের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গুজরাটের সরকারি উৎপাদন পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক ওঠানামা দেখা যায়।

২০২২–২৩ সালে সেখানে ইলিশ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ১৯৯ টন। ২০২৩–২৪ সালে তা কমে ৮ হাজার ২০৯ টনে নামে। ২০২৪–২৫ সালে উৎপাদন হয় ৮ হাজার ৫৩৬ টন। ২০২৫–২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫৮৮ টন।

নদী বা ইনল্যান্ড উৎপাদনের পরিবর্তন আরও বেশি চোখে পড়ে।

২০২৪–২৫ সালে গুজরাটে ইনল্যান্ড ইলিশ উৎপাদন ছিল ১২৩ দশমিক ৬২ টন। পরের বছর তা বেড়ে ৪ হাজার ৬৪৫ দশমিক ৯৯ টনে দাঁড়ায়।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। বাংলাদেশের ইলিশ কমেছে আর সেই ইলিশই নর্মদায় গিয়ে উৎপাদন বাড়িয়েছে এটা বলা যাচ্ছে না।

বরং ইলিশের পরিযায়ী স্বভাবের কারণে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে নদী, সাগর, পানির তাপমাত্রা, প্রবাহ এবং প্রজননস্থলের পরিবর্তন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভারতের গঙ্গা-হুগলি অববাহিকা একসময় ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন এলাকার মধ্যে ছিল। ফারাক্কা ব্যারাজ, নদীতে বাড়তে থাকা নির্মাণ, নদীর গভীরতার পরিবর্তন, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় ঐতিহ্যগত চলাচল ও প্রজনন এলাকায় প্রভাব ফেলেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

অর্থাৎ, ইলিশ কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর শুধু মাছের বাজারে নেই। এর উত্তর খুঁজতে হলে দেখতে হবে নদী ও সাগরের পরিবেশে কী পরিবর্তন হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য।

দেশের নদীগুলোতে ইলিশের চলাচলের পথ কতটা খোলা আছে, নদীর গভীরতা ও স্রোত কেমন, প্রজনন এলাকায় পানির তাপমাত্রা কীভাবে বদলাচ্ছে, দূষণের মাত্রা কতটা? এসব প্রশ্ন এখন ইলিশের ভবিষ্যৎ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আমদানি বন্ধ, কিন্তু প্রশ্নটা রয়ে গেলো নদীতেই

একদিকে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছিলো।

তবে ২৩এ সেপ্টেম্বর সেই আমদানির পথও বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। মৎস্য অধিদপ্তর বাতিল করেছে ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি।

অর্থাৎ, একসময় যে বাংলাদেশ ভারতকে ইলিশ দিতো, সেই বাংলাদেশেই এখন ভারতীয় ইলিশ ঢোকার প্রয়োজন তৈরি হয়েছিলো আবার সেই আমদানিও বন্ধ হয়ে গেলো।
কিন্তু আমদানি বন্ধ করলেই কি দেশের ইলিশের ঘাটতি মিটবে? সেখানেই আসল প্রশ্ন।

কারণ ভারতের গুজরাটের নর্মদা এলাকায় ইলিশের উৎপাদন ও উপস্থিতি বাড়ার খবরের পাশাপাশি বাংলাদেশে ইলিশ কমার চিত্রও সামনে আসছে। এই দুই ঘটনাকে সরাসরি কারণ বা ফল বলা যাবে না। তবে দুটিই মনে করিয়ে দিচ্ছে, ইলিশের ভবিষ্যৎ শুধু বাজারের চাহিদা বা আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভর করছে না।

ইলিশ পরিযায়ী মাছ। তাই নদীর গভীরতা, পানির প্রবাহ, তাপমাত্রা, দূষণ, প্রজননক্ষেত্র এবং সাগর থেকে নদীতে আসার পথ- সবই গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত তাই সাময়িকভাবে বাজারের হিসাব বদলাতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নদী ও সাগরকে আবার কতটা ইলিশবান্ধব করে তোলা যাবে? আর সেটা হবে কীভাবে?