ডারউইনে যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিলো, সেই বাংলাদেশকেই মাত্র দুই দিনে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া। মেকেতে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ইনিংস ও ৫১ রানে।
আলাপ স্পোর্টস
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩১ পিএমআপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০১ পিএম
বাংলাদেশকেই মাত্র দুই দিনে উড়িয়ে দিয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করলো অস্ট্রেলিয়া।
ডারউইনে যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিলো, সেই বাংলাদেশকেই মাত্র দুই দিনে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া।
মেকেতে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ইনিংস এসেছে ও ৫১ রানে।
আর এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক একজননই। বল হাতে মিচেল স্টার্ক।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে নয় উইকেটে হেরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। আর সেই জবাবটা তারা দিয়েছে একেবারে বোলিংয়ের ঝড়ে।
টস জিতে এবার আর ব্যাটিংয়ের ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান তিনি।
এরপর শুরু হয় স্টার্ক শো!
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০ ওভার বল করেই ছয় উইকেট। আর ৬ উইকেটের পেছনে খরচ করেছেন মাত্র ১২ রান।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ৬৪ রানে। আর এই ৬৪ রান ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদের শুরু।
তবে অস্ট্রেলিয়াও যে খুব স্বস্তিতে ছিলো, তা নয়।
বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম দেখিয়ে দেন, মেকের পিচ শুধু অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের জন্য নয়, বাংলাদেশের পেসারদের জন্যও কার্যকর।
প্রথম দিনেই শরিফুল নেন ৬ উইকেট। পরের দিন আরও একটি উইকেট নিয়ে টেস্টে ৭ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ৭ উইকেটের পেছনে খরচ ৪৮ রান।
টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের এটাই সেরা বোলিং ফিগার।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেও তাই ধস নামে। এক পর্যায়ে মাত্র তিন রানের মধ্যে চার উইকেট হারায় তারা।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে ম্যাচ পুরোপুরি বেরিয়ে যেতে দেননি ক্যামেরন গ্রিন। গ্রিন করেন ৬৭ রান।
আর শেষ দিকে নাথান লায়নের গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে যায় ২১০ রানে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৪৬ রান বেশি। এই লিডটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও বাংলাদেশের গল্প বদলায়নি।
আবার সামনে সেই মিচেল স্টার্ক।
শাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু। এরপর মুমিনুল হককে বোল্ড। মাত্র দুই বলে দুই উইকেট।
তানজিদ হাসানকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন প্যাট কামিন্স।
বাংলাদেশ তখন আবারও চাপে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য চেষ্টা করেছেন। পাল্টা আক্রমণ করে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে লড়াইয়ের বার্তা দেন। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও থামে মাত্র ৯৫ রানে।
আর তাতেই ইনিংস ও ৫১ রানের জয় অস্ট্রেলিয়ার।
বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে রান মাত্র ১৫৯। অর্থাৎ দুই ইনিংস মিলিয়েও অস্ট্রেলিয়ার এক ইনিংসের ২১০ রান স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ।
আর সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যান?
টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশ দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো।
মিচেল স্টার্কের মোট শিকার ১০ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেটে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৩৯ রান।
ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে তার হাতে উঠেছে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরষ্কারও।
এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে স্টার্ক টেস্ট ক্রিকেটের সেরা উইকেটশিকারিদের অভিজাত তালিকাতেও উঠে এসেছেন।
ম্যাচ শেষে স্টার্ক বললেন, প্রথম টেস্ট হারের পর তারা জানতেন শক্তভাবে ফিরে আসতে হবে।
মেকের উইকেট নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, উইকেটটিতে গতি ও বাউন্স ছিল, অনেকটা গ্যাবার মতো অনুভূতি হয়েছে, আর এমন কন্ডিশনে বল করতে তিনি উপভোগ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দলের পারফরম্যান্সে খুশি। তার মতে, প্রথম সেশনটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। দ্রুত কয়েকটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেওয়াই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
আর ক্যামেরন গ্রিনের জন্যও সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ। ডারউইনে সেঞ্চুরির পর মেকেতে ৬৭।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং যখন বারবার ধসে পড়ছিল, তখন গ্রিনই দুই ইনিংসে দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন।
নাথান লায়নও বললেন, ম্যাচের আগে ব্রিসবেনে তাদের প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। ম্যাচ সিমুলেশন থেকে শুরু করে প্রস্তুতির প্রতিটি দিক তারা গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছিলেন।
আর ব্যাট হাতে ৩২ রান করার পাশাপাশি শেষ দিকে বল হাতে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার গুটিয়ে দেওয়ার কাজটাও করেন লায়ন।
চায়ের বিরতির পর মাত্র তিন বলের মধ্যে বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিনিই ম্যাচ শেষ করেন।
অন্যদিকে জশ হ্যাজলউডও মেকের কন্ডিশন উপভোগ করেছেন। তার মতে, বাতাসও অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সাহায্য করেছে এবং উইকেটের বাউন্স ছিল দারুণ।
তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কথাতেও ছিল হতাশার পাশাপাশি বাস্তবতা। তিনি স্বীকার করেছেন, ব্যাট হাতে বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। মেকের বাড়তি বাউন্স ও সুইং তাদের জন্য কঠিন ছিল।
তবে শান্ত সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের পেসারদের। কারণ শরিফুল, তাসকিন, হাসানদের নিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর, এই সিরিজ সেটাই আবার দেখিয়েছে।
আর শান্ত মনে করিয়ে দিয়েছেন আরও একটি বিষয়। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলছে ২৩ বছর পর। মাত্র দুইটি টেস্ট দিয়ে এমন কন্ডিশনের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া কঠিন।
তাই ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি টেস্ট খেলার প্রয়োজন আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত সিরিজের হিসাব দাঁড়াল ১-১।
ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।
মেকেতে অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন।
একদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে তাদের পেস আক্রমণ নিয়ে নতুন আশার জায়গা।
আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য?
ডারউইনের ধাক্কার জবাব তারা দিয়েছে একেবারে স্টার্কের গতিতে! মাত্র দুই দিনে টেস্ট শেষ করে।
কিন্তু এই দুই ম্যাচের গল্প একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে- বাংলাদেশকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ ডারউইনের বাংলাদেশ আর মেকের বাংলাদেশ দুই রূপই এই সিরিজে ক্রিকেটবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে শান্তরা।
দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ
ডারউইনে যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিলো, সেই বাংলাদেশকেই মাত্র দুই দিনে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া। মেকেতে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ইনিংস ও ৫১ রানে।
ডারউইনে যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছিলো, সেই বাংলাদেশকেই মাত্র দুই দিনে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া।
মেকেতে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ইনিংস এসেছে ও ৫১ রানে।
আর এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক একজননই। বল হাতে মিচেল স্টার্ক।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে নয় উইকেটে হেরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। আর সেই জবাবটা তারা দিয়েছে একেবারে বোলিংয়ের ঝড়ে।
টস জিতে এবার আর ব্যাটিংয়ের ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান তিনি।
এরপর শুরু হয় স্টার্ক শো!
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০ ওভার বল করেই ছয় উইকেট। আর ৬ উইকেটের পেছনে খরচ করেছেন মাত্র ১২ রান।
বাংলাদেশ একসময় ১২ রানে হারিয়ে ফেলেছিলো ৫ উইকেট।
শাদমান ইসলাম, মুমিনুল হকসহ বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে কার্যত দাঁড়াতেই দেননি স্টার্ক।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলআউট হয় মাত্র ৬৪ রানে। আর এই ৬৪ রান ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় বিপদের শুরু।
তবে অস্ট্রেলিয়াও যে খুব স্বস্তিতে ছিলো, তা নয়।
বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম দেখিয়ে দেন, মেকের পিচ শুধু অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের জন্য নয়, বাংলাদেশের পেসারদের জন্যও কার্যকর।
প্রথম দিনেই শরিফুল নেন ৬ উইকেট। পরের দিন আরও একটি উইকেট নিয়ে টেস্টে ৭ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ৭ উইকেটের পেছনে খরচ ৪৮ রান।
টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসারের এটাই সেরা বোলিং ফিগার।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেও তাই ধস নামে। এক পর্যায়ে মাত্র তিন রানের মধ্যে চার উইকেট হারায় তারা।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে ম্যাচ পুরোপুরি বেরিয়ে যেতে দেননি ক্যামেরন গ্রিন। গ্রিন করেন ৬৭ রান।
আর শেষ দিকে নাথান লায়নের গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে যায় ২১০ রানে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৪৬ রান বেশি। এই লিডটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও বাংলাদেশের গল্প বদলায়নি।
আবার সামনে সেই মিচেল স্টার্ক।
শাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে শুরু। এরপর মুমিনুল হককে বোল্ড। মাত্র দুই বলে দুই উইকেট।
তানজিদ হাসানকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন প্যাট কামিন্স।
বাংলাদেশ তখন আবারও চাপে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য চেষ্টা করেছেন। পাল্টা আক্রমণ করে কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে লড়াইয়ের বার্তা দেন। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও থামে মাত্র ৯৫ রানে।
আর তাতেই ইনিংস ও ৫১ রানের জয় অস্ট্রেলিয়ার।
বাংলাদেশের দুই ইনিংস মিলিয়ে রান মাত্র ১৫৯। অর্থাৎ দুই ইনিংস মিলিয়েও অস্ট্রেলিয়ার এক ইনিংসের ২১০ রান স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ।
আর সবচেয়ে বড় পরিসংখ্যান?
টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম বাংলাদেশ দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো।
মিচেল স্টার্কের মোট শিকার ১০ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেটে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৩৯ রান।
ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে তার হাতে উঠেছে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরষ্কারও।
এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে স্টার্ক টেস্ট ক্রিকেটের সেরা উইকেটশিকারিদের অভিজাত তালিকাতেও উঠে এসেছেন।
ম্যাচ শেষে স্টার্ক বললেন, প্রথম টেস্ট হারের পর তারা জানতেন শক্তভাবে ফিরে আসতে হবে।
মেকের উইকেট নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, উইকেটটিতে গতি ও বাউন্স ছিল, অনেকটা গ্যাবার মতো অনুভূতি হয়েছে, আর এমন কন্ডিশনে বল করতে তিনি উপভোগ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দলের পারফরম্যান্সে খুশি। তার মতে, প্রথম সেশনটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। দ্রুত কয়েকটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেওয়াই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
আর ক্যামেরন গ্রিনের জন্যও সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ। ডারউইনে সেঞ্চুরির পর মেকেতে ৬৭।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং যখন বারবার ধসে পড়ছিল, তখন গ্রিনই দুই ইনিংসে দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন।
নাথান লায়নও বললেন, ম্যাচের আগে ব্রিসবেনে তাদের প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। ম্যাচ সিমুলেশন থেকে শুরু করে প্রস্তুতির প্রতিটি দিক তারা গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছিলেন।
আর ব্যাট হাতে ৩২ রান করার পাশাপাশি শেষ দিকে বল হাতে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার গুটিয়ে দেওয়ার কাজটাও করেন লায়ন।
চায়ের বিরতির পর মাত্র তিন বলের মধ্যে বাংলাদেশের শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিনিই ম্যাচ শেষ করেন।
অন্যদিকে জশ হ্যাজলউডও মেকের কন্ডিশন উপভোগ করেছেন। তার মতে, বাতাসও অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সাহায্য করেছে এবং উইকেটের বাউন্স ছিল দারুণ।
তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কথাতেও ছিল হতাশার পাশাপাশি বাস্তবতা। তিনি স্বীকার করেছেন, ব্যাট হাতে বাংলাদেশ প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। মেকের বাড়তি বাউন্স ও সুইং তাদের জন্য কঠিন ছিল।
তবে শান্ত সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের পেসারদের। কারণ শরিফুল, তাসকিন, হাসানদের নিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর, এই সিরিজ সেটাই আবার দেখিয়েছে।
আর শান্ত মনে করিয়ে দিয়েছেন আরও একটি বিষয়। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় খেলছে ২৩ বছর পর। মাত্র দুইটি টেস্ট দিয়ে এমন কন্ডিশনের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া কঠিন।
তাই ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি টেস্ট খেলার প্রয়োজন আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত সিরিজের হিসাব দাঁড়াল ১-১।
ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়।
মেকেতে অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন।
একদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে তাদের পেস আক্রমণ নিয়ে নতুন আশার জায়গা।
আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য?
ডারউইনের ধাক্কার জবাব তারা দিয়েছে একেবারে স্টার্কের গতিতে! মাত্র দুই দিনে টেস্ট শেষ করে।
কিন্তু এই দুই ম্যাচের গল্প একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে- বাংলাদেশকে আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ ডারউইনের বাংলাদেশ আর মেকের বাংলাদেশ দুই রূপই এই সিরিজে ক্রিকেটবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে শান্তরা।
বিষয়: