মাত্র ৯১ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, অভিষেক শর্মার ঝড়

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের ওপেনার অভিষেক শর্মা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ব্যর্থতার মাঝেই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। জেলা পর্যায়ের এক ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ৯১ বলে ২৩৩ রান করে নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ঝলক আবারও দেখালেন তিনি।

অমৃতসর মেন সিনিয়রের হয়ে তারন তারন মেন সিনিয়রের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই ১৫টি চার ও ২৫টি ছক্কা হাঁকান। তার স্ট্রাইক রেট ছিলো ২৫৬ দশমিক ০৪। তার দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করে অমৃতসর ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ৫৩৩ রান।

শেষ পর্যন্ত আশিস লওরেন্সের বলে অনিকেত সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন অভিষেক। ওপেনিংয়ে অভয় চৌধুরীও ৮৫ বলে ৯৩ রান করেন। পরে অভিনব শর্মা ৫১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কঠিন সময়

ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ঝড়ো ইনিংস এলো এমন সময়ে, যখন ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না অভিষেকের।

সর্বশেষ ছয়টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ১০, ১৬, ৩, ১, ৮ ও ২। এই সময়ে তিনি মাত্র একটি অর্ধশতক করতে পেরেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শেষে নিজের হতাশার কথা সামাজিক মাধ্যমেও জানিয়েছিলেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে অভিষেক লিখেছিলেন, “এটা কষ্ট দেয়, যখন আপনি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পারেন না। তবে ক্রিকেট সবসময় তাদেরই পুরস্কৃত করে, যারা চেষ্টা চালিয়ে যায়। দল জিতেছে, এতে আমি খুশি। আরও শক্তভাবে ফিরবো।”

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সময়টা ভালো কাটেনি তার। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ফিফটি করেন, গড় ছিলো ১৮-এর নিচে এবং তিনবার শূন্য রানে আউট হন।

সমালোচনা ও দলে জায়গা নিয়ে চাপ

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত মনে করেন, আন্তর্জাতিক বোলাররা এখন অভিষেকের দুর্বলতা বুঝে ফেলেছেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ থেকেই আন্তর্জাতিক বোলাররা অভিষেককে বুঝে ফেলেছে। এখন নির্বাচকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ভবিষ্যতে সে অবশ্যই ফিরতে পারে, কিন্তু আপাতত কঠিন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।”

এদিকে তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হওয়া সঞ্জু স্যামসনের উপস্থিতি ভারতের ওপেনিং পজিশনের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলেছে।

ভারতের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সূচিতে রয়েছে সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমস এবং অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ। তার আগে নিজেকে আবারও প্রমাণ করার জন্য অভিষেকের হাতে রয়েছে প্রায় দুই মাস।

বড় ইনিংস, কিন্তু আসল পরীক্ষা এখনও বাকি

২৩৩ রানের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে অভিষেকের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তবে জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে বড় রান করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ একেবারেই ভিন্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বোলাররা যদি সত্যিই তার বিপক্ষে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করে থাকে, তাহলে শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করলেই হবে না। সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকতে হলে নিজের ব্যাটিং কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হবে।

তবুও এই ইনিংস অভিষেকের জন্য ইতিবাচক বার্তা। এটি হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া ছন্দ ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে জাতীয় দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে হলে আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের বোলিংয়ের বিপক্ষেও ধারাবাহিক রান করতেই হবে।