ডারউইন থেকে উড়তে থাকা বাংলাদেশ নামলো ম্যাকাইয়ের মাটিতে
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ২য় টেস্ট
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৬৪ অলআউট।
আলাপ স্পোর্টস
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পিএমআপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
“দিস ইজ টিপিক্যাল গ্যাবা উইকেট!”
বাংলাদেশের ইনিংসে তখন টেলএন্ডারদের প্রাণান্তকর লড়াই চলছে, এসময় কমেন্ট্রি থেকে ভেসে এলো এই কথাটা।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গ্যাবাকে বলা হয় পেসারদের স্বর্গরাজ্য, সরাসরি সেই গ্যাবার মাটি থেকেই তৈরি করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হওয়া কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পিচ।
আর সেই পিচেই টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্টার্কের আগুনে গোলার সামনে পড়েছেন সাদমান, তামিম, শান্তরা। এই তিন জনের নাম বলার কারণ হলো টেস্টে এক ইনিংসে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির গড়েছেন তারা।
ডারউইন থেকেই তেতে থাকা যে লোকটিকে নিয়ে শংকা ছিল, তিনিই ঘাতক। মিচেল স্টার্ক। সাদমান ও শান্ত গোল্ডেন ডাক, তার তামিম টিকতে পারলেন মোটে ২ বল। ফলাফল, পয়লা ইনিংসের তিন ওভার যেতে না যেতেই তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ড্রেসিং রুমে ফেরত।
এমন অবস্থায় উইকেটে এসে স্টার্কের হ্যাটট্রিক হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু অন্যপ্রান্তে নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি মুমিনুল ও লিটন। এর মাঝে মুমিনুল তাও রানের খাতা খুললেও, লিটন দলের ইনিংসে আরো একটা শূন্য যোগ করেন।
বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড তখন বিলাপ করে কাঁদছে—১২/৫! ভয়ংকর হয়ে ওঠা স্টার্কের বোলিং ফিগার তখন ৪ ওভার ৩ মেডেন ৪ রানে ৫ উইকেট। ডেল স্টেইনকে টপকে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকার শীর্ষ দশে উঠে এলেন ৩৬ বছর বয়সী এই বাহাতি পেসার।
এরপরে আসলে ঐ টেলএন্ডারদের লড়াই ছাড়া আর কিছু থাকে না। আর তখনই কমেন্টেটের বললেন ‘টিপিক্যাল গ্যাবা’য় প্রথম ঘন্টাটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং, শুরুর এই পেস আর বাউন্স সামলে নিতে পারলে পরে ব্যাট করাটা সহজ হয়ে যায়। হয়েছেও তাই। তাইতো স্কোরকার্ড বলছে আজ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান শরীফুল, রান সংখ্যা ১৪! বুঝতেই পারছেন কি দুরাবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং আজ। ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিটাও দশম উইকেটে শরীফুলের সাথে তাইজুলের।
কিন্তু বাংলাদেশের ইনিংসের দফারফা ওই প্রথম ঘন্টাতেই হয়ে গিয়েছে। আর সেটা শুধু স্টার্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্যই নয়। বরং ম্যাকাইয়ের এই নতুন গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনায় অজি পেসারদের সামলানোর জন্য যেন একেবারে প্রস্তুতিই ছিল না বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের।
উইকেটে ঘাস, সাথে বাতাসও আছে। আর স্টার্ক যে এমন বল করবেন, সেতো সিলেবাসের বাইরে ছিল না। কিন্তু এই জানা কথার উত্তর ছিল না শান্তর দলের কাছে।
প্রথম বলটা যেমন সাদমান একেবারে বুঝতেই পারলেন না কী হলো! ততক্ষণে সর্পিল বাঁক নিয়ে তার ব্যাটের কানা ছুয়ে বল স্লিপ ফিল্ডারের হাতে ঠিকঠাক জমাও পড়ে গেছে। এ নিয়ে চতুর্থবার টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নিলেন স্টার্ক, আর প্রথম ওভারের হিসেব ধরলে সবচেয়ে বেশি ৯ বার এমন কৃতিত্ব গড়লেন তিনি।
অধিনায়ক শান্ত নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনা তাকে এলবিডব্লিউ দিলেও রিভিউতে দেখা গেল সেটা প্রায় লেগ স্টাম্প মিস করে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মুমিনুল? তিনি যেন তানজিদ তামিমের আউটের কপি পেস্ট করলেন।
২য় সর্বোচ্চ ৪২ বল খেলে কামিন্সের সোজা বল ঠেকাতে ব্যর্থ মুশফিক, তার ব্যাট আর প্যাড গলে ভেঙে দিলো স্টাম্প।
লিটন দাস তো জীবন পেয়েছিলেন। কিন্তু পরের বলেই সাজঘরে। শেষ পর্যন্ত ডাবল ডিজিটে গিয়েছেন মিরাজ, তাইজুল, হাসান মাহমুদরা। আর টেল এন্ডে তাদের লড়াইয়েই শেষ পর্যন্ত বড় লজ্জা থেকে পার পেয়েছে সফরকারীরা।
২১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মনে হচ্ছিল ৭০ বছর ধরে টিকে থাকা টেস্টে সর্বনিম্ন রানের যে রেকর্ড, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ২৬—আজই বুঝি তার শেষ হয়ে যায়। শেষটায় শেষের দিকের লোকজন, মানে টেল এন্ডাররাই এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিলেন।
আবার এই অস্ট্রেলিয়ার সাথেই তো গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭ আর তার আগে ভারতের ৩৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনা মোটামুটি টাটকা। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রান পেরিয়ে থেমেছে ৬৪ রানে। এটি টেস্টে বাংলাদেশের ৪র্থ সর্বনিম্ন স্কোর।
এখন ডারউইনে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশের হঠাৎ ম্যাকাইতে এসে কী হলো? এটার উত্তর হয়তো আগামী কয়েকদিনে পাওয়া যাবে। তবে এভাবেই চললে ৫ দিনের টেস্ট শেষতক কয়দিনে গড়ায়, সেই প্রশ্নটা সকাল সকালই কঠোর বাস্তবতা বটে!
ডারউইন থেকে উড়তে থাকা বাংলাদেশ নামলো ম্যাকাইয়ের মাটিতে
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ২য় টেস্ট
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ৬৪ অলআউট।
“দিস ইজ টিপিক্যাল গ্যাবা উইকেট!”
বাংলাদেশের ইনিংসে তখন টেলএন্ডারদের প্রাণান্তকর লড়াই চলছে, এসময় কমেন্ট্রি থেকে ভেসে এলো এই কথাটা।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের গ্যাবাকে বলা হয় পেসারদের স্বর্গরাজ্য, সরাসরি সেই গ্যাবার মাটি থেকেই তৈরি করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হওয়া কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পিচ।
আর সেই পিচেই টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে স্টার্কের আগুনে গোলার সামনে পড়েছেন সাদমান, তামিম, শান্তরা। এই তিন জনের নাম বলার কারণ হলো টেস্টে এক ইনিংসে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির গড়েছেন তারা।
ডারউইন থেকেই তেতে থাকা যে লোকটিকে নিয়ে শংকা ছিল, তিনিই ঘাতক। মিচেল স্টার্ক। সাদমান ও শান্ত গোল্ডেন ডাক, তার তামিম টিকতে পারলেন মোটে ২ বল। ফলাফল, পয়লা ইনিংসের তিন ওভার যেতে না যেতেই তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ড্রেসিং রুমে ফেরত।
এমন অবস্থায় উইকেটে এসে স্টার্কের হ্যাটট্রিক হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু অন্যপ্রান্তে নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি মুমিনুল ও লিটন। এর মাঝে মুমিনুল তাও রানের খাতা খুললেও, লিটন দলের ইনিংসে আরো একটা শূন্য যোগ করেন।
বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড তখন বিলাপ করে কাঁদছে—১২/৫! ভয়ংকর হয়ে ওঠা স্টার্কের বোলিং ফিগার তখন ৪ ওভার ৩ মেডেন ৪ রানে ৫ উইকেট। ডেল স্টেইনকে টপকে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকার শীর্ষ দশে উঠে এলেন ৩৬ বছর বয়সী এই বাহাতি পেসার।
এরপরে আসলে ঐ টেলএন্ডারদের লড়াই ছাড়া আর কিছু থাকে না। আর তখনই কমেন্টেটের বললেন ‘টিপিক্যাল গ্যাবা’য় প্রথম ঘন্টাটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং, শুরুর এই পেস আর বাউন্স সামলে নিতে পারলে পরে ব্যাট করাটা সহজ হয়ে যায়। হয়েছেও তাই। তাইতো স্কোরকার্ড বলছে আজ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান শরীফুল, রান সংখ্যা ১৪! বুঝতেই পারছেন কি দুরাবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং আজ। ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিটাও দশম উইকেটে শরীফুলের সাথে তাইজুলের।
কিন্তু বাংলাদেশের ইনিংসের দফারফা ওই প্রথম ঘন্টাতেই হয়ে গিয়েছে। আর সেটা শুধু স্টার্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্যই নয়। বরং ম্যাকাইয়ের এই নতুন গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনায় অজি পেসারদের সামলানোর জন্য যেন একেবারে প্রস্তুতিই ছিল না বাংলাদেশ দলের ব্যাটারদের।
উইকেটে ঘাস, সাথে বাতাসও আছে। আর স্টার্ক যে এমন বল করবেন, সেতো সিলেবাসের বাইরে ছিল না। কিন্তু এই জানা কথার উত্তর ছিল না শান্তর দলের কাছে।
প্রথম বলটা যেমন সাদমান একেবারে বুঝতেই পারলেন না কী হলো! ততক্ষণে সর্পিল বাঁক নিয়ে তার ব্যাটের কানা ছুয়ে বল স্লিপ ফিল্ডারের হাতে ঠিকঠাক জমাও পড়ে গেছে। এ নিয়ে চতুর্থবার টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নিলেন স্টার্ক, আর প্রথম ওভারের হিসেব ধরলে সবচেয়ে বেশি ৯ বার এমন কৃতিত্ব গড়লেন তিনি।
ডারউইনে সেঞ্চুরি করা তানজিদ তামিম অফস্টাম্পের বাইরের একটা নিরীহ বল প্রায় বেরিয়েই গিয়েছিল, কী ভেবে সেটাতেই ব্যাট ছুঁইয়ে যেন ক্যাচিং প্র্যাকটিস করালেন অজিদের।
অধিনায়ক শান্ত নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনা তাকে এলবিডব্লিউ দিলেও রিভিউতে দেখা গেল সেটা প্রায় লেগ স্টাম্প মিস করে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মুমিনুল? তিনি যেন তানজিদ তামিমের আউটের কপি পেস্ট করলেন।
২য় সর্বোচ্চ ৪২ বল খেলে কামিন্সের সোজা বল ঠেকাতে ব্যর্থ মুশফিক, তার ব্যাট আর প্যাড গলে ভেঙে দিলো স্টাম্প।
লিটন দাস তো জীবন পেয়েছিলেন। কিন্তু পরের বলেই সাজঘরে। শেষ পর্যন্ত ডাবল ডিজিটে গিয়েছেন মিরাজ, তাইজুল, হাসান মাহমুদরা। আর টেল এন্ডে তাদের লড়াইয়েই শেষ পর্যন্ত বড় লজ্জা থেকে পার পেয়েছে সফরকারীরা।
২১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মনে হচ্ছিল ৭০ বছর ধরে টিকে থাকা টেস্টে সর্বনিম্ন রানের যে রেকর্ড, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ২৬—আজই বুঝি তার শেষ হয়ে যায়। শেষটায় শেষের দিকের লোকজন, মানে টেল এন্ডাররাই এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিলেন।
আবার এই অস্ট্রেলিয়ার সাথেই তো গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭ আর তার আগে ভারতের ৩৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনা মোটামুটি টাটকা। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রান পেরিয়ে থেমেছে ৬৪ রানে। এটি টেস্টে বাংলাদেশের ৪র্থ সর্বনিম্ন স্কোর।
এখন ডারউইনে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশের হঠাৎ ম্যাকাইতে এসে কী হলো? এটার উত্তর হয়তো আগামী কয়েকদিনে পাওয়া যাবে। তবে এভাবেই চললে ৫ দিনের টেস্ট শেষতক কয়দিনে গড়ায়, সেই প্রশ্নটা সকাল সকালই কঠোর বাস্তবতা বটে!
বিষয়: