প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএমআপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫২ পিএম
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন শাখায়াত হোসেন, অন্যান্য চাকরিজীবীর মতোই শুক্রবার সকালে গিয়েছিলেন বাজার করতে। মাসের প্রথম শুক্রবার হওয়ায় বাজারে ভিড়ও বেশি ছিল। কিন্তু গিয়ে একটু চমকাতেই হলো তাকে। পেঁয়াজের কেজি এখন ১৫০ টাকা। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও তিনি ১০০-১১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনেছিলেন। হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় একটু অবাক তিনি।
পেঁয়াজের দাম বেশকিছুদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। শীতের শুরুতে সবজি ও ডিমের দাম কমতে শুরু করলেও পেঁয়াজের দাম লাগামহীন। ঢাকার একাধিক বাজারে পেঁয়াজের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। কেজিপ্রতি এখন ১৫০-১৬০টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও।
দেশি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে
সর্বোচ্চ পেঁয়াজ উৎপাদন করা বাংলাদেশের তিন জেলার একটি রাজবাড়ী। সেখানকার পেঁয়াজচাষী সায়েদুর রহমান কোবাদ বলেন, “বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চলে এসেছে। যারা অগাস্টে চাষ শুরু করেছিল, তাদের পেঁয়াজ এখন বাজারে আছে। আর কেউ কেউ অক্টোবরে চাষ শুরু করেছে, সেগুলো আসতে হয়তো ডিসেম্বরের মাঝামাঝি।”
রাজবাড়ীর স্থানীয় বাজারেও পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকার বেশি বলে জানান তিনি। তবে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন এই চাষী। মুড়িকাটা পেঁয়াজ খুব দ্রুত পঁচে যায় উল্লেখ করে সায়েদুর রহমান বলেন, “এই পেঁয়াজ সিন্ডিকেট করে আটকানোর সুযোগ নেই, তাই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যায়।”
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। সেখানে এখন ২২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এখনো হয়তো সারা দেশে পৌঁছায়নি। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজও বাজারে আছে। দেশের সবখানে দেশি পেঁয়াজ পৌঁছালে দাম কমতে শুরু করতে পারে।”
আমদানিতেই কী সমাধান?
বাংলাদেশের ঠিক উল্টোচিত্র পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের। বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় আমদানি হতো ভারত থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে ভারত থেকে মোট পেঁয়াজ রপ্তানি হয়েছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। তার মানে বাংলাদেশ একাই আমদানি করেছিল ৪২ শতাংশ পেঁয়াজ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ভারত থেকে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ কিনেছে বাংলাদেশ। এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের বাজারেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। নভেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে পেঁয়াজ প্রতি কেজি মাত্র ১ থেকে ২ রূপিতে বিক্রি করতে হয়েছিল সেখানকার কৃষকদের। যেখানে উৎপাদন খরচই ১০ রূপির বেশি।
ভারতের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি মালওয়া-নিমার। নভেম্বরে সেখানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, ‘পেঁয়াজের শেষকৃত্য’ আয়োজন করে কৃষকরা। বাদরি লাল ধাকাড় নামে এক কৃষক বলেন, “আমরা এই আয়োজন করেছি কারণ আমরা ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তবে আমরা কী করবো। আমাদের তো খরচই উঠছে না।”
দেশটির কৃষকরা বলছে, পেঁয়াজ রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে বিক্রি কঠিন হয়ে পড়েছে আর দেশে মজুদ বাড়ছে। ফলে দাম কমে গেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি বলেছিলেন, "আমরা চাই পেঁয়াজের একটা স্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি বিরাজ করুক। এতে আমরা আমাদের নিজস্ব কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারব। আমরা চাই কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আবার ভোক্তারাও যেন ক্ষতির শিকার না হন।" সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন
বর্তমানে কত মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ আছে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে ১ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ও বিভিন্ন চ্যানেলে আরও পৌনে দুই লাখ মেট্রিক পেঁয়াজ মজুদ আছে।”
সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, নতুন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে বাজারে দাম কমছে না। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তো বোঝাই যাচ্ছে যে একটা গোষ্ঠী ইচ্ছে করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে আমদানির জন্য। আমরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছি যে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ আছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. মো. জামাল উদ্দিন।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে। আলাপকে তিনি বলেন, “ভারতে যেখানে পেঁয়াজের দাম ৩-৪ টাকা কেজি, সেখানে বাংলাদেশে ১২০ টাকার ওপরে কেজি হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজও চলে এসেছে। কিন্তু তার সরবরাহ সীমিত। এই সংকট কৃত্রিম, এর কারণেই মূলত দাম বাড়ছে।”
বারবার মজুদের কথা বলা হলেও আসলে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ীদের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তারা চাইছে এখন যেহেতু ভারতে পেঁয়াজের দাম কম, তাদের আমদানি খরচ কম হবে এবং দেশের বাজারে বিক্রি করে বেশি মুনাফা করবে। সে কারণেই পেঁয়াজের দাম কমছে না।”
তিনি মনে করেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেবে এবং সেখান থেকে মুনাফা করতে চাইবে ব্যবসায়ীরা। মূলত সে কারণেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।
নতুন পেঁয়াজ উঠলেও দাম বাড়ছে
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন শাখায়াত হোসেন, অন্যান্য চাকরিজীবীর মতোই শুক্রবার সকালে গিয়েছিলেন বাজার করতে। মাসের প্রথম শুক্রবার হওয়ায় বাজারে ভিড়ও বেশি ছিল। কিন্তু গিয়ে একটু চমকাতেই হলো তাকে। পেঁয়াজের কেজি এখন ১৫০ টাকা। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও তিনি ১০০-১১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনেছিলেন। হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় একটু অবাক তিনি।
পেঁয়াজের দাম বেশকিছুদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। শীতের শুরুতে সবজি ও ডিমের দাম কমতে শুরু করলেও পেঁয়াজের দাম লাগামহীন। ঢাকার একাধিক বাজারে পেঁয়াজের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। কেজিপ্রতি এখন ১৫০-১৬০টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও।
দেশি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে
সর্বোচ্চ পেঁয়াজ উৎপাদন করা বাংলাদেশের তিন জেলার একটি রাজবাড়ী। সেখানকার পেঁয়াজচাষী সায়েদুর রহমান কোবাদ বলেন, “বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চলে এসেছে। যারা অগাস্টে চাষ শুরু করেছিল, তাদের পেঁয়াজ এখন বাজারে আছে। আর কেউ কেউ অক্টোবরে চাষ শুরু করেছে, সেগুলো আসতে হয়তো ডিসেম্বরের মাঝামাঝি।”
রাজবাড়ীর স্থানীয় বাজারেও পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকার বেশি বলে জানান তিনি। তবে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন এই চাষী। মুড়িকাটা পেঁয়াজ খুব দ্রুত পঁচে যায় উল্লেখ করে সায়েদুর রহমান বলেন, “এই পেঁয়াজ সিন্ডিকেট করে আটকানোর সুযোগ নেই, তাই বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যায়।”
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। সেখানে এখন ২২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন পাবনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এখনো হয়তো সারা দেশে পৌঁছায়নি। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজও বাজারে আছে। দেশের সবখানে দেশি পেঁয়াজ পৌঁছালে দাম কমতে শুরু করতে পারে।”
আমদানিতেই কী সমাধান?
বাংলাদেশের ঠিক উল্টোচিত্র পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের। বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় আমদানি হতো ভারত থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে ভারত থেকে মোট পেঁয়াজ রপ্তানি হয়েছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। তার মানে বাংলাদেশ একাই আমদানি করেছিল ৪২ শতাংশ পেঁয়াজ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ভারত থেকে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ কিনেছে বাংলাদেশ। এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের বাজারেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। নভেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে পেঁয়াজ প্রতি কেজি মাত্র ১ থেকে ২ রূপিতে বিক্রি করতে হয়েছিল সেখানকার কৃষকদের। যেখানে উৎপাদন খরচই ১০ রূপির বেশি।
ভারতের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি মালওয়া-নিমার। নভেম্বরে সেখানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, ‘পেঁয়াজের শেষকৃত্য’ আয়োজন করে কৃষকরা। বাদরি লাল ধাকাড় নামে এক কৃষক বলেন, “আমরা এই আয়োজন করেছি কারণ আমরা ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তবে আমরা কী করবো। আমাদের তো খরচই উঠছে না।”
দেশটির কৃষকরা বলছে, পেঁয়াজ রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে বিক্রি কঠিন হয়ে পড়েছে আর দেশে মজুদ বাড়ছে। ফলে দাম কমে গেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে আর অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি বলেছিলেন, "আমরা চাই পেঁয়াজের একটা স্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি বিরাজ করুক। এতে আমরা আমাদের নিজস্ব কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারব। আমরা চাই কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আবার ভোক্তারাও যেন ক্ষতির শিকার না হন।" সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন
বর্তমানে কত মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ আছে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে ১ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ও বিভিন্ন চ্যানেলে আরও পৌনে দুই লাখ মেট্রিক পেঁয়াজ মজুদ আছে।”
সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, নতুন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে বাজারে দাম কমছে না। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তো বোঝাই যাচ্ছে যে একটা গোষ্ঠী ইচ্ছে করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে আমদানির জন্য। আমরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছি যে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ আছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. মো. জামাল উদ্দিন।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে। আলাপকে তিনি বলেন, “ভারতে যেখানে পেঁয়াজের দাম ৩-৪ টাকা কেজি, সেখানে বাংলাদেশে ১২০ টাকার ওপরে কেজি হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজও চলে এসেছে। কিন্তু তার সরবরাহ সীমিত। এই সংকট কৃত্রিম, এর কারণেই মূলত দাম বাড়ছে।”
বারবার মজুদের কথা বলা হলেও আসলে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ীদের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তারা চাইছে এখন যেহেতু ভারতে পেঁয়াজের দাম কম, তাদের আমদানি খরচ কম হবে এবং দেশের বাজারে বিক্রি করে বেশি মুনাফা করবে। সে কারণেই পেঁয়াজের দাম কমছে না।”
তিনি মনে করেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেবে এবং সেখান থেকে মুনাফা করতে চাইবে ব্যবসায়ীরা। মূলত সে কারণেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।