একদিনে ঢাকার ১০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, দুই জায়গায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন। এক সপ্তাহ আগেই গুলশানে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের পর উঠেছিলো গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রশ্ন। তাহলে কি নাশকতার আগেই বিপদ আঁচ করতে ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী?
দীপু সারোয়ার
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএমআপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ঢাকার রাজপথ আবারও গরম, একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ, বাসে আগুন।
প্রথমে একটা বিস্ফোরণ, তারপর আরেকটা, এরপর আরো কয়েকটা।
শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা, ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘটে ককটেল বিস্ফোরণ।
কোথাও রাস্তার পাশে, কোথাও থানার সামনে, বাংলাদেশের টেলিভিশনের মতো কেপিআই স্থাপনার সামনেও বিস্ফোরণ।
এসব ঘটনা শুধু কি নাশকতা? নাকি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বার্তা দেওয়া?
আরো প্রশ্ন উঠছে যে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো যদি একের পর এক টার্গেট হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কোথায় ছিলো?
বিশেষ করে আগের শুক্রবারই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আবাসিক এলাকা গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পরের শুক্রবারই আবার কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো?
গোয়েন্দা তথ্য ও সিসি ক্যামেরা থাকার পরও নাশকতা যদি না ঠেকানো যায়, তাহলে নিরাপত্তার গলদটা ঠিক কোথায়?
এইসব প্রশ্নের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানী ঢাকাতে। বসানো হয়েছে তিন শতাধিক বিশেষ তল্লাশি চৌকি।
শুক্রবার কত জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন
শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ১০ জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। কাফরুল থানার সামনে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যাত্রীবাহী বাসে দেওয়া হয় আগুন।
এরপরই জোরদার করা হয়েছে ঢাকার নিরাপত্তা কার্যক্রম। নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে বসানো হয়েছে বিশেষ তল্লাশি চৌকি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেহ ও যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছে তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মহাখালী এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। আগারগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় একটি ককটেল।
মৌচাক মোড় ও মালিবাগ এলাকায় ফরচুন শপিং মল ও সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দুটি, রামপুরা টিভি ভবনের সামনে দুটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সবচেয়ে বেশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে। পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে।
এছাড়া মগবাজার চৌরাস্তা, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে, গুলিস্তান ও সায়েন্সল্যাব এলাকায়ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
শুক্রবারের ‘নাশকতা ও বিস্ফোরণ’-এর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী।
রাজধানীজুড়ে তল্লাশি চৌকি
শনিবার সকাল থেকেই মতিঝিল, পল্টন, গুলশান, বনানী, বারিধারা, ইসিবি চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাইকোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩০০-এর বেশি বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেহ, অটোরিক্সা, রিক্সা-ভ্যান, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। চালক ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ছোট-বড় সব ধরণেরও জমায়েত না করারও আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে ঢেলে সাজানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। জোরদার করা হয়েছে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিরাপত্তা।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নজরদারি ও তল্লাশির আওতায় আসার পর ‘জনমনে স্বস্তি’ ফেরার দাবিও করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
এর আগে ১১ই সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল করে। সে সময়ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়।
পরে এ ঘটনায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়।
গুলশানের মিছিলের ঘটনার পর গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
মিছিলের ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৭৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।
ককটেল আতঙ্কে ঢাকায় ৩০০ তল্লাশি চৌকি, জমায়েতে কড়াকড়ি
একদিনে ঢাকার ১০ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, দুই জায়গায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন। এক সপ্তাহ আগেই গুলশানে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের পর উঠেছিলো গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রশ্ন। তাহলে কি নাশকতার আগেই বিপদ আঁচ করতে ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী?
ঢাকার রাজপথ আবারও গরম, একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ, বাসে আগুন।
প্রথমে একটা বিস্ফোরণ, তারপর আরেকটা, এরপর আরো কয়েকটা।
শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা, ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘটে ককটেল বিস্ফোরণ।
কোথাও রাস্তার পাশে, কোথাও থানার সামনে, বাংলাদেশের টেলিভিশনের মতো কেপিআই স্থাপনার সামনেও বিস্ফোরণ।
এসব ঘটনা শুধু কি নাশকতা? নাকি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বার্তা দেওয়া?
আরো প্রশ্ন উঠছে যে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো যদি একের পর এক টার্গেট হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কোথায় ছিলো?
বিশেষ করে আগের শুক্রবারই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আবাসিক এলাকা গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পরের শুক্রবারই আবার কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো?
গোয়েন্দা তথ্য ও সিসি ক্যামেরা থাকার পরও নাশকতা যদি না ঠেকানো যায়, তাহলে নিরাপত্তার গলদটা ঠিক কোথায়?
এইসব প্রশ্নের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানী ঢাকাতে। বসানো হয়েছে তিন শতাধিক বিশেষ তল্লাশি চৌকি।
শুক্রবার কত জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন
শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ১০ জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। কাফরুল থানার সামনে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যাত্রীবাহী বাসে দেওয়া হয় আগুন।
এরপরই জোরদার করা হয়েছে ঢাকার নিরাপত্তা কার্যক্রম। নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে বসানো হয়েছে বিশেষ তল্লাশি চৌকি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেহ ও যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলছে তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মহাখালী এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। আগারগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় একটি ককটেল।
মৌচাক মোড় ও মালিবাগ এলাকায় ফরচুন শপিং মল ও সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দুটি, রামপুরা টিভি ভবনের সামনে দুটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সবচেয়ে বেশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে। পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে।
এছাড়া মগবাজার চৌরাস্তা, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে, গুলিস্তান ও সায়েন্সল্যাব এলাকায়ও বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
শুক্রবারের ‘নাশকতা ও বিস্ফোরণ’-এর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী।
রাজধানীজুড়ে তল্লাশি চৌকি
শনিবার সকাল থেকেই মতিঝিল, পল্টন, গুলশান, বনানী, বারিধারা, ইসিবি চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাইকোর্ট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩০০-এর বেশি বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেহ, অটোরিক্সা, রিক্সা-ভ্যান, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। চালক ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ছোট-বড় সব ধরণেরও জমায়েত না করারও আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে ঢেলে সাজানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। জোরদার করা হয়েছে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিরাপত্তা।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নজরদারি ও তল্লাশির আওতায় আসার পর ‘জনমনে স্বস্তি’ ফেরার দাবিও করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
এর আগে ১১ই সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল করে। সে সময়ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়।
পরে এ ঘটনায় ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়।
গুলশানের মিছিলের ঘটনার পর গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
মিছিলের ঘটনায় শুক্রবার পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৭৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।