নিজের ২৫টি অর্জনের তালিকা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ নিজের ২৫টি কাজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি এই কাজগুলো ২০২৫-২০২৬ সালে তার শীর্ষ অর্জন।

অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং সামাজিক সংস্কারসহ তার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ এই তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গত ১৬ মাসে কোনো অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেনি এবং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সুরক্ষিত সীমান্ত।

অপরাধী অভিবাসীদের সরিয়ে দিতে তিনি 'ল্যাকেন রাইলি অ্যাক্ট' নামের আইন করেছেন। এছাড়া সোমালিয়াসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে সব ধরনের শরণার্থী প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, ১৯০০ সালের পর থেকে হত্যার হার সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওয়াশিংটন ডিসি, মেমফিস এবং নিউ অরলিন্সে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতে ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বকশিশ, ওভারটাইম এবং বয়স্কদের সামাজিক নিরাপত্তার ওপর কোনো কর থাকছে না।

তার মেয়াদে ১৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে এবং নির্বাচনের পর থেকে পুঁজিবাজারে ৮০ বার নতুন রেকর্ড গড়েছে।

দেশটিতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ কর্মরত আছেন এবং এ বছর ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানির আশা করছেন ট্রাম্প হচ্ছে।

আমেরিকার উৎপাদন শিল্প ফিরিয়ে আনতে বিদেশি তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং বিদেশি অটোমোবাইলের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপকেও অর্জন হিসাবে দেখেছেন তিনি।

সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে 'অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ'-এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা এবং 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' ও 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।

ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, গাজা যুদ্ধসহ মোট ৮টি চলমান যুদ্ধ তিনি প্রথম ১২ মাসের মধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে মীমাংসা করেছেন। জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।

ড্রাগ কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযান চালিয়ে ফেন্টানিল চোরাচালান ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বিনিয়োগ করা হয়েছে।

জ্বালানি ও অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে, ট্রাম্প ইংরেজিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

তিনি 'গ্রিন নিউ স্ক্যাম' বাতিল করে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ম্যান্ডেট বাতিল করেছেন এবং জ্বালানি উত্তোলনে জোর দিয়েছেন।

শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা থেকে 'ডাইভারসিটি, ইকুইটি, ইনক্লুশন' নীতি, ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ এবং ক্রিটিক্যাল রেস থিওরি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া নারীদের খেলাধুলায় পুরুষদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশুদের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস' নামে করমুক্ত বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক নবজাতকের জন্য ১,০০০ ডলার দেওয়া হবে।

ওষুধের দাম কমাতে বিশেষ চুক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প।