মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন।
আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক মুখ্য প্রতিবেদক ফারজানা রুপাসহ ৪১ জন।
রবিবার দুপুরে শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে ব্রিফিং করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়কারী মো. শহিদুল্লা চৌধুরী ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নেতা মামুনুল হক।
এ সময় হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব) মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ৬১ জনের নিহত তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা। প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। এজন্য হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’
গ্রেপ্তার আছেন যারা
মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক মুখ্য প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম আগে থেকেই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার আছেন।
আসামি শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ পলাতক।
২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা পড়ে।
গত ৩রা মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ওই ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানির তথ্য দেয়।
৪ই মে জানানো হয়, এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮ থেকে ৩০ জন আসামি হতে পারেন।
৭ই জুন প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ অগাস্ট তারিখ ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।



