অংকের হিসাবে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল

৪৮ দলের বিশ্বকাপ লড়াইটা এখন কেবল দুই দলের। রবিবার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে স্পেন-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হচ্ছে। এই ম্যাচে কৌশলের লড়াই হবে, হবে স্কিলেরও। এর আগে কিছু অংকের হিসাব দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের এক নাম্বার দল আর্জেন্টিনা ও দুই নাম্বার দল স্পেন। এবার বিশ্বকাপে এখনও তারা অপরাজিত। এই দুই দল যখন সর্বশেষবার ট্রফি জিতেছিলো, তখন কিন্তু তাদের শুরুটা এমন ছিলো না। ২০১০ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। সেবার প্রথম ম্যাচেই সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিলো। আর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার ঘটনাতো তরতাজা, তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিলো সৌদি আরবের কাছে হেরে।

মাঠের বাইরের অংক

ফুটবল বেঞ্চমার্কের প্লেয়ার ভ্যালুয়েশন প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্পেনের পুরো স্কোয়াডের আর্থিক মূল্য ছিলো ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ইউরো। টাকার অংকে যা ২০ হাজার ৭০৬ কোটি। আর্জেন্টিনার ৮১৮ মিলিয়ন ইউরো, যা টাকার অংকে ১১ হাজার ৫২২ কোটি।

স্পেনে আছেন এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের একজন লামিন ইয়ামাল, যার বর্তমান বাজার মূল্য ২৯২ দশমিক ২ মিলিয়ন ইউরো। এছাড়া স্পেন দল তুলনামূলক তরুণ, যাদের গড় বয়স ২৬ দশমিক ৭ বছর। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার স্কোয়াড টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়স্ক দল, যাদের গড় বয়স ২৯ দশমিক ১ বছর।

মাঠের ভেতরের অংক

মাঠের পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগে বেশি বিধ্বংসী। ৭ ম্যাচে ১৯টি গোল করে তারা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। আর এই আক্রমণের মূল কাণ্ডারি লিওনেল মেসি, যিনি একাই ৮ গোলের সঙ্গে ৪টি অ্যাসিস্টও করেছেন।

আরেকদিকে বলের নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণভাগের ওপর ভর করে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র ১টি গোল খেয়েছে, টুর্নামেন্টের তা সর্বনিম্ন। স্পেনের হয়ে মিকেল ওয়ারজাবাল সর্বোচ্চ ৫টি গোল করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয়তার দিক থেকে আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে। আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের মোট ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৬৬৭ মিলিয়ন, যেখানে স্পেনের খেলোয়াড়দের ১৪০ মিলিয়ন। এই বিশাল পার্থক্যের মূল কারণ লিওনেল মেসি, যার একারই ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৫১২ মিলিয়নেরও বেশি।

এই বিশ্বকাপে…

চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের চেয়ে আর্জেন্টিনা দল ও তাদের খেলোয়াড়দের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার অনেক বেশি বেড়েছে। গত ১১ই জুন থেকে ১৪ই জুলাইয়ের মধ্যে আর্জেন্টিনার অফিসিয়াল জাতীয় দল অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা ২ দশমকি ৪ মিলিয়ন (১৬.২ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ দশমিক ২ মিলিয়নে পৌঁছেছে। একই সময়ে স্পেনের অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়েছে ৫ লাখ (৬.৭ শতাংশ) ফলোয়ার, তাদের মোট ফলোয়ার এখন ৮ মিলিয়ন।

খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। আর্জেন্টিনার শীর্ষ পাঁচ জন খেলোয়াড় সম্মিলিতভাবে ১১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ফলোয়ার পেয়েছেন। স্পেনের শীর্ষ ৫ জনের পাওয়া ৫ দশমিক ৬ মিলিয়নের চেয়ে তা দ্বিগুণেরও বেশি।

এখানেও মূল ভূমিকা মেসির, যিনি একাই ৬ মিলিয়ন নতুন ফলোয়ার পেয়েছেন। এছাড়া হুলিয়ান আলভারেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিয়েন্দ্রো পারেদেস ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ১ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার পেয়েছেন।

সবচেয়ে ‘ক্লান্ত’ খেলোয়াড়

সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই একজন গোলরক্ষক এগিয়ে আছেন। আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফাইনালে আসার পথে পুরো ৭৯৫ মিনিটই মাঠে ছিলেন। তার সতীর্থ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ৭৩০ মিনিট খেলে দ্বিতীয় স্থানে আছেন।

অন্যদিকে স্পেনের শুরুর একাদশের ধারাবাহিকতা ছিলো দেখার মতো। সবচেয়ে বেশি সময় খেলা শীর্ষ ৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ৫ জনই স্পেনের। মার্ক কুকুরেয়া, উনাই সিমন ও পাউ কুবারসি প্রত্যেকেই ৭১৭ মিনিট করে মাঠে ছিলেন এবারের বিশ্বকাপে। এছাড়া আইমেরিক লাপোর্তে ও রদ্রিও ৭০০ মিনিটের বেশি সময় খেলেছেন।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬–২৭ মৌসুমের ক্লাব ফুটবল। আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলে আসা তারকা খেলোয়াড়রা দেরিতে ক্লাবে ফিরবেন, যা ক্লাবগুলোর প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে কিছুটা প্রভাব ফেলবে।