এক ক্লিকে ১০ টাকা, বাংলা কিউআরে কেন ব্যবসায়ীরা অনাগ্রহী
বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১২ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে ২০ লাখের বেশি মার্চেন্ট কিউআর কোড। কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীদের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি আস্থাশীল নয়। ফলে লেনদেন বাড়লেও প্রশ্ন থাকছে ক্যাশলেস বাংলাদেশ কি সত্যিই ছোট দোকান পর্যন্ত পৌঁছাবে?
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ এএমআপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
মার্চেন্ট পয়েন্টে ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর। ছবি: এআই
একটি কিউআর কোড। যে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস-এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে পেমেন্ট। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি নেই। ভাংতি টাকার ঝামেলাও নেই।
ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে এমনই একটি ব্যবস্থা। নাম- বাংলা কিউআর।
একটি কোডেই সব পেমেন্ট। গ্রাহকের জন্য সুবিধা স্পষ্ট। কিন্তু যাদের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়ার কথা, সেই ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখনো পুরোপুরি আগ্রহী নন।
কারণ, বাংলা কিউআরে লেনদেনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি খরচ। আর ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সেই খরচ সরাসরি কমিয়ে দিচ্ছে হাতে আসা টাকা। এতে কমছে মুনাফা। একজন গ্রাহক ১ হাজার টাকা পাঠালেই নেই হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীর ১০ টাকা।
ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ এখনো এই ব্যবস্থার বাইরে।
প্রশ্ন হলো- কেন? এই খরচ কীসের? বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আপত্তি কোথায়? নতুন এই ব্যবস্থায় লেনদেন কতটুকু?
এক কিউআরে সব পেমেন্ট
এতদিন একটি দোকানে বিকাশ, নগদ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক কিউআর কোড থাকতো। গ্রাহকের হাতে যে প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ আছে, সেই প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড না থাকলে পেমেন্ট করা যেতো না।
বাংলা কিউআর এই সমস্যার সমাধান করেছে। এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে পেমেন্ট করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১লা জুলাই ২০২৬ থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া বলেন, “গ্রাহকরা এখন যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ কিংবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করেই সহজে পেমেন্ট দিতে পারছেন। অতি ক্ষুদ্র চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মলেও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সফলভাবে চালু রয়েছে।”
বাংলা কিউআরের লেনদেন যেভাবে
বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে প্রথমে ব্যবসায়ীকে ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী, এই অ্যাকাউন্ট হতে পারে মাইক্রো মার্চেন্ট বা রেগুলার মার্চেন্ট।
অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীকে একটি ইউনিক বাংলা কিউআর কোড দেবে। এই কিউআর কোডটি যুক্ত থাকবে ব্যবসায়ীর ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে। ব্যবসায়ী সেই কিউআর কোড দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করবেন।
এরপর কোনো গ্রাহক পণ্য বা সেবা কিনলে, তিনি নিজের মোবাইল ফোনের ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে ব্যবসায়ীর বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। স্ক্যান করার পর পেমেন্টের পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। অথবা সেটা দেওয়ায় থাকবে। এরপর পিআইএন, পাসওয়ার্ড বা বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে লেনদেন অনুমোদন করবেন গ্রাহক।
লেনদেন সফল হলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে সরাসরি ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
একই সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী দুজনই লেনদেন সফল হওয়ার নোটিফিকেশন পাবেন।
ব্যবসায়ী চাইলে নিজের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ, এসএমএস কিংবা লেনদেনের হিস্ট্রি দেখে টাকা জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে পারবেন। পরে প্রয়োজন হলে গ্রাহকও নিজের অ্যাপ থেকে লেনদেনের ইতিহাস দেখতে পারবেন।
সহজ কথায়, ব্যবসায়ী ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান থেকে কিউআর কোড নেবেন। গ্রাহক সেই কোড স্ক্যান করে টাকা দেবেন। আর টাকা সরাসরি ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
১ শতাংশ এমডিআরই বড় বাধা
বাংলা কিউআর দিয়ে একজন ক্রেতা ১ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো ১ হাজার টাকাই কাটা হবে।
কিন্তু দোকানদারের হিসাবে জমা হবে ৯৯০ টাকা। বাকি প্রায় ১০ টাকা, অর্থাৎ ১ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে এমডিআর হিসেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই চার্জ ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। এটি মার্চেন্ট বা বিক্রেতার প্রাপ্য অর্থ থেকেই কেটে নেওয়া হবে।
সমস্যা এখানেই। একজন বড় ব্যবসায়ীর জন্য ১ শতাংশ হয়তো খুব বড় বিষয় নয়। কিন্তু একজন ছোট মুদি দোকানি, চা বিক্রেতা বা ফুটপাতের ব্যবসায়ীর কাছে প্রতিটি লেনদেন থেকে টাকা কেটে নেওয়া মানে সরাসরি মুনাফা কমে যাওয়া।
ধানমন্ডি মধুবাজার এলাকার ছোট মুদি ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আলাপ-কে বলেন, “ব্যবসায়ীদের এত লাভ নেই যে আপনি ১ শতাংশ চার্জ বাধ্যতামূলক করে দেবেন। ক্যাশলেস বাংলাদেশ করতে হলে চার্জ ফ্রি বাংলা কিউআর করতে হবে। চার্জ কমালে হবে না, একেবারে বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ডাটার মূল্য কমাতে হবে এবং ইন্টারনেটের মেয়াদ প্রথা বন্ধ করতে হবে। তাহলে গ্রাহকরাও আগ্রহী হবে।”
বাংলাদেশের মানুষ এখনো অনলাইন ট্রানজেকশনে অভ্যস্ত হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন।
“ডিজিটাল লেনদেন হলে অবশ্যই ভালো কিন্তু এর আগেও অনেক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। কিছু একটা চালু হলো, এতে ধারণা করা হয় রাজস্ব বাড়বে, ব্যবসা বাড়বে। তবে মাঝপথে ভেঙে পড়ে। কারণ এর আগে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিন দোকানে দোকানে দেওয়ার পর বাতিল হলো, ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন আনা হলো সেটাও বাতিল হয়। তাছাড়া আমরা এখনো অনলাইনে অভ্যস্ত হইনি।”
এদিকে এমডিআরের চার্জ ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে বলেই মনে করেন হেলাল উদ্দিন।
“এটাও চিন্তা করা দরকার যে, হাজারে ১০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। দোকানির হিসাব থেকে তাহলে তো দোকানি পণ্যের দাম বাড়াবে ২০ টাকা,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
শুধু চার্জ নয়, আরও সমস্যা আছে
বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আরও কয়েকটি সমস্যার কথা জানা গেছে।
প্রথমত, অনেক ছোট ব্যবসায়ীর এখনো প্রয়োজনীয় মার্চেন্ট বা রিটেইল অ্যাকাউন্ট নেই। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথির প্রয়োজন হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ফুটপাতের বিক্রেতা, ভ্রাম্যমাণ হকার, রিকশাচালক বা বাসচালকদের জন্য ব্যক্তিগত রিটেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, লেনদেনের পর সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।
একজন বিক্রেতা টাকা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে না পারলে তার পক্ষে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ফুটপাতের বিক্রেতা, ভ্রাম্যমাণ হকার, রিকশাচালক বা বাসচালকদের জন্য ব্যক্তিগত রিটেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও কিউআরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তৃতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগ ও অ্যাপের প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অ্যাপ হালনাগাদ না করা, কিউআর কোড বা হিসাবে ত্রুটি এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লেনদেনে জটিলতা হতে পারে। ধীরে ধীরে এসব সমস্যা সমাধান হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের সফল ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলো সাধারণত প্রথম দিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কম বা শূন্য চার্জের নীতি নিয়েছে।
ভারতের ইউপিআই, ইন্দোনেশিয়ার কিউআরআইএস, থাইল্যান্ডের প্রম্পটপে এবং মালয়েশিয়ার ডুইটনাউ কিউআরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার পর ধীরে ধীরে ফি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও তাই একই ধরনের ধাপে ধাপে নীতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ একজন চা বিক্রেতার কাছে ১ শতাংশ খরচ শুধু একটি সংখ্যা নয়। তার কাছে এটি সরাসরি কমে যাওয়া আয়।
দেশকে নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে নিতে ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলা কিউআর সেই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
বর্তমানে দেশে বাংলা কিউআরে রূপান্তরিত মার্চেন্ট কিউআর কোডের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ কিউআর কোড এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে বাংলা কিউআর লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। তাই এতে ঝুঁকির কিছু নেই, তবে ব্যাংকের অ্যাপ হালনাগাদ না করা, কিউআর কোড বা হিসাবে ত্রুটি ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। ধীরে ধীরে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছে।
টাকার অঙ্কে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা।
বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। মার্চে এই পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় বাংলা কিউআরের লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে পুরো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার তুলনায় এই পরিমাণ এখনো কম। ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন হলেও বাংলা কিউআরের ব্যবহার তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
আর যাদের হাত ধরে এই ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ার কথা ছোট দোকানি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক বিক্রেতা, তাদের বড় একটি অংশই এখনো দূরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আলাপ-কে বলেন, “বর্তমানে নির্ধারিত ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট স্থায়ী নয়। ভবিষ্যতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার ও লেনদেন বাড়লে এবং সেবাদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে পরিচালন ব্যয় কমবে। তখন এমডিআরও কমানো সম্ভব হবে।”
বাংলা কিউআরকে আরও গ্রাহকবান্ধব করতে ভবিষ্যতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- লেনদেনের সংখ্যা বাড়ছে, কিউআর কোডের সংখ্যাও বাড়ছে; তবু ছোট ব্যবসায়ীদের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি আস্থাশীল নয়।
তাদের প্রশ্ন একটাই- ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার খরচটা কে দেবে?
যদি এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পকেট থেকে আসে, তাহলে বাংলা কিউআরের প্রসার আটকে যেতে পারে।
আর যদি শুরুতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য চার্জ কমানো বা মওকুফ করা হয়, লেনদেন সহজ করা হয়, নোটিফিকেশন ও টাকা নিষ্পত্তির সমস্যা সমাধান করা হয় তাহলে এই এক কিউআরই হয়তো সত্যিই দেশের প্রতিটি চায়ের দোকান, মুদি দোকান, রিকশা আর ফুটপাতের ব্যবসায় পৌঁছে দিতে পারে ক্যাশলেস বাংলাদেশের স্বপ্ন।
এক ক্লিকে ১০ টাকা, বাংলা কিউআরে কেন ব্যবসায়ীরা অনাগ্রহী
বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১২ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে ২০ লাখের বেশি মার্চেন্ট কিউআর কোড। কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীদের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি আস্থাশীল নয়। ফলে লেনদেন বাড়লেও প্রশ্ন থাকছে ক্যাশলেস বাংলাদেশ কি সত্যিই ছোট দোকান পর্যন্ত পৌঁছাবে?
একটি কিউআর কোড। যে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস-এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে পেমেন্ট। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি নেই। ভাংতি টাকার ঝামেলাও নেই।
ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে এমনই একটি ব্যবস্থা। নাম- বাংলা কিউআর।
একটি কোডেই সব পেমেন্ট। গ্রাহকের জন্য সুবিধা স্পষ্ট। কিন্তু যাদের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়ার কথা, সেই ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখনো পুরোপুরি আগ্রহী নন।
কারণ, বাংলা কিউআরে লেনদেনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি খরচ। আর ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সেই খরচ সরাসরি কমিয়ে দিচ্ছে হাতে আসা টাকা। এতে কমছে মুনাফা।
একজন গ্রাহক ১ হাজার টাকা পাঠালেই নেই হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীর ১০ টাকা।
ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ এখনো এই ব্যবস্থার বাইরে।
প্রশ্ন হলো- কেন? এই খরচ কীসের? বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আপত্তি কোথায়? নতুন এই ব্যবস্থায় লেনদেন কতটুকু?
এক কিউআরে সব পেমেন্ট
এতদিন একটি দোকানে বিকাশ, নগদ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক কিউআর কোড থাকতো। গ্রাহকের হাতে যে প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ আছে, সেই প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড না থাকলে পেমেন্ট করা যেতো না।
বাংলা কিউআর এই সমস্যার সমাধান করেছে। এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে পেমেন্ট করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১লা জুলাই ২০২৬ থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়া বলেন, “গ্রাহকরা এখন যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ কিংবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করেই সহজে পেমেন্ট দিতে পারছেন। অতি ক্ষুদ্র চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মলেও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সফলভাবে চালু রয়েছে।”
বাংলা কিউআরের লেনদেন যেভাবে
বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে প্রথমে ব্যবসায়ীকে ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী, এই অ্যাকাউন্ট হতে পারে মাইক্রো মার্চেন্ট বা রেগুলার মার্চেন্ট।
অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীকে একটি ইউনিক বাংলা কিউআর কোড দেবে। এই কিউআর কোডটি যুক্ত থাকবে ব্যবসায়ীর ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে। ব্যবসায়ী সেই কিউআর কোড দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করবেন।
এরপর কোনো গ্রাহক পণ্য বা সেবা কিনলে, তিনি নিজের মোবাইল ফোনের ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে ব্যবসায়ীর বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। স্ক্যান করার পর পেমেন্টের পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। অথবা সেটা দেওয়ায় থাকবে। এরপর পিআইএন, পাসওয়ার্ড বা বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে লেনদেন অনুমোদন করবেন গ্রাহক।
লেনদেন সফল হলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে সরাসরি ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
একই সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী দুজনই লেনদেন সফল হওয়ার নোটিফিকেশন পাবেন।
ব্যবসায়ী চাইলে নিজের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ, এসএমএস কিংবা লেনদেনের হিস্ট্রি দেখে টাকা জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে পারবেন। পরে প্রয়োজন হলে গ্রাহকও নিজের অ্যাপ থেকে লেনদেনের ইতিহাস দেখতে পারবেন।
সহজ কথায়, ব্যবসায়ী ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান থেকে কিউআর কোড নেবেন। গ্রাহক সেই কোড স্ক্যান করে টাকা দেবেন। আর টাকা সরাসরি ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
১ শতাংশ এমডিআরই বড় বাধা
বাংলা কিউআর দিয়ে একজন ক্রেতা ১ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে পুরো ১ হাজার টাকাই কাটা হবে।
কিন্তু দোকানদারের হিসাবে জমা হবে ৯৯০ টাকা। বাকি প্রায় ১০ টাকা, অর্থাৎ ১ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে এমডিআর হিসেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই চার্জ ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। এটি মার্চেন্ট বা বিক্রেতার প্রাপ্য অর্থ থেকেই কেটে নেওয়া হবে।
সমস্যা এখানেই। একজন বড় ব্যবসায়ীর জন্য ১ শতাংশ হয়তো খুব বড় বিষয় নয়। কিন্তু একজন ছোট মুদি দোকানি, চা বিক্রেতা বা ফুটপাতের ব্যবসায়ীর কাছে প্রতিটি লেনদেন থেকে টাকা কেটে নেওয়া মানে সরাসরি মুনাফা কমে যাওয়া।
ধানমন্ডি মধুবাজার এলাকার ছোট মুদি ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আলাপ-কে বলেন, “ব্যবসায়ীদের এত লাভ নেই যে আপনি ১ শতাংশ চার্জ বাধ্যতামূলক করে দেবেন। ক্যাশলেস বাংলাদেশ করতে হলে চার্জ ফ্রি বাংলা কিউআর করতে হবে। চার্জ কমালে হবে না, একেবারে বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ডাটার মূল্য কমাতে হবে এবং ইন্টারনেটের মেয়াদ প্রথা বন্ধ করতে হবে। তাহলে গ্রাহকরাও আগ্রহী হবে।”
বাংলাদেশের মানুষ এখনো অনলাইন ট্রানজেকশনে অভ্যস্ত হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন।
“ডিজিটাল লেনদেন হলে অবশ্যই ভালো কিন্তু এর আগেও অনেক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। কিছু একটা চালু হলো, এতে ধারণা করা হয় রাজস্ব বাড়বে, ব্যবসা বাড়বে। তবে মাঝপথে ভেঙে পড়ে। কারণ এর আগে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিন দোকানে দোকানে দেওয়ার পর বাতিল হলো, ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন আনা হলো সেটাও বাতিল হয়। তাছাড়া আমরা এখনো অনলাইনে অভ্যস্ত হইনি।”
এদিকে এমডিআরের চার্জ ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে বলেই মনে করেন হেলাল উদ্দিন।
“এটাও চিন্তা করা দরকার যে, হাজারে ১০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। দোকানির হিসাব থেকে তাহলে তো দোকানি পণ্যের দাম বাড়াবে ২০ টাকা,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
শুধু চার্জ নয়, আরও সমস্যা আছে
বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আরও কয়েকটি সমস্যার কথা জানা গেছে।
প্রথমত, অনেক ছোট ব্যবসায়ীর এখনো প্রয়োজনীয় মার্চেন্ট বা রিটেইল অ্যাকাউন্ট নেই। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথির প্রয়োজন হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ফুটপাতের বিক্রেতা, ভ্রাম্যমাণ হকার, রিকশাচালক বা বাসচালকদের জন্য ব্যক্তিগত রিটেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, লেনদেনের পর সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।
একজন বিক্রেতা টাকা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে না পারলে তার পক্ষে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ফুটপাতের বিক্রেতা, ভ্রাম্যমাণ হকার, রিকশাচালক বা বাসচালকদের জন্য ব্যক্তিগত রিটেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও কিউআরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তৃতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগ ও অ্যাপের প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অ্যাপ হালনাগাদ না করা, কিউআর কোড বা হিসাবে ত্রুটি এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লেনদেনে জটিলতা হতে পারে। ধীরে ধীরে এসব সমস্যা সমাধান হবে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের সফল ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলো সাধারণত প্রথম দিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কম বা শূন্য চার্জের নীতি নিয়েছে।
ভারতের ইউপিআই, ইন্দোনেশিয়ার কিউআরআইএস, থাইল্যান্ডের প্রম্পটপে এবং মালয়েশিয়ার ডুইটনাউ কিউআরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার পর ধীরে ধীরে ফি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও তাই একই ধরনের ধাপে ধাপে নীতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ একজন চা বিক্রেতার কাছে ১ শতাংশ খরচ শুধু একটি সংখ্যা নয়। তার কাছে এটি সরাসরি কমে যাওয়া আয়।
বাড়ছে বাংলা কিউআরের লেনদেন
দেশকে নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে নিতে ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলা কিউআর সেই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
বর্তমানে দেশে বাংলা কিউআরে রূপান্তরিত মার্চেন্ট কিউআর কোডের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ কিউআর কোড এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে বাংলা কিউআর লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। তাই এতে ঝুঁকির কিছু নেই, তবে ব্যাংকের অ্যাপ হালনাগাদ না করা, কিউআর কোড বা হিসাবে ত্রুটি ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। ধীরে ধীরে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছে।
টাকার অঙ্কে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা।
বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি টাকা। মার্চে এই পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় বাংলা কিউআরের লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে পুরো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার তুলনায় এই পরিমাণ এখনো কম। ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন হলেও বাংলা কিউআরের ব্যবহার তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
আর যাদের হাত ধরে এই ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ার কথা ছোট দোকানি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক বিক্রেতা, তাদের বড় একটি অংশই এখনো দূরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আলাপ-কে বলেন, “বর্তমানে নির্ধারিত ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট স্থায়ী নয়। ভবিষ্যতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার ও লেনদেন বাড়লে এবং সেবাদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে পরিচালন ব্যয় কমবে। তখন এমডিআরও কমানো সম্ভব হবে।”
বাংলা কিউআরকে আরও গ্রাহকবান্ধব করতে ভবিষ্যতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- লেনদেনের সংখ্যা বাড়ছে, কিউআর কোডের সংখ্যাও বাড়ছে; তবু ছোট ব্যবসায়ীদের বড় অংশ এখনো পুরোপুরি আস্থাশীল নয়।
তাদের প্রশ্ন একটাই- ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার খরচটা কে দেবে?
যদি এই প্রশ্নের উত্তর শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পকেট থেকে আসে, তাহলে বাংলা কিউআরের প্রসার আটকে যেতে পারে।
আর যদি শুরুতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য চার্জ কমানো বা মওকুফ করা হয়, লেনদেন সহজ করা হয়, নোটিফিকেশন ও টাকা নিষ্পত্তির সমস্যা সমাধান করা হয় তাহলে এই এক কিউআরই হয়তো সত্যিই দেশের প্রতিটি চায়ের দোকান, মুদি দোকান, রিকশা আর ফুটপাতের ব্যবসায় পৌঁছে দিতে পারে ক্যাশলেস বাংলাদেশের স্বপ্ন।
বিষয়: