মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কম থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে খলিলুর রহমানকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা “একইসঙ্গে এটা চমক ও প্রশ্নের। এটা কি প্রয়োজন নাকি আগের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক”, বলছেন এক বিশ্লেষক।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ পিএমআপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
কেমন হলো তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর গঠিত হলো বাংলাদেশের নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন পুরোনো-নতুনের মিশ্রণ, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠই নতুন মুখ। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় আসা নেতাদের উপস্থিতি যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব ও কিছু সংযুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই নতুন, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর প্রায় সবাই প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। তবে ৫০ সদস্যের এই বড় মন্ত্রিসভায় নারী রয়েছেন মাত্র তিনজন যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। একইসঙ্গে শরিক দলের কয়েকজন নেতার অন্তর্ভুক্তি যেমন রাজনৈতিক সমন্বয়ের বার্তা দিচ্ছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টার সংযুক্তি নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।
ঢাকার বাইরে মন্ত্রী
রাজধানী ঢাকা থেকে শুধুমাত্র শেখ রবিউল আলম পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ঢাকার পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
নতুন মুখ
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ১০ জন নেতা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সিলেটের খন্দকার আব্দুল মোকতাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী, মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রিতা, ঝিনাইদহের মো. আসাদুজ্জামান, রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান এবং ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও শেখ রবিউল আলমের মতো নতুন মুখ। এ ছাড়া প্রবীণ নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবারই প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, কোন আসন থেকে মন্ত্রী হলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আলাপকে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির এই বিষয়ে দক্ষতা কেমন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সেদিক দিয়ে এই মন্ত্রিসভা ‘ব্যালেন্সড’ হয়েছে মন্তব্য করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, “খুব বেশি ভালোও বলা যাচ্ছে না আবার খুব খারাপও বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রিসভা ব্যালেন্সড।”
নারীর অংশগ্রহণ
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে থাকছেন আফরোজা খানম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন।
মন্ত্রিসভায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, অন্তত ১০ শতাংশ নারী হওয়া উচিত ছিল। ৫০ জনের মন্ত্রিসভায় মাত্র তিন জন নারী।
নারীদের সংখ্যা কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানাও।
আলাপকে তিনি বলেন, “এক ধরনের নারী বিদ্বেষী মনোভাব সবসময়ই আমরা দেখে থাকি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা যখন আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে বলি, তখন দেখি নারীবান্ধব আইনগুলোর অনেক প্রয়োজন।
“সংসদের তো আসলে মেইন কাজটাই হচ্ছে আইন তৈরি করা। নারীবান্ধব আইন, নারীবান্ধব পলিসি, নারীর জন্য সত্যি কল্যাণকর, সেগুলো বোঝার জন্য নারীর অংশগ্রহণ বেশি জরুরি।”
সেখানে মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কম থাকার একটা নেতিবাচক প্রভাব থাকবে মত দিয়ে ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, “মন্ত্রিসভায় মাত্র তিনজন। আরেকটু বেশি হতে পারতো বলে মনে হয়। নারীদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে নারীদের একটা জেন্ডার ব্যালেন্স নিশ্চিত করা উচিত, এখন থেকেই সেটা করা উচিত।”
রাজনীতি পর্যবেক্ষক আশরাফ কায়সারও মনে করেন মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কম হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর নারী নিয়ে অবস্থানে বিপরীতের নারীর মুক্তির কথা বলেছেন তারেক রহমান। তার প্রতিফলন খুব একটা এই মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে যুক্ত হচ্ছেন বিএনপির অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী দুই নারী মুখ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফারজানা শারমিন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ফারজানা শারমিনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
খলিলুর রহমানের সংযুক্তি
মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তবে তার সংযুক্তি বড় প্রশ্ন তেরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাব্বির আহমেদ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপকের মতে, এই মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাখছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদমর্যাদার খলিলুর রহমানের সংযুক্তি। তিনি বলেন, এই সংযুক্তি আগের সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
“আগের সরকার বিএনপির হয়ে কাজ করেছে, এটা স্পেকুলেট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সংযুক্তিতে।”
তার এই সংযুক্তি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আশরাফ কায়সারও। এই রাজনীতি পর্যবেক্ষক বলেন, “একইসঙ্গে এটা চমক ও প্রশ্নের। এটা কি প্রয়োজন নাকি আগের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”
“নিশ্চিতভাবে এই বিষয় নিয়ে অনেকদিন আলোচনা চলবে।”
শরিক দলের সদস্যরা
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে সাথে নিয়েই নির্বাচন করেছিল তারা। ভোটেও সেই ফল পেয়েছে। এবার একাধিক নেতাকে বিএনপি ঠাঁই দিয়েছে মন্ত্রিসভায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডাকসু) এর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও এনডিএমের সাবেক সভাপতি ববি হাজ্জাজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
আশরাফ কায়সার বলছেন, তারেক রহমান যে বলছিলেন যে সবাইকে ‘একোমোডেট’ করবেন। এটা তারই প্রতিফলন।
আরও আলোচনায় যারা
গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবার শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন। চাঁদপুর–১ আসনের এই সংসদ সদস্য ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এই আসন থেকে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী করা হচ্ছে। সাফজয়ী এই ফুটবলার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে একাধিক গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছে।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ছয়বারই বিজয়ী হয়েছেন।
এ ছাড়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, এ জে এম জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিনু, মো. আসাদুজ্জামান সবাই মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছেন।
শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টারা হলেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আর প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
এখন পর্যন্ত বিএনপির এম কে আনোয়ার ও মঈন খানের মতো সিনিয়র নেতাদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে তাদের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচিত করা হতে পারে।
কেমন হলো তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা
মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কম থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে খলিলুর রহমানকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা “একইসঙ্গে এটা চমক ও প্রশ্নের। এটা কি প্রয়োজন নাকি আগের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক”, বলছেন এক বিশ্লেষক।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর গঠিত হলো বাংলাদেশের নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন পুরোনো-নতুনের মিশ্রণ, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠই নতুন মুখ। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় আসা নেতাদের উপস্থিতি যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব ও কিছু সংযুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই নতুন, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর প্রায় সবাই প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। তবে ৫০ সদস্যের এই বড় মন্ত্রিসভায় নারী রয়েছেন মাত্র তিনজন যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। একইসঙ্গে শরিক দলের কয়েকজন নেতার অন্তর্ভুক্তি যেমন রাজনৈতিক সমন্বয়ের বার্তা দিচ্ছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টার সংযুক্তি নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।
ঢাকার বাইরে মন্ত্রী
রাজধানী ঢাকা থেকে শুধুমাত্র শেখ রবিউল আলম পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ঢাকার পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
নতুন মুখ
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ১০ জন নেতা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সিলেটের খন্দকার আব্দুল মোকতাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী, মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রিতা, ঝিনাইদহের মো. আসাদুজ্জামান, রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান এবং ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও শেখ রবিউল আলমের মতো নতুন মুখ। এ ছাড়া প্রবীণ নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবারই প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, কোন আসন থেকে মন্ত্রী হলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আলাপকে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির এই বিষয়ে দক্ষতা কেমন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সেদিক দিয়ে এই মন্ত্রিসভা ‘ব্যালেন্সড’ হয়েছে মন্তব্য করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, “খুব বেশি ভালোও বলা যাচ্ছে না আবার খুব খারাপও বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রিসভা ব্যালেন্সড।”
নারীর অংশগ্রহণ
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে থাকছেন আফরোজা খানম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন।
মন্ত্রিসভায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, অন্তত ১০ শতাংশ নারী হওয়া উচিত ছিল। ৫০ জনের মন্ত্রিসভায় মাত্র তিন জন নারী।
নারীদের সংখ্যা কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানাও।
আলাপকে তিনি বলেন, “এক ধরনের নারী বিদ্বেষী মনোভাব সবসময়ই আমরা দেখে থাকি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা যখন আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে বলি, তখন দেখি নারীবান্ধব আইনগুলোর অনেক প্রয়োজন।
“সংসদের তো আসলে মেইন কাজটাই হচ্ছে আইন তৈরি করা। নারীবান্ধব আইন, নারীবান্ধব পলিসি, নারীর জন্য সত্যি কল্যাণকর, সেগুলো বোঝার জন্য নারীর অংশগ্রহণ বেশি জরুরি।”
সেখানে মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কম থাকার একটা নেতিবাচক প্রভাব থাকবে মত দিয়ে ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, “মন্ত্রিসভায় মাত্র তিনজন। আরেকটু বেশি হতে পারতো বলে মনে হয়। নারীদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে নারীদের একটা জেন্ডার ব্যালেন্স নিশ্চিত করা উচিত, এখন থেকেই সেটা করা উচিত।”
রাজনীতি পর্যবেক্ষক আশরাফ কায়সারও মনে করেন মন্ত্রিসভায় নারীদের সংখ্যা কম হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর নারী নিয়ে অবস্থানে বিপরীতের নারীর মুক্তির কথা বলেছেন তারেক রহমান। তার প্রতিফলন খুব একটা এই মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেত্রী আফরোজা খানম। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে যুক্ত হচ্ছেন বিএনপির অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী দুই নারী মুখ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফারজানা শারমিন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ফারজানা শারমিনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
খলিলুর রহমানের সংযুক্তি
মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তবে তার সংযুক্তি বড় প্রশ্ন তেরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাব্বির আহমেদ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপকের মতে, এই মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাখছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদমর্যাদার খলিলুর রহমানের সংযুক্তি। তিনি বলেন, এই সংযুক্তি আগের সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
“আগের সরকার বিএনপির হয়ে কাজ করেছে, এটা স্পেকুলেট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সংযুক্তিতে।”
তার এই সংযুক্তি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আশরাফ কায়সারও। এই রাজনীতি পর্যবেক্ষক বলেন, “একইসঙ্গে এটা চমক ও প্রশ্নের। এটা কি প্রয়োজন নাকি আগের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”
“নিশ্চিতভাবে এই বিষয় নিয়ে অনেকদিন আলোচনা চলবে।”
শরিক দলের সদস্যরা
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে সাথে নিয়েই নির্বাচন করেছিল তারা। ভোটেও সেই ফল পেয়েছে। এবার একাধিক নেতাকে বিএনপি ঠাঁই দিয়েছে মন্ত্রিসভায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডাকসু) এর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও এনডিএমের সাবেক সভাপতি ববি হাজ্জাজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
আশরাফ কায়সার বলছেন, তারেক রহমান যে বলছিলেন যে সবাইকে ‘একোমোডেট’ করবেন। এটা তারই প্রতিফলন।
আরও আলোচনায় যারা
গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন এবার শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন। চাঁদপুর–১ আসনের এই সংসদ সদস্য ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এই আসন থেকে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া বিএনপি প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী করা হচ্ছে। সাফজয়ী এই ফুটবলার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে একাধিক গণমাধ্যম রিপোর্ট করেছে।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ছয়বারই বিজয়ী হয়েছেন।
এ ছাড়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, এ জে এম জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিনু, মো. আসাদুজ্জামান সবাই মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছেন।
শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টারা হলেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আর প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
এখন পর্যন্ত বিএনপির এম কে আনোয়ার ও মঈন খানের মতো সিনিয়র নেতাদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে তাদের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচিত করা হতে পারে।
বিষয়: