তিস্তা প্রকল্পে সহায়তার আশ্বাস চীনের

যৌথ বিবৃতিতে পানি সম্পদ, নদী ব্যবস্থাপনা তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি; একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সংযোগ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ চীন।

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতি সক্ষমতার মধ্যে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে বেইজিং।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানি পরিকল্পনা, জলবিদ্যাগত পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে দুই দেশ। পাশাপাশি সামুদ্রিক বিষয়েও সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে। 

দুই দেশ তাদের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বকে নতুন যুগের “অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়” গঠনের পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ ব্যবস্থার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য চীনের শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধার প্রশংসা করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে মংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

সংযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের নতুন সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা হবে।

যৌথ বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষা, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া চীন বাংলাদেশের ব্রিকসে অংশগ্রহণ এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) অংশীদার হওয়ার আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সফরকালে উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা, মানবসম্পদ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক সহযোগিতা দলিলও সাক্ষর হয়েছে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গত ২২এ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার চীন সফরে যান তারেক রহমান। সফরকালে তিনি দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০২৬-এর ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেন এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও জাতীয় গণকংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।