বদলে যাচ্ছে অর্থবছর, হিসাবের খাতায় চাপ কতটা

জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর করছে সরকার, এতে শুধু সরকার বা প্রতিষ্ঠানই নয় বদলে যাবে ব্যক্তির হিসাবের খাতাও। সরকার বলছে এতে বর্ষার আগে উন্নয়নকাজ শেষের সুযোগ বাড়বে; তবে বিপুল ট্রানজিশন কস্টের প্রশ্নে ক্যালেন্ডার ইয়ারই ভালো বিকল্প ছিলো কি না, তা নিয়েও বিতর্ক আছে।

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

অর্থবছরের শেষ মানেই উন্নয়নকাজ শেষ করার তাড়া। বাংলাদেশে সেই তাড়ার সময়টা পড়ে বর্ষার শুরুতে। জুলাই-জুন অর্থবছরের শেষ তিন মাসে সড়ক, সেতু, ভবনসহ নানা অবকাঠামো প্রকল্প শেষ করতে গিয়ে একদিকে কাজের গতি কমে, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের ব্যয়ের চাপ বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার অভিযোগও ওঠে। এবার সেই চক্র থেকে বের হতে অর্থবছরই বদলে দিচ্ছে সরকার।

২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চ হবে বাংলাদেশের নতুন অর্থবছর। এর আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের ট্রানজিশনাল বছর। 

সরকারের হিসাব, মার্চে অর্থবছর শেষ হলে বর্ষা শুরুর আগেই উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ বাড়বে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মান ও গতি দুটিই উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু অর্থবছর বদলানো মানে শুধু ক্যালেন্ডারে তিন মাস এগিয়ে আসা নয়। বদলাতে হবে আইন, বাজেটের সময়সূচি, করবর্ষ, সরকারি-বেসরকারি হিসাব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার। 

অর্থাৎ একদিকে বর্ষার সমস্যা কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে একবারে বড় ধরনের পরিবর্তনের খরচ।

সরকার এখনো এই পরিবর্তনের জন্য কত টাকা লাগবে, তার কোনো হিসাব দেয়নি। আর এখানেই বড় প্রশ্ন- যখন এত বড় পরিবর্তনের খরচ করতেই হবে, তখন এপ্রিল-মার্চই কেন; জানুয়ারি-ডিসেম্বরের ক্যালেন্ডার ইয়ারও কি সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিলো না?

বিশ্বের অন্যান্য দেশে কোন ভাবনায় ঠিক হয় অর্থবছর?

বর্ষা ও কৃষি ফসলের যুক্তি

বর্তমান অর্থবছর শেষ হয় জুনে। কিন্তু মে-জুন থেকেই বর্ষার প্রভাব বাড়তে থাকে। ফলে অর্থবছরের শেষ দিকে উন্নয়নকাজ শেষ করার চাপের সঙ্গে যুক্ত হয় আবহাওয়ার বাধা।

সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্ষার কারণে অবকাঠামো উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হয়, গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনদুর্ভোগ তৈরি হয়। এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর হলে বর্ষার আগেই এসব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানও এই যুক্তিতে যৌক্তিকতা দেখছেন। 

আলাপকে তিনি বলেন, “সরকার যে যুক্তি দিয়েছে তার পেছনে যৌক্তিকতা আছে। কারণ জুন-জুলাই বর্ষা মৌসুম থাকায় অনেক কাজ ধীর হয়ে যায়। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যে ফসল বোরো ধান, সেটা কাটা শুরু হয় মে মাস থেকে। তাই এটা বাজেটে অ্যাড্রেস করা কঠিন হয়। এদিক থেকে নতুন পরিকল্পনার এপ্রিল-মার্চ ঠিক আছে।”

অর্থাৎ জুলাই-জুনের তুলনায় এপ্রিল-মার্চে অর্থবছরের শেষটা এমন সময়ে আসবে, যখন বর্ষার বাধা কম। সরকারের সবচেয়ে বড় যুক্তি এখানেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক।

নয় মাসের অর্থবছর

তবে পরিবর্তনটি সরাসরি জুলাই-জুন থেকে এপ্রিল-মার্চে হবে না। ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল বছর ধরে জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত নয় মাসে অর্থবছর শেষ করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ থেকে শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর।

এই নয় মাসের সময়টিই তৈরি করছে আরেক ধরনের হিসাবের প্রশ্ন। একটি পূর্ণ ১২ মাসের অর্থবছর শেষ করে পরের বছর শুরু করার বদলে মাত্র নয় মাসের একটি হিসাবকাল তৈরি হবে। রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন বাজেট, ঘাটতি ও বিভিন্ন আর্থিক সূচকের সঙ্গে আগের বছরের তুলনাও তখন সহজ হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের আশংকা, এখানেই ভুল-ভ্রান্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

আলাপকে তিনি বলেন, “যেটা ট্রানজিশন ইয়ার হবে, নয় মাসের; সেটার হিসাব অ্যানুয়ালি করতে হবে। এতে সমস্যা নয় ভুল ভ্রান্তিও হবে।”

তবে বিষয়টি শুধু নয় মাসের হিসাবেই শেষ নয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের রদবদল করতে হবে।

একবারে বদলাতে হবে অনেক কিছু

অর্থবছর পরিবর্তনের জন্য সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ সংশোধন করতে হবে বলে জানিয়েছে সরকার। 

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সময়সীমা বদলাবে। করবর্ষ বদলাবে। বাজেট ও আর্থিক রিপোর্টিংয়ের সময়সূচি বদলাবে। 

বিভিন্ন সফটওয়্যার নতুন সময়সীমায় নিতে হবে। পুরোনো ও নতুন হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য করতেও আলাদা কাজ করতে হবে।

অর্থাৎ পরিবর্তনের খরচ শুধু সরকারের ঘাড়ে থাকবে না; ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানকেই নতুন ব্যবস্থায় যেতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর তাই মনে করেন, আগে হিসাব করা দরকার এই পরিবর্তন কতটা যুক্তিসঙ্গত। 

তার ভাষায়, “প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে, অর্থ বছর পরিবর্তনের যে ট্রানজিশন কস্ট হবে সেটা কি জাস্টিফাই? কারণ এখানে সব কিছু পরিবর্তন করতে হবে। যেটা বিশাল। সরকারি বেসরকারি সব সংস্থার খাতা পত্রের সব হিসাব বদলে যাবে। সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে হবে।”

তার প্রশ্ন শুধু খরচ নিয়েই নয়, আক্ষরিক অর্থেই এতে বড় কোনো পরিবর্তন হবে নাকি, সেটা নিয়েও। 

“অর্থ বছর পরিবর্তন করা হচ্ছে এতে যে বড় ধরনের গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে, আমার সেটা মনে হয় না,” বলেছেন তিনি।

বিশ্বের দেশগুলো কোন পথে

অর্থবছরের ক্ষেত্রে বিশ্বে একক কোনো মডেল নেই। তবে জানুয়ারি-ডিসেম্বর বা ক্যালেন্ডার ইয়ার বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ দেশের বাৎসরিক ডেটা ক্যালেন্ডার ইয়ারের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়। 

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ কিছু দেশ আলাদা অর্থবছর অনুসরণ করে।

জানুয়ারি-ডিসেম্বর: চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও ব্রাজিলসহ বহু দেশ জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করে। চীনের সরকারি বাজেট বছর ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১এ ডিসেম্বর। জার্মানিতেও অর্থবছর মিলে যায় ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে।

এ ধরনের ব্যবস্থায় সরকারি আর্থিক হিসাব এবং ক্যালেন্ডার ইয়ারের ভিত্তিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক তথ্য একই সময়সীমায় থাকে। 

ফলে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক তথ্য তুলনার ক্ষেত্রে সময়সীমার পার্থক্য কম থাকে।

পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের অর্থবছর তবে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ছিলো বলে জানান আহসান এইচ মনসুর।

এপ্রিল-মার্চ: ভারত, জাপান, কানাডা ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর অনুসরণ করে। ভারতের অর্থবছর ১লা এপ্রিল থেকে পরবর্তী বছরের ৩১এ মার্চ। 

জাপান ও কানাডার ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা।

বাংলাদেশ এপ্রিল-মার্চে গেলে এই দেশগুলোর সঙ্গে অর্থবছরের সময়কাল মিলে যাবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রে এটি একটি বাড়তি সুবিধা হতে পারে।

জুলাই-জুন ও অন্য মডেল: বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ জুলাই-জুন অর্থবছর অনুসরণ করে। 

আবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অর্থবছর অক্টোবর-সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ জুলাই-জুন থেকে বের হওয়াই যে একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রবণতা, তা নয়।

তবে বাংলাদেশ যে এপ্রিল-মার্চে যাচ্ছে, সেটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি মডেল। আর জানুয়ারি-ডিসেম্বরও বহু বড় অর্থনীতির ব্যবহৃত মডেল বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

ক্যালেন্ডার ইয়ারের প্রশ্ন কেন

আহসান এইচ মনসুরের যুক্তি হলো, যদি বর্ষার কারণেই অর্থবছর বদলানো হয়, তাহলে জানুয়ারি-ডিসেম্বরও বিবেচনায় আসা উচিত। 

তিনি বলেন, “তবে সেটাই যদি কারণ হয় তাহলে ক্যালেন্ডার ইয়ারই তো অর্থবছর করা ভালো। তাকে এখন যে দুই ধরনের হিসাব করা হয় সেটার প্রয়োজন পড়বে না। আর ওই সময় শুষ্ক মৌসুম থাকে। ক্যালেন্ডারইয়ার সব ঝামেলামুক্ত।”

এখানে আন্তর্জাতিক হিসাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের বাৎসরিক ডেটার বড় অংশ ক্যালেন্ডার ইয়ার ভিত্তিক। 

ফলে বাংলাদেশ জানুয়ারি-ডিসেম্বর করলে সরকারি আর্থিক হিসাব ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত সময়সীমার মধ্যে সামঞ্জস্য বাড়তো।

তবে ক্যালেন্ডার ইয়ারে গেলে বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের সময়সূচিও বদলাতে হতো। ১ জানুয়ারি নতুন অর্থবছর শুরু করতে হলে বছরের শুরুতেই বাজেট কার্যকর করার প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। অর্থাৎ বর্তমান জুনের বাজেট প্রক্রিয়াকে আরও আগে নিয়ে আসতে হবে।

তবে জানুয়ারি-ডিসেম্বরের তুলনায় এপ্রিল-মার্চকে এগিয়ে রাখার কারণও দেখছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান।

“ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনেক ফেস্টিভ থাকে, ছুটি থাকে। বিয়ে, ক্রিসমাস, স্কুল কলেজ বন্ধ তাই আমার মনে হয় জানুয়ারি-ডিসেম্বরের চেয়ে এপ্রিল-মার্চ ভালো সিদ্ধান্ত,” আলাপকে বলেছেন তিনি। 

ব্যবসায়ীদের বড় আপত্তি নেই

ব্যবসায়ীদের মধ্যে এপ্রিল-মার্চ নিয়ে বড় ধরনের আপত্তি নেই। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আলাপকে বলেন, “আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য এতে বড় ধরনের লাভ ক্ষতির কিছু নেই। সরকার যদি মনে করে এতে অ্যানভানটেজ আছে তাহলে করতেই পারে।”

তবে অর্থবছর পরিবর্তন করতেই হলে তার প্রশ্ন, “ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে কেন নয়?”

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক মনে করেন। 

তিনি আলাপকে বলেন, “আমার কাছে মনে হয় এটা গুড ইনিশিয়েটিভ। এর আগেও এটা নিয়ে কথা হয়েছিল। এবার এটা হতে যাচ্ছে। তবে এতে আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ আছে বলে আমার মনে হয় না।”

সিদ্ধান্তের আগে তুলনাটা জরুরি

অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নেই ড. মোস্তাফিজুর রহমানেরও। তবে তার মতে, এপ্রিল-মার্চ ও জানুয়ারি-ডিসেম্বর—দুই সময়সীমার সুবিধা-অসুবিধা আগে পর্যালোচনা করা দরকার ছিলো।

“সরকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে না দিয়ে আগে আলাপ আলোচনা করলে ভালো হতো। তাতে দুটি যে উইন্ডো আছে তার ভালো মন্দ, আমাদের জন্য কোনটা ভালো, কেন ভালো সেটা বুঝতে সুবিধা হতো,” আলাপকে বলেছেন তিনি।

এখন সরকার যে অংশীজন কমিটি করবে, তাদের কাজ তাই শুধু নতুন অর্থবছর কীভাবে চালু হবে তা ঠিক করা নয়। কোন সময়সীমায় রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন প্রকল্প, করবর্ষ ও বেসরকারি খাতের হিসাব সবচেয়ে কার্যকর হবে, সেটিও দেখা দরকার।

ড. মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষায়, “অংশীজনদের নিয়ে যে কমিটি গঠন করা হবে তারা যেনো এগুলো ভেবে দেখেন। সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন। কারণ এতে শুধু রাষ্ট্র নয়, বেসরকারি এমনকি একবারে ব্যক্তিপর্যায়েও প্রভাব ফেলবে। কারণ ট্যাক্স ইয়ার বদলে যাবে। তাছাড়া পুরো সিস্টেম পাল্টে ফেলতে খরচও হবে।”

ফলে জুলাই-জুন থেকে এপ্রিল-মার্চে যাওয়া সরকারের জন্য বর্ষার সমস্যা কমানোর একটি বাস্তব উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে যে বড় পরিবর্তনের খরচ, নয় মাসের ট্রানজিশন এবং পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় রদবদল জড়িয়ে আছে, সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

অর্থবছর বদলের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে; এখন মূল হিসাব হলো- এই পরিবর্তনের খরচের বিপরীতে এপ্রিল-মার্চ কতটা বাড়তি সুবিধা দেবে, আর ক্যালেন্ডার ইয়ার বিবেচনায় নিলে সেই সুবিধা আরও কতটা বাড়তে পারতো।