জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি প্রবেশ, নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকির সমীকরণ
বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতের প্রবেশের উদ্যোগ ঘিরে বড় প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। বিদ্যুত ও এলপিজির অভিজ্ঞতার পর এবার তেল ব্যবসাও বেসরকারি হাতে গেলে দাম, সরবরাহ, মজুত ও জ্বালানি নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়বে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মডেল আর বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা কী বলছে?
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ পিএমআপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে চায় সরকার।
বিদ্যুত উৎপাদনে বেসরকারি খাতের ‘লুটপাট’ নিয়ে বাংলাদেশে যখন তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে, তখন আরেকটি ঘটনা নিয়ে জোরেশোরে উঠছে প্রশ্ন। এবার কি জ্বালানি তেলের বাজারও চলে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে?
কারণ এতদিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যে বাজার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, সেখানে বেসরকারি কোম্পানিকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহের কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে চায় সরকার।
তাহলে কি আগের সরকারের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার?
প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিদ্যুতের সঙ্গে ও এলপিজির অভিজ্ঞতার কারণে।
বিদ্যুতে বেসরকারি কেন্দ্রের জন্য বড় অংকের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হয়েছে রাষ্ট্রকে। আর এলপিজিতে সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দাম কার্যকর করা কঠিন।
জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও যদি একইভাবে বেসরকারি খাত বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে লাভ, ঝুঁকি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সমীকরণটা কী দাঁড়াবে?
প্রশ্ন উঠেছে এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, নাকি রাষ্ট্রের হাতে থাকা একটি কৌশলগত খাত ধীরে ধীরে বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে? তাতে জ্বালানির দাম, সরবরাহ, মজুত, মান নিয়ন্ত্রণ এবং চলতি বছরের শুরুতে দেখা দেওয়া সংকটের সময়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা কী হবে?
খুঁজে দেখা যাক বাংলাদেশ বিদ্যুত ও এলপিজির অভিজ্ঞতা থেকে কি শিক্ষা পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের এই ব্যবস্থা কেমন।
যেভাবে যাত্রা, আগ্রহ কাদের
জ্বালানি তেলের বাজারে বসুন্ধরার প্রবেশের গল্প আজকের নয়। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে বিটুমিন উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি পাওয়ার পর ২০১৭ সালে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমতি চায় প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তী কয়েক বছর বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলে। ২০২০ সালে বসুন্ধরাকে উৎপাদিত বিটুমিন সরাসরি ক্রেতার কাছে এবং ডিজেল বিপিসির কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। ফার্নেস অয়েল ও ন্যাপথা বাজারজাতের ক্ষেত্রেও বিপিসির অনুমতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায় তারা।
এরপর আসে বড় পরিবর্তন।
২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন সরকার ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ জারি করে।
প্রথমআলোর এক প্রতিবেদনে বলছে, একটি বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল বিক্রির নীতিমালা করা হয়। কারণ এই নীতিমালা তৈরি হওয়ার পর আবেদন করেছিলো একটি মাত্র গ্রুপ।
যার প্রেক্ষিতে ৫ই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস আগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রির অনুমোদন পায় বসুন্ধরা গ্রুপ।
২০২৪ সালের ১০এ জুন বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাসকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতিও দেওয়া সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিষয়টি আলোচনায় ছিলো। কিন্তু অনুমোদন বাতিল হয়নি। বরং তারেক রহমানের সরকার আসার পর আলোচনা হচ্ছে অপরিশোধিত নয় সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন আবেদন। দুটি প্রতিষ্ঠান সেখানে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
প্রতিষ্ঠান দুটির নাম- আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) এবং বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ওপিসি।
গত ২৪ মে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বছরে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রির অনুমতি চাওয়া হয়।
আবেদনটি ২ জুলাই বিপিসিতে পাঠায় জ্বালানি বিভাগ। ১৪ জুলাই বিপিসি ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে শুধু কোম্পানির কারিগরি সক্ষমতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় তিন বিপণন কোম্পানির বাজার হিস্যা, রাজস্ব, সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও যাচাই করতে বলা হয়।
এরপর ৬ অগাস্ট জ্বালানি বিভাগ বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দেয়।
প্রথমে ১০ অগাস্টের মধ্যে খসড়া চাওয়া হলেও পরে সরকার বলছে, বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
এর মধ্যেই শুধু বসুন্ধরা নয়, বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ওপিসি নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও বিপিসিতে এমন অনুমতির আবেদন করেছিল।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বখতিয়ার আহমেদ রনি অবশ্য জানিয়েছেন, বছরের শুরুতে আবেদন করলেও সেই পরিকল্পনা এখন আর তাদের নেই।
তার মানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতেও একক খেলোয়াড় কেবল সেই বসুন্ধরা।
বিদ্যুত ও এলপিজি’র উদাহরণ ভয় বাড়াচ্ছে
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গাটা শুধু একটি কোম্পানি বাজারে ঢুকবে কি না, তা নয়। বরং রাষ্ট্রের হাতে থাকা কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের কাঠামো কীভাবে বদলাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) উদাহরণ দেন।
তারা বলছেন, এলপিজি খাত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলেও, তা কেউ মানে না। মাশুল দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
বর্তমানে দেশে এলপিজি ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারি অংশ মাত্র ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যুত ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজেই এই হিসাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন যদিও প্রতি মাসে এর দাম নির্ধারণ করে, কিন্তু সরবরাহ, আমদানি, সংরক্ষণ, বোতলজাত ও ডিলার নেটওয়ার্কের বড় অংশ বেসরকারি হাতে থাকায় সেই দাম কার্যকর হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুত খাত এখন বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে।
বেসরকারি খাতকে জ্বালানি অবকাঠামোয় যুক্ত করার প্রশ্নে বাংলাদেশের বিদ্যুত খাত সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
গত সাড়ে ১৪ বছরে বেসরকারি আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোকে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ ও কেন্দ্রভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এখনও সেই চুক্তির বোঝা কাটেনি। চলতি বছর বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে ১২ই জুন জানিয়েছেন, আগের সরকারের করা চুক্তিতে সার্বভৌম গ্যারান্টি থাকায় ক্যাপাসিটি চার্জ কমাতে বা চুক্তি বাতিল করতে সরকারের দরকষাকষির সুযোগ সীমিত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমের ভাষায়, “সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জ্বালানির মতো একটি স্পর্শকাতর ব্যবসা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে এখানে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে।”
তার আশংকা, বিদ্যুত খাতের অভিজ্ঞতার পর জ্বালানি তেলেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ অগ্রাধিকার পেতে পারে।
কারণ কাগজে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সরবরাহ, ডিলার নেটওয়ার্ক ও বাস্তব লেনদেন বেসরকারি খাতে চলে গেলে নিয়ন্ত্রণ কতটা অকার্যকর হয়ে পড়ে তার উদাহরণ বিদ্যুত এবং এলপিজি সিলিন্ডার বাজার।
জ্বালানি তেলেও তাই বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যে রয়েছে- বড় কোম্পানির বাজার দখল, সংকটে সরবরাহ কমে যাওয়া, মজুত ও দাম নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং তেলের মান ও জবাবদিহির ঘাটতি।
আইইইএফ-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম তাই বেসরকারি খাতে যাওয়ার আগে ব্যাপক সম্ভাব্যতা যাচাই ও অংশীজনের মতামতের ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে পেট্রোলপাম্পের মালিকেরা বলছেন, বেসরকারি কোম্পানি শুরুতে কম দামে সরবরাহ করে সরকারি কোম্পানির বাজার নষ্ট করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেট্রোল পাম্প মালিক আলাপ-কে বলেন, “জ্বালানি তেল সরকারি খাতে থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণ সহজ হচ্ছে। তা না থাকলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে মজুত করে দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করতে পারে।”
কেন প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টে আগ্রহ সরকারের
এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ১১ই অগাস্ট বলেন, “সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের সংকট, কালোবাজারি, মজুতদারির তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি বিপণনের বাইরে বেসরকারি খাতেও সম্প্রসারণের চিন্তা করছে সরকার।”
মঙ্গলবার ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরও বলেন, “দেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তাদের বলতে চাই, দেশের ক্রাইসিসকে বাড়িয়ে দিয়ে আপনারা কিছু হাসিল করতে পারবেন না।”
তার ভাষায়, “এখন একটা এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল) বন্ধ হয়েছে আর সারাদেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার লেগে গেছে। গ্যাস সংকট নিয়ে আমরা শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসবো। আমাদের দেশের শিল্পমালিকরা যেন বিপদে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।”
এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়ে ছিলো, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।
সরকার অবশ্য বিষয়টিকে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না।
সংকটের সময়ে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ করা হয়, “এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।”
জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়।
অর্থাৎ সরকারের অবস্থান হচ্ছে এখনও বাজার খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; বরং সম্ভাব্য একটি কাঠামো নিয়ে কাজ হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই কাঠামোতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে?
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বাজার কত, কিভাবে কাজ করে
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের আমদানি, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিপণন মূলত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে।
বিপিসি তেল আমদানি করে, ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল সারা দেশে সরবরাহ ও বিপণন করে।
তবে ভোক্তার কাছে শেষ বিক্রির পর্যায়ে বেসরকারি পেট্রোলপাম্প ও ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানির সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
আর জ্বালানি তেলের দামও সরকার নির্ধারণ করে। এই প্রক্রিয়ায় বিপিসি প্রস্তাব দেয়, আর চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
অর্থাৎ বর্তমান মডেল হচ্ছে- সরকার আমদানি করে, এরপর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিশোধন/সংরক্ষণ/বিতরণ করে, সবশেষে বেসরকারি পাম্পে গিয়ে ভোক্তার কাছে বিক্রি হয়।
বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিলো প্রায় ৭৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি আমদানি ও বিপণন করেছে বিপিসি।
দেশের এই চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করে তার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। গ্যাসের ক্ষেত্রেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানিনির্ভর। অর্থাৎ এটি ছোট কোনো বাজার নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে জুলাই-মে সময়ে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যয় ৯৩ শতাংশ বেড়ে হয় ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানির ব্যয় ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামা করলে তার চাপ সরাসরি পড়ে বিপিসির ওপর।
চলতি বছরের মার্চ থেকে ২৩এ জুন পর্যন্ত মাত্র চার মাসে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রিতে বিপিসির আর্থিক ঘাটতি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিপিসি মুনাফাও করেছে। রাষ্ট্রের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১০ বছরে সংস্থাটি নিট মুনাফা করেছে ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর বড় অংশ প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা লভ্যাংশ, কর ও অন্যান্য খাতে সরকারের কোষাগারে গেছে।
অর্থাৎ বিপিসি শুধু জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নয়; রাষ্ট্রের রাজস্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এবার তাকানো যাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসলে জ্বালানি খাত কীভাবে চলছে।
বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলছে, জ্বালানি খাতে শুধু রাষ্ট্রীয় অথবা শুধু বেসরকারি এমন একক মডেল নেই।
ভারতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো এখনো বাজারের বড় অংশ ধরে রেখেছে। পাশাপাশি রিলায়েন্স, নায়ারা, শেলসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও খুচরা বাজারে রয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও শক্তিশালী।
মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোনাস পুরো জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় শক্তি। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পেট্রোনাসের নিজস্ব খুচরা নেটওয়ার্কেই ১ হাজারের বেশি স্টেশন রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় পেরটামিনা বাজারের প্রধান প্রতিষ্ঠান হলেও শেল, ভিভো ও বিপি-একে-আরের মতো বেসরকারি অপারেটরও রয়েছে। ২০২৫ সালে বেসরকারি স্টেশনগুলো মোট স্টেশনের মাত্র ১৪.৫ শতাংশ হলেও নন-সাবসিডাইজড জ্বালানির বাজারে তাদের অংশ ১৫ শতাংশে উঠেছিল।
নরওয়ে আবার ভিন্ন ধরনের উদাহরণ। দেশটি বেসরকারি কোম্পানিকে পুরোপুরি বাদ দেয়নি। বরং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইকুইনরের ৬৭ শতাংশ মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস খাতে লাইসেন্স, অবকাঠামো ও নিরাপত্তার ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নরওয়ের অভিজ্ঞতা দেখায়, জ্বালানি খাতে রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি থাকতে পারে। তবে মালিকানা, বাজারে প্রতিযোগিতা, দাম ও সরবরাহের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দিলে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে বড় প্রশ্ন হলো দাম, মজুত, সরবরাহ ও তেলের মানের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে? সংকটের সময় আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্বই বা কার থাকবে?
অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নয়; বরং সুযোগ দেওয়ার পরও রাষ্ট্র কীভাবে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করবে, সেটিই মূল বিষয়।
জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি প্রবেশ, নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকির সমীকরণ
বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতের প্রবেশের উদ্যোগ ঘিরে বড় প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। বিদ্যুত ও এলপিজির অভিজ্ঞতার পর এবার তেল ব্যবসাও বেসরকারি হাতে গেলে দাম, সরবরাহ, মজুত ও জ্বালানি নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়বে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মডেল আর বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা কী বলছে?
বিদ্যুত উৎপাদনে বেসরকারি খাতের ‘লুটপাট’ নিয়ে বাংলাদেশে যখন তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে, তখন আরেকটি ঘটনা নিয়ে জোরেশোরে উঠছে প্রশ্ন। এবার কি জ্বালানি তেলের বাজারও চলে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে?
কারণ এতদিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যে বাজার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, সেখানে বেসরকারি কোম্পানিকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহের কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে চায় সরকার।
তাহলে কি আগের সরকারের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার?
প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিদ্যুতের সঙ্গে ও এলপিজির অভিজ্ঞতার কারণে।
বিদ্যুতে বেসরকারি কেন্দ্রের জন্য বড় অংকের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হয়েছে রাষ্ট্রকে। আর এলপিজিতে সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে সেই দাম কার্যকর করা কঠিন।
জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও যদি একইভাবে বেসরকারি খাত বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে লাভ, ঝুঁকি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সমীকরণটা কী দাঁড়াবে?
প্রশ্ন উঠেছে এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, নাকি রাষ্ট্রের হাতে থাকা একটি কৌশলগত খাত ধীরে ধীরে বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে? তাতে জ্বালানির দাম, সরবরাহ, মজুত, মান নিয়ন্ত্রণ এবং চলতি বছরের শুরুতে দেখা দেওয়া সংকটের সময়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা কী হবে?
খুঁজে দেখা যাক বাংলাদেশ বিদ্যুত ও এলপিজির অভিজ্ঞতা থেকে কি শিক্ষা পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের এই ব্যবস্থা কেমন।
যেভাবে যাত্রা, আগ্রহ কাদের
জ্বালানি তেলের বাজারে বসুন্ধরার প্রবেশের গল্প আজকের নয়। প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে বিটুমিন উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি পাওয়ার পর ২০১৭ সালে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমতি চায় প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তী কয়েক বছর বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলে। ২০২০ সালে বসুন্ধরাকে উৎপাদিত বিটুমিন সরাসরি ক্রেতার কাছে এবং ডিজেল বিপিসির কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। ফার্নেস অয়েল ও ন্যাপথা বাজারজাতের ক্ষেত্রেও বিপিসির অনুমতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায় তারা।
এরপর আসে বড় পরিবর্তন।
২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন সরকার ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ জারি করে।
প্রথমআলোর এক প্রতিবেদনে বলছে, একটি বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল বিক্রির নীতিমালা করা হয়। কারণ এই নীতিমালা তৈরি হওয়ার পর আবেদন করেছিলো একটি মাত্র গ্রুপ।
যার প্রেক্ষিতে ৫ই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস আগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রির অনুমোদন পায় বসুন্ধরা গ্রুপ।
২০২৪ সালের ১০এ জুন বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাসকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতিও দেওয়া সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিষয়টি আলোচনায় ছিলো। কিন্তু অনুমোদন বাতিল হয়নি। বরং তারেক রহমানের সরকার আসার পর আলোচনা হচ্ছে অপরিশোধিত নয় সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন আবেদন। দুটি প্রতিষ্ঠান সেখানে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
প্রতিষ্ঠান দুটির নাম- আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) এবং বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ওপিসি।
গত ২৪ মে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বছরে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রির অনুমতি চাওয়া হয়।
আবেদনটি ২ জুলাই বিপিসিতে পাঠায় জ্বালানি বিভাগ। ১৪ জুলাই বিপিসি ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে শুধু কোম্পানির কারিগরি সক্ষমতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় তিন বিপণন কোম্পানির বাজার হিস্যা, রাজস্ব, সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও যাচাই করতে বলা হয়।
এরপর ৬ অগাস্ট জ্বালানি বিভাগ বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দেয়।
প্রথমে ১০ অগাস্টের মধ্যে খসড়া চাওয়া হলেও পরে সরকার বলছে, বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের মতামত ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
এর মধ্যেই শুধু বসুন্ধরা নয়, বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ওপিসি নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও বিপিসিতে এমন অনুমতির আবেদন করেছিল।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বখতিয়ার আহমেদ রনি অবশ্য জানিয়েছেন, বছরের শুরুতে আবেদন করলেও সেই পরিকল্পনা এখন আর তাদের নেই।
তার মানে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতেও একক খেলোয়াড় কেবল সেই বসুন্ধরা।
বিদ্যুত ও এলপিজি’র উদাহরণ ভয় বাড়াচ্ছে
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গাটা শুধু একটি কোম্পানি বাজারে ঢুকবে কি না, তা নয়। বরং রাষ্ট্রের হাতে থাকা কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের কাঠামো কীভাবে বদলাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) উদাহরণ দেন।
তারা বলছেন, এলপিজি খাত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে। সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলেও, তা কেউ মানে না। মাশুল দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
বর্তমানে দেশে এলপিজি ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারি অংশ মাত্র ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যুত ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজেই এই হিসাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন যদিও প্রতি মাসে এর দাম নির্ধারণ করে, কিন্তু সরবরাহ, আমদানি, সংরক্ষণ, বোতলজাত ও ডিলার নেটওয়ার্কের বড় অংশ বেসরকারি হাতে থাকায় সেই দাম কার্যকর হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুত খাত এখন বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে।
বেসরকারি খাতকে জ্বালানি অবকাঠামোয় যুক্ত করার প্রশ্নে বাংলাদেশের বিদ্যুত খাত সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
গত সাড়ে ১৪ বছরে বেসরকারি আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোকে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ ও কেন্দ্রভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এখনও সেই চুক্তির বোঝা কাটেনি। চলতি বছর বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে ১২ই জুন জানিয়েছেন, আগের সরকারের করা চুক্তিতে সার্বভৌম গ্যারান্টি থাকায় ক্যাপাসিটি চার্জ কমাতে বা চুক্তি বাতিল করতে সরকারের দরকষাকষির সুযোগ সীমিত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমের ভাষায়, “সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জ্বালানির মতো একটি স্পর্শকাতর ব্যবসা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে এখানে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে।”
তার আশংকা, বিদ্যুত খাতের অভিজ্ঞতার পর জ্বালানি তেলেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ অগ্রাধিকার পেতে পারে।
কারণ কাগজে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সরবরাহ, ডিলার নেটওয়ার্ক ও বাস্তব লেনদেন বেসরকারি খাতে চলে গেলে নিয়ন্ত্রণ কতটা অকার্যকর হয়ে পড়ে তার উদাহরণ বিদ্যুত এবং এলপিজি সিলিন্ডার বাজার।
জ্বালানি তেলেও তাই বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যে রয়েছে- বড় কোম্পানির বাজার দখল, সংকটে সরবরাহ কমে যাওয়া, মজুত ও দাম নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং তেলের মান ও জবাবদিহির ঘাটতি।
আইইইএফ-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম তাই বেসরকারি খাতে যাওয়ার আগে ব্যাপক সম্ভাব্যতা যাচাই ও অংশীজনের মতামতের ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে পেট্রোলপাম্পের মালিকেরা বলছেন, বেসরকারি কোম্পানি শুরুতে কম দামে সরবরাহ করে সরকারি কোম্পানির বাজার নষ্ট করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেট্রোল পাম্প মালিক আলাপ-কে বলেন, “জ্বালানি তেল সরকারি খাতে থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণ সহজ হচ্ছে। তা না থাকলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে মজুত করে দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করতে পারে।”
কেন প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টে আগ্রহ সরকারের
এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ১১ই অগাস্ট বলেন, “সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের সংকট, কালোবাজারি, মজুতদারির তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি বিপণনের বাইরে বেসরকারি খাতেও সম্প্রসারণের চিন্তা করছে সরকার।”
মঙ্গলবার ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরও বলেন, “দেশের ক্রাইসিস মোমেন্টে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তাদের বলতে চাই, দেশের ক্রাইসিসকে বাড়িয়ে দিয়ে আপনারা কিছু হাসিল করতে পারবেন না।”
তার ভাষায়, “এখন একটা এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল) বন্ধ হয়েছে আর সারাদেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার লেগে গেছে। গ্যাস সংকট নিয়ে আমরা শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসবো। আমাদের দেশের শিল্পমালিকরা যেন বিপদে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।”
এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়ে ছিলো, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।
সরকার অবশ্য বিষয়টিকে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না।
সংকটের সময়ে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ করা হয়, “এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।”
জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়।
অর্থাৎ সরকারের অবস্থান হচ্ছে এখনও বাজার খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; বরং সম্ভাব্য একটি কাঠামো নিয়ে কাজ হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই কাঠামোতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে?
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বাজার কত, কিভাবে কাজ করে
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের আমদানি, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও পাইকারি বিপণন মূলত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে।
বিপিসি তেল আমদানি করে, ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল সারা দেশে সরবরাহ ও বিপণন করে।
তবে ভোক্তার কাছে শেষ বিক্রির পর্যায়ে বেসরকারি পেট্রোলপাম্প ও ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানির সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
আর জ্বালানি তেলের দামও সরকার নির্ধারণ করে। এই প্রক্রিয়ায় বিপিসি প্রস্তাব দেয়, আর চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
অর্থাৎ বর্তমান মডেল হচ্ছে- সরকার আমদানি করে, এরপর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিশোধন/সংরক্ষণ/বিতরণ করে, সবশেষে বেসরকারি পাম্পে গিয়ে ভোক্তার কাছে বিক্রি হয়।
বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিলো প্রায় ৭৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি আমদানি ও বিপণন করেছে বিপিসি।
দেশের এই চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ পেট্রোলিয়াম পণ্য ব্যবহার করে তার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। গ্যাসের ক্ষেত্রেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানিনির্ভর। অর্থাৎ এটি ছোট কোনো বাজার নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে জুলাই-মে সময়ে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যয় ৯৩ শতাংশ বেড়ে হয় ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য ও লুব্রিকেন্ট আমদানির ব্যয় ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামা করলে তার চাপ সরাসরি পড়ে বিপিসির ওপর।
চলতি বছরের মার্চ থেকে ২৩এ জুন পর্যন্ত মাত্র চার মাসে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রিতে বিপিসির আর্থিক ঘাটতি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিপিসি মুনাফাও করেছে। রাষ্ট্রের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ১০ বছরে সংস্থাটি নিট মুনাফা করেছে ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর বড় অংশ প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা লভ্যাংশ, কর ও অন্যান্য খাতে সরকারের কোষাগারে গেছে।
অর্থাৎ বিপিসি শুধু জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নয়; রাষ্ট্রের রাজস্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এই জায়গাটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের উদাহরণে বেসরকারি খাত এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ
এবার তাকানো যাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসলে জ্বালানি খাত কীভাবে চলছে।
বিশ্বের অভিজ্ঞতা বলছে, জ্বালানি খাতে শুধু রাষ্ট্রীয় অথবা শুধু বেসরকারি এমন একক মডেল নেই।
ভারতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলো এখনো বাজারের বড় অংশ ধরে রেখেছে। পাশাপাশি রিলায়েন্স, নায়ারা, শেলসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও খুচরা বাজারে রয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর উপস্থিতিও শক্তিশালী।
মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোনাস পুরো জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় শক্তি। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পেট্রোনাসের নিজস্ব খুচরা নেটওয়ার্কেই ১ হাজারের বেশি স্টেশন রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় পেরটামিনা বাজারের প্রধান প্রতিষ্ঠান হলেও শেল, ভিভো ও বিপি-একে-আরের মতো বেসরকারি অপারেটরও রয়েছে। ২০২৫ সালে বেসরকারি স্টেশনগুলো মোট স্টেশনের মাত্র ১৪.৫ শতাংশ হলেও নন-সাবসিডাইজড জ্বালানির বাজারে তাদের অংশ ১৫ শতাংশে উঠেছিল।
নরওয়ে আবার ভিন্ন ধরনের উদাহরণ। দেশটি বেসরকারি কোম্পানিকে পুরোপুরি বাদ দেয়নি। বরং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইকুইনরের ৬৭ শতাংশ মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস খাতে লাইসেন্স, অবকাঠামো ও নিরাপত্তার ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নরওয়ের অভিজ্ঞতা দেখায়, জ্বালানি খাতে রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাত পাশাপাশি থাকতে পারে। তবে মালিকানা, বাজারে প্রতিযোগিতা, দাম ও সরবরাহের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দিলে বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে বড় প্রশ্ন হলো দাম, মজুত, সরবরাহ ও তেলের মানের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে? সংকটের সময় আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্বই বা কার থাকবে?
অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নয়; বরং সুযোগ দেওয়ার পরও রাষ্ট্র কীভাবে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করবে, সেটিই মূল বিষয়।
বিষয়: