জ্বালানির দাম বাড়তেই বেড়েছে পরিবহন ও রান্না খরচ। একদিনেই চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। তেল-গ্যাসের এই চেইন রিঅ্যাকশন শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাপে ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মেরাজ মেভিজ
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএমআপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি একটি চক্র। যার প্রভাব দ্রব্যমূল্য, পরিবহন হয়ে অবশ্যম্ভাবী ভাবে বাড়িয়ে দেবে দ্রব্যমূল্যের দাম
শফিক রহমান সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য রাইড শেয়ার অ্যাপে দেখলেন স্বাভাবিক সময়ের ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকার ভাড়া দেখানো হচ্ছে ১৮২ টাকা। কিন্তু রাইডার হাফিজুল ফোন দিয়ে তাকে জানিয়ে দিলেন ২০০ টাকা মিলিয়ে দিলে আসবেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার পর, দিনের শুরুতেই তার খরচ বেড়ে গেছে প্রায় ৩৫ টাকা।
অফিস শেষে গেলেন কাঁচা বাজারে, যেখানে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। যুক্তি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
বাজার শেষে সন্ধ্যায় যখন রান্নার জন্য এলপিজি কিনতে গেলেন, শুনলেন সেখানে এক ধাক্কায় দাম বেড়ে গেছে ২১২ টাকা প্রতি সিলিন্ডারে।
সহজ করে বললে, তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সকালে যানবাহন থেকে দুপুরের মধ্যে সরাসরি পৌঁছে গেছে তার ভাতের থালায়।
“তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি একটি চক্র। যার প্রভাব দ্রব্যমূল্য, পরিবহন হয়ে অবশ্যম্ভাবী ভাবে বাড়িয়ে দেবে দ্রব্যমূল্যের দাম,” আলাপ-কে বলছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
কীভাবেপ্রভাবপড়ে
ধরুন আপনার যদি নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকে, তাহলে আপনার যাতায়াত খরচ এক রাতের ব্যবধানেই বেড়ে গেছে ১৫ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ।
স্বস্তিতে থাকবেন না গণপরিবহন ব্যবহারকারীরাও। অতীতেও দেখা গেছে সরকার যতবারই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বাসের ভাড়া।
“জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে প্রভাব পড়লে এর প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রে। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে,” আলাপ-কে বলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।
পরিবহন খরচ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্য পরিবহনে। যার প্রভাব পড়বে পাইকারি বাজারে, পণ্যের দামে।
তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর সেটা হলে বাড়বে উৎপাদন ব্যয়ও। তার মানে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
আর মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। যার ফলে সংকুচিত হবে অর্থনীতি।
মূল্যস্ফীতিবাড়বে
“তেলের উচ্চ দাম কীভাবে অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে” শিরোনামে ফোর্বস এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে ০.১ শতাংশ।
এই হিসাবে বিবেচনা করলে বাংলাদেশে প্রায় ২০ শতাংশ তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাবই পড়তে যাচ্ছে।
সহজ করে মূল্যস্ফীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক দাম বৃদ্ধি পায়, ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে যেমনটা হয়েছিল ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সেই উদাহরণ টেনে আলাপ-কে বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল তখন তার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল আমাদের অর্থনীতিতে। সেই সংকট মোকাবেলায় আমরা যে পথে হেঁটেছি, এতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে মূল্যস্ফীতি কমেনি।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে জানুয়ারিতে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
ওই বছরের অগাস্টে সাড়ে ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ তেলের দাম বাড়িয়েছিল সরকার।
যার পরের মাস নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি পৌঁছে গিয়েছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে।
কতটাবেড়েছেতেলওএলপিজিরদাম
শনিবার রাতে সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার পর ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা করেছে; যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
এছাড়া অন্য জ্বালানি তেলের দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অকটেনের দাম ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ২০ টাকা।
পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। বেড়েছে ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা।
এর আগে শতাংশের হিসাবে ২০২২ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম।
তখন অকটেনের দাম ছিল ১৩৫, পেট্রলের দাম ১৩০ ও অক্টেনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, সে সময় ডিজেল, পেট্রোল ও অক্টেনের দাম বেড়েছিল ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ।
একই মাসে আবার দাম ৫ টাকা কমিয়ে অক্টেন ও পেট্রোল ১৩০ ও ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সকালে তেলের দাম বাড়ানোর পর সন্ধ্যায় কার্যকর হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম।
এবার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বেড়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ, এপ্রিলে দুই দফায় প্রতি কেজি এলপিজিতে বাড়ল ৪৯ টাকা ৯২ পয়সা।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আইএমএফের শর্ত সবমিলে ভর্তুকি থেকে সরে এসেছে সরকার।
এর আগে গত মাসেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছিলেন, ‘প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি’ দিচ্ছে সরকার। যা মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা।
যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রবিবার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে ইতোমধ্যে ‘সরকারের দুই বিলিয়ন ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে’।
“যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যা দাম ছিল, বর্তমান বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ। এ বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে,” বলেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাষ্য, “আপনারা জানেন যে, বিশ্ববাজারেও তেলের দাম এখন অনেক বেশি। সুতরাং আমাদের সেই সমন্বয়টা করতে হয়েছে। এবং এটা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে। এখানে কিন্তু লুকোচুরির কিছু নেই।”
অন্যদিকে আইএমএফের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হল কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন সভা থেকে ফিরে রবিবার, “আমাদের যে পলিসি, সেই পলিসির ভিত্তিতেই তেলের দামটা বাড়ানো হয়েছে। এটার সাথে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।”
আইএমএফের কারণে হোক বা মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলা, সরকার জ্বালানি ভর্তুকি থেকে পুরোপুরি সরে আসলে এই অভিঘাত বাংলাদেশের মানুষকে আরও বহু বছর ভোগাবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে যেভাবে বাড়বে খরচ
জ্বালানির দাম বাড়তেই বেড়েছে পরিবহন ও রান্না খরচ। একদিনেই চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। তেল-গ্যাসের এই চেইন রিঅ্যাকশন শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাপে ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শফিক রহমান সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য রাইড শেয়ার অ্যাপে দেখলেন স্বাভাবিক সময়ের ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকার ভাড়া দেখানো হচ্ছে ১৮২ টাকা। কিন্তু রাইডার হাফিজুল ফোন দিয়ে তাকে জানিয়ে দিলেন ২০০ টাকা মিলিয়ে দিলে আসবেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার পর, দিনের শুরুতেই তার খরচ বেড়ে গেছে প্রায় ৩৫ টাকা।
অফিস শেষে গেলেন কাঁচা বাজারে, যেখানে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। যুক্তি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।
বাজার শেষে সন্ধ্যায় যখন রান্নার জন্য এলপিজি কিনতে গেলেন, শুনলেন সেখানে এক ধাক্কায় দাম বেড়ে গেছে ২১২ টাকা প্রতি সিলিন্ডারে।
সহজ করে বললে, তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সকালে যানবাহন থেকে দুপুরের মধ্যে সরাসরি পৌঁছে গেছে তার ভাতের থালায়।
“তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি একটি চক্র। যার প্রভাব দ্রব্যমূল্য, পরিবহন হয়ে অবশ্যম্ভাবী ভাবে বাড়িয়ে দেবে দ্রব্যমূল্যের দাম,” আলাপ-কে বলছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
কীভাবে প্রভাব পড়ে
ধরুন আপনার যদি নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকে, তাহলে আপনার যাতায়াত খরচ এক রাতের ব্যবধানেই বেড়ে গেছে ১৫ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ।
স্বস্তিতে থাকবেন না গণপরিবহন ব্যবহারকারীরাও। অতীতেও দেখা গেছে সরকার যতবারই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বাসের ভাড়া।
“জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে প্রভাব পড়লে এর প্রভাব পড়বে সব ক্ষেত্রে। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে,” আলাপ-কে বলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।
পরিবহন খরচ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্য পরিবহনে। যার প্রভাব পড়বে পাইকারি বাজারে, পণ্যের দামে।
তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর সেটা হলে বাড়বে উৎপাদন ব্যয়ও। তার মানে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
আর মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। যার ফলে সংকুচিত হবে অর্থনীতি।
মূল্যস্ফীতি বাড়বে
“তেলের উচ্চ দাম কীভাবে অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে” শিরোনামে ফোর্বস এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে ০.১ শতাংশ।
এই হিসাবে বিবেচনা করলে বাংলাদেশে প্রায় ২০ শতাংশ তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাবই পড়তে যাচ্ছে।
সহজ করে মূল্যস্ফীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক দাম বৃদ্ধি পায়, ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে যেমনটা হয়েছিল ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সেই উদাহরণ টেনে আলাপ-কে বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যখন শুরু হয়েছিল তখন তার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল আমাদের অর্থনীতিতে। সেই সংকট মোকাবেলায় আমরা যে পথে হেঁটেছি, এতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে মূল্যস্ফীতি কমেনি।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে জানুয়ারিতে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
ওই বছরের অগাস্টে সাড়ে ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ তেলের দাম বাড়িয়েছিল সরকার।
যার পরের মাস নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি পৌঁছে গিয়েছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে।
কতটা বেড়েছে তেল ও এলপিজির দাম
শনিবার রাতে সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার পর ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা করেছে; যা দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
এছাড়া অন্য জ্বালানি তেলের দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অকটেনের দাম ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা। বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ২০ টাকা।
পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। বেড়েছে ১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা।
এর আগে শতাংশের হিসাবে ২০২২ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম।
তখন অকটেনের দাম ছিল ১৩৫, পেট্রলের দাম ১৩০ ও অক্টেনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, সে সময় ডিজেল, পেট্রোল ও অক্টেনের দাম বেড়েছিল ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ, ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ৫০ শতাংশ।
একই মাসে আবার দাম ৫ টাকা কমিয়ে অক্টেন ও পেট্রোল ১৩০ ও ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সকালে তেলের দাম বাড়ানোর পর সন্ধ্যায় কার্যকর হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম।
এবার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে বেড়েছিল ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ, এপ্রিলে দুই দফায় প্রতি কেজি এলপিজিতে বাড়ল ৪৯ টাকা ৯২ পয়সা।
এরফলে এলপিজির দাম এখন ১,৯৪০ টাকা।
শর্তের বেড়াজালে ভর্তুকি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আইএমএফের শর্ত সবমিলে ভর্তুকি থেকে সরে এসেছে সরকার।
এর আগে গত মাসেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছিলেন, ‘প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি’ দিচ্ছে সরকার। যা মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা।
যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রবিবার জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে ইতোমধ্যে ‘সরকারের দুই বিলিয়ন ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে’।
“যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যা দাম ছিল, বর্তমান বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ। এ বিপুল দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পরেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়িয়েছে,” বলেছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাষ্য, “আপনারা জানেন যে, বিশ্ববাজারেও তেলের দাম এখন অনেক বেশি। সুতরাং আমাদের সেই সমন্বয়টা করতে হয়েছে। এবং এটা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে। এখানে কিন্তু লুকোচুরির কিছু নেই।”
অন্যদিকে আইএমএফের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হল কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন সভা থেকে ফিরে রবিবার, “আমাদের যে পলিসি, সেই পলিসির ভিত্তিতেই তেলের দামটা বাড়ানো হয়েছে। এটার সাথে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।”
আইএমএফের কারণে হোক বা মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলা, সরকার জ্বালানি ভর্তুকি থেকে পুরোপুরি সরে আসলে এই অভিঘাত বাংলাদেশের মানুষকে আরও বহু বছর ভোগাবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিষয়: