কিলিয়ান এমবাপ্পে শুরুতে একটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তবে পরে দুর্দান্ত এক গোল করে সেই ভুল শুধরে দেন। তার নেতৃত্বে মরক্কোকে হারিয়ে ফ্রান্স বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলের শিকার হন এমবাপ্পে। সেই থেকে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিন্তু এমবাপ্পের নেওয়া দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর ভুল করেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৬০ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ঠিক ভেতর থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি।
এর মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে। তিনি বল নিয়ে মরক্কোর রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে গিয়ে নিচু শটে গোল করেন। বুনু বল ছুঁয়েও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।
এই গোলের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। এতে তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান গোল করলেন। তবে বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখন এগিয়ে আছেন ফরাসি তারকা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও মেসির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন এমবাপ্পে। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে গোল এখন ২০টি। আর ৩৯ বছর বয়সী মেসির গোল ২১টি।
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের। আগামী মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।
১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্সকে এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ট্রফি জয়ের সম্ভাব্য দলগুলোর তালিকায় তাদেরই সবচেয়ে ওপরে রাখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে দিদিয়ের দেশঁর দলই সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সবচেয়ে বেশি ফেভারিট।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি ছিলো এই ম্যাচ। সেই আসরেও ফ্রান্স ২ শূন্য গোলে হারিয়েছিল মরক্কোকে। তাই এবারও আফ্রিকার দলটিকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছিল।
কিন্তু মাঠের খেলায় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কোকে কার্যত নিষ্প্রভ করে রাখে ফরাসিরা।
পুরো ম্যাচে তাদের মাত্র একটি শট লক্ষ্যে ছিলো, সেটিও আসে ৮৩ মিনিটে, যখন তারা দুই গোলে পিছিয়ে। সব মিলিয়ে মরক্কোর শট ছিলো মাত্র পাঁচটি, যার চারটিই লক্ষ্যের বাইরে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন বুনু। সেই কর্নার থেকে দাইও উপামেকানোর হেডও দারুণভাবে ঠেকান মরক্কোর গোলরক্ষক।
উসমান দেম্বেলে এবং আদ্রিয়েন রাবিও কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর আসে এমবাপ্পের সেই মিস করা পেনাল্টি।
পেনাল্টি নেওয়ার আগে প্রায় তিন মিনিট অপেক্ষা করতে হয় এমবাপ্পেকে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত যাচাই করছিলেন। অপেক্ষার পর দৌড়ে এসে শট নিলেও তার নিচু শট সহজেই ধরে ফেলেন বুনু।
তবে তাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি ফ্রান্স। দেজিরে দুয়ের শটও বাঁচান বুনু। পরে অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার লুকা দিনের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অনেকের মতে, বলটি যাওয়ার আগে বুনুর আঙুলের হালকা স্পর্শ পেয়েছিল।
মনে হচ্ছিল, ফ্রান্সের গোল পাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে দেয় তারা।
তবে একটি বিষয় কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৭৭ মিনিটে বদলি হওয়ার পর এমবাপ্পেকে ডান গোড়ালিতে বরফ লাগাতে দেখা যায়। তার বদলে মাঠে নামেন ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জ্যঁ ফিলিপ মাতেতা।
যদিও ম্যাচ শেষে সেই শংকা আর থাকেনি। সতীর্থদের সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে জয় উদযাপন করতে দেখা যায় এমবাপ্পেকে। এতে বোঝা যায়, সম্ভাব্য চোটটি গুরুতর নয়।
এবারের বিশ্বকাপে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। শুধু এমবাপ্পেই নন, পুরো দলও দারুণ ছন্দে আছে। ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল করা দল এখন ফ্রান্স।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে চাইলে সবচেয়ে বড় বাধা যে ফ্রান্সই, তা আবারও প্রমাণ করলো দিদিয়ের দেশঁর দল।
অন্যদিকে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার মুখোমুখি হওয়া নয়টি পেনাল্টির মধ্যে মাত্র দুটি থেকে গোল হজম করেছেন। চারটি পেনাল্টি তিনি ঠেকিয়েছেন, আর তিনটি শট লক্ষ্যে ছিলো না। এতে টাইব্রেকারের পেনাল্টিও অন্তর্ভুক্ত।



