ইংল্যান্ডের ওপরই সব চাপ, নরওয়ের নয়: কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মানসিক লড়াইয়ে হালান্ড

হালান্ডের জন্য ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। তার জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে, যখন তার বাবা আলফ ইনগে হালান্ড সেখানে খেলতেন। বর্তমানে তিনি ইংলিশ ফুটবলেও খেলেন। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচের আলাদা আবেগ রয়েছে।

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ পিএম

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। ম্যাচের আগে কথার লড়াই শুরু করে দিয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তার দাবি, এই ম্যাচে চাপটা পুরোপুরি ইংল্যান্ডের ওপর, নরওয়ের নয়।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হালান্ড। চার ম্যাচে সাত গোল করে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন তিনি। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ে করেছিলেন জোড়া গোল। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে নরওয়ে।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হালান্ডকে প্রশ্ন করা হয়, এই ম্যাচে সব চাপ কি ইংল্যান্ডের ওপর? উত্তরে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “হ্যাঁ।”

আরেকটি প্রশ্ন ছিল, সেই চাপকে কি নরওয়ে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারবে? এবারও তার উত্তর, “অবশ্যই।”

গত বছর হালান্ড মজা করে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে নরওয়ের সম্ভাবনা মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেও তিনি নিজের সেই অবস্থান থেকে খুব একটা সরে আসেননি।

হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “এখনো সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। এই টুর্নামেন্টে কয়েকটি পরিষ্কার ফেভারিট দল আছে। ইংল্যান্ড তাদের একটি। তাই সব চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরই দেওয়া উচিত।”

এরপর ইংল্যান্ডের সমর্থকদের উদ্দেশেও পরিচিত রসিকতার সুরে বার্তা দেন হালান্ড। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ইংল্যান্ডের সমর্থকদেরও কি বলবেন “স্টে হাম্বল” অর্থাৎ বিনয়ী থাকতে?

২০২৪ সালে আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতাকে বলা তার বিখ্যাত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে এই প্রশ্ন করা হয়।

পঁচিশ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার স্বীকার করেন, নরওয়ের এমন সাফল্য তিনিও কল্পনা করেননি।

হালান্ড বলেন, “আমি একদমই এটা আশা করিনি। প্রথম ম্যাচের আগেও করিনি, এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। নরওয়ের মতো একটি দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে, এটা আমার কাছেও বিস্ময়কর।”

ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা একটা অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাদের হারিয়ে এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামব। নরওয়ের জন্য এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত। দেশের মানুষ যেভাবে উদযাপন করছে, সেটাই বলে দেয় আমাদের জন্য এটি কতটা অসাধারণ অর্জন।”

হালান্ডের জন্য ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। তার জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে, যখন তার বাবা আলফ ইনগে হালান্ড সেখানে খেলতেন। বর্তমানে তিনি ইংলিশ ফুটবলেও খেলেন। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচের আলাদা আবেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “এটা আমার জন্য খুবই বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, আমার জন্মও সেখানে। প্রতিপক্ষ দলে আমার অনেক সতীর্থও থাকবে। তাই অনুভূতিটা একটু ভিন্ন, তবে দারুণ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।”

হালান্ড মনে করেন, এমন মুহূর্ত উপভোগ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষায়, “অনুশীলন, প্রস্তুতি আর মনোযোগ অবশ্যই দরকার। কিন্তু একই সঙ্গে এই মুহূর্তটাও উপভোগ করতে হবে। আমরা সেটাই করছি। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বারবার আসে না। তাই যতদিন এখানে আছি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।”

এদিকে সপ্তাহের শুরুতে নরওয়ে শিবিরে অসুস্থতার খবর ছড়ালেও সেটিকে অতিরঞ্জিত বলে জানিয়েছে দলটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পুরো দলই সুস্থ রয়েছে।