বিশ্বকাপ রেফারিং কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না: কলিনা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ইজিপ্টের অভিযোগের জবাবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা বলেছেন, “বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, ফিফার রেফারিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের সিদ্ধান্তে কারও প্রভাব থাকে না।

আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে শেষ ষোলোর ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ আনে ইজিপ্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশান বা ইএফএ। মঙ্গলবার সেই রেফারিদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায় তারা। ইএফএ’র অভিযোগ, খেলার দ্বিতীয়ার্ধে দুটি ফাউলের সিদ্ধান্তের কারণে ২-০ ব্যবধান কাটিয়ে ম্যাচ জিতে যায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে ইজিপ্টের কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে “অন্যায় আচরণ” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হয়তো তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে টুর্নামেন্টে রাখতে চেয়েছিলো, হয়তো তারা মেসিকে খেলায় রাখতে চেয়েছিলো।”

সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের কোনো ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করলেও, প্রধান রেফারি কলিনা এক্ষেত্রে রেফারির সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নেন। কোচ হাসানের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফার রেফারিং কোনোভাবে প্রভাবিত হয়, এমনকি ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোও কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।”

তিনি বলেন, ম্যাচ কর্মকর্তারা সৎভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। আর ফিফার প্রেসিডেন্ট সবসময় রেফারিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন এই প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা। 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ইজিপ্টের মোস্তাফা জিকোর একটি গোল বাতিল করে। কারণ, রিভিউতে দেখা যায়, মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে পা দিয়েছিলেন।

এছাড়া, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে মোহামেদ সালাহর ওপর সম্ভাব্য একটি ফাউলও বাতিল করা হয়। এর কয়েক সেকেন্ড পরই আর্জেন্টিনা ইনজুরি টাইমে প্রথম গোলটি করে।

পিয়ারলুইজি কলিনা এই দুইটি সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনা-ইজিপ্ট ম্যাচে ইজিপ্টের ১৯ নাম্বার খেলোয়াড় মারওয়ান আতিয়া স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার ৬ নাম্বার খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে চাপ দেন।” 

“আমাদের মতে, ফাউল মানে ফাউল। এটি স্পষ্ট মনে হোক বা না হোক, মাঠে রেফারি না দেখলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।”

ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলিনা বলেন, “অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “কেউ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগ তাদের ও সংশ্লিষ্টদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”