জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমের সাথে পুলিশের কী হয়েছিলো

নাঈম হাসান তার পরিচয় দিয়ে জাতীয় দলের পরিচয়পত্র দেখান। তবু তাকে চট্টগ্রামের খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই ক্রিকেটার।

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

ঢাকায় প্রিমিয়ার লীগের খেলা শেষ করে ফ্লাইটে চট্টগ্রাম। তারপর অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

শনিবার রাতে নগরীর লালখান বাজার এলাকায় তার অটোরিকশা থামায় পুলিশ। প্রথমে তারা চালকের কাগজ নিয়ে তাকে পুলিশের গাড়িতে ওঠায়।

নাঈম হাসান তার পরিচয় দিয়ে জাতীয় দলের পরিচয়পত্র দেখান। তবু তাকে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই ক্রিকেটার।

শনিবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ওই এসআইয়ের সাথে সিভিল ড্রেসে থাকা অন্য এক ব্যক্তিও পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। নাঈম হাসান বলেন, ‘প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল, তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’

ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ি থাকলেও নাঈমকে মারধর করে পুলিশ অন্য একটি অটোরিকশায় ওঠানোর চেষ্টা করেছিলো বলে অভিযোগ করেছেন এই ক্রিকেটার।

পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওসির রুমে নেওয়া হলে সেখোনেও তাকে হেনস্তার করা হয়। নাঈম হাসানের অভিযোগ, ওসিকে তিনি যখন ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন ওসি বারবার চোখ নিচু করে কথা বলতে বলেন। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নাঈম হাসান থানায় গিয়ে ফোন নিয়ে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করেন। পরে বিসিবি থেকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ওই অটোরিকশার বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী উর্ধতনদের জানানো হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “অভিযান চালানোর নিয়ম আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

ঘটনার খবর পেয়ে থানায় গিয়েছিলেন নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, থানার ডিউটি অফিসার তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছেন।

এই অভিযানের বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জেনে দুঃখ প্রকাশ করে চলে যেতে অনুরোধ করেন। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না বলে জানান।

পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে থানায়। এসআই শফিকুল ইসলাম ও একজন কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

তবে মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আসামি করা হয়েছে কি-না তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, খুলশী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।

ক্রিকেটারদের কল্যাণ সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিডব্লিউএবি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।