বাধ্যতামূলক অবসরে যাচ্ছেন আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা 

কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১এ মে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। তালিকায় আছেন ৩ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার।

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, দলটির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসর শিরোনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নথিটি আলাপ-এর হাতে এসেছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তাও প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি আলাপ-কে নিশ্চিত করেছেন। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই ১৭ জন কর্মকর্তার নাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন চাওয়া হয়। 

নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১এ মে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। তালিকায় আছেন ৩ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার।

নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন। এ ছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও নথিতে স্থান পেয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রেবেকা সুলতানা ও জেসমিন বেগম ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিরোধী দল দমনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁস, টেলিফোনে আড়িপাতা, মাদক পাচার, আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। 

কক্সবাজারের সাবেক এসপি ও  বর্তমান অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় অন্য কর্মকর্তারা হলেন, ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান। অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী ও উপ কমিশনার হাবিবুর রহমান।

এর আগে একই বিধানে ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। 

গত ২২এ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন অথবা সংযুক্ত ছিলেন। 

এরপর ৩রা মে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার।