আর্জেন্টিনা টানা ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল।
আলাপ স্পোর্টস
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ এএমআপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি সুইজারল্যান্ড।
৩-১ গোলের ব্যবধানে জয়ের স্কোরলাইন দেখে ম্যাচটি যত সহজ মনে হতে পারে, বাস্তবে লড়াই ছিলো তার চেয়ে ঢের কঠিন।
ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল। তবে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত আবারও নিজেদের পথ খুঁজে নেয়।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে এসে দলকে বাঁচান হুলিয়ান আলভারেজ। তার দুর্দান্ত গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আলভারেজ বল পাওয়ার পর থেকেই যেন ঠিক করে ফেলেছিলেন কী করবেন। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ে নেওয়া তার জোরালো বাঁকানো শট সোজা গিয়ে জড়িয়ে যায় গোলবারের ওপরের দূরের কোণায়।
সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কিছুই করার ছিলো না। ম্যাচজুড়ে নিরলস পরিশ্রম করা আলভারেজের এমন একটি গোল প্রাপ্য ছিল। তার অসাধারণ এই গোলের পর আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড়রাও উচ্ছ্বাসে মাঠে নেমে আসেন।
অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে তিনজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের বিপরীতে ছিলেন মাত্র একজন সুইস ডিফেন্ডার।
থিয়াগো আলমাদার শট প্রথমে কোবেল ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোললাইন রক্ষা করতে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রানিত জাকার পাশ কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার জয়। টিকে থাকে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লড়াই।
এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল।
সুইজারল্যান্ডের জন্য এটি অবশ্য আরেকটি হৃদয়ভাঙা বিদায়। দেশটি চারবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও একবারও সেমিফাইনালে যেতে পারেনি। এবারও খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই বাধা পেরোতে পারল না।
ম্যাচ শেষে সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন বলেন, "আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখে আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল এবং তার খেলোয়াড়রা বরং চাইবেন আর্জেন্টিনাই পরের পর্বে উঠুক। কারণ এই সুইস দলটির তুলনায় বর্তমান আর্জেন্টিনাকে খেলায় হারানো সহজ হতে পারে।"
আরেক মন্তব্যে সাটন বলেন, "এই আর্জেন্টিনা দলটি আগের মতো দুর্দান্ত নয়। কিন্তু তাদের একটি বিশেষ গুণ আছে। তারা যেভাবেই হোক জয়ের পথ বের করে নিতে পারে।"
তিনি আরও একটি তথ্য তুলে ধরে বলেন, "লিওনেল মেসি কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে তার অভিষেক হয়েছিল। সেই বছরই আর্জেন্টিনা সর্বশেষ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল। এরপর আর এই দুই দলের দেখা হয়নি।"
ম্যাচ বিশ্লেষণে বলা হয়, এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন যেমন নাটকীয়তা তৈরি করছে, তেমনি তাদের দুর্বলতাগুলিও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। তবুও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ জিতে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচের শেষটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ থাকবে। বিশেষ করে দশজনের দল নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় যেভাবে আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল, তা অনেক দর্শককেই বিস্মিত করেছে।
ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপজুড়েই রেফারিং, শৃঙ্খলা এবং ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকের ধারণা, এই বিতর্ক হয়তো ফাইনালেও বড় কোনো সিদ্ধান্তের জন্ম দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ৩-১ হলেও ম্যাচের বাস্তব চিত্র ছিলো অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে ইতিহাস মনে রাখবে, কঠিন পরীক্ষায় আবারও টিকে গেল আর্জেন্টিনা এবং সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সুইস দুর্গ পেরিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড বাধা পার করতে পারবে মেসির দল?
আর্জেন্টিনা টানা ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি সুইজারল্যান্ড।
৩-১ গোলের ব্যবধানে জয়ের স্কোরলাইন দেখে ম্যাচটি যত সহজ মনে হতে পারে, বাস্তবে লড়াই ছিলো তার চেয়ে ঢের কঠিন।
ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখেছিল। তবে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত আবারও নিজেদের পথ খুঁজে নেয়।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে এসে দলকে বাঁচান হুলিয়ান আলভারেজ। তার দুর্দান্ত গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আলভারেজ বল পাওয়ার পর থেকেই যেন ঠিক করে ফেলেছিলেন কী করবেন। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ে নেওয়া তার জোরালো বাঁকানো শট সোজা গিয়ে জড়িয়ে যায় গোলবারের ওপরের দূরের কোণায়।
সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কিছুই করার ছিলো না। ম্যাচজুড়ে নিরলস পরিশ্রম করা আলভারেজের এমন একটি গোল প্রাপ্য ছিল। তার অসাধারণ এই গোলের পর আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড়রাও উচ্ছ্বাসে মাঠে নেমে আসেন।
অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে তিনজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের বিপরীতে ছিলেন মাত্র একজন সুইস ডিফেন্ডার।
থিয়াগো আলমাদার শট প্রথমে কোবেল ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোললাইন রক্ষা করতে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রানিত জাকার পাশ কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার জয়। টিকে থাকে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লড়াই।
এই জয়ে আর্জেন্টিনা টানা ১২টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখলো। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখল লিওনেল স্কালোনির দল।
সুইজারল্যান্ডের জন্য এটি অবশ্য আরেকটি হৃদয়ভাঙা বিদায়। দেশটি চারবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও একবারও সেমিফাইনালে যেতে পারেনি। এবারও খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই বাধা পেরোতে পারল না।
ম্যাচ শেষে সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন বলেন, "আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখে আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল এবং তার খেলোয়াড়রা বরং চাইবেন আর্জেন্টিনাই পরের পর্বে উঠুক। কারণ এই সুইস দলটির তুলনায় বর্তমান আর্জেন্টিনাকে খেলায় হারানো সহজ হতে পারে।"
আরেক মন্তব্যে সাটন বলেন, "এই আর্জেন্টিনা দলটি আগের মতো দুর্দান্ত নয়। কিন্তু তাদের একটি বিশেষ গুণ আছে। তারা যেভাবেই হোক জয়ের পথ বের করে নিতে পারে।"
তিনি আরও একটি তথ্য তুলে ধরে বলেন, "লিওনেল মেসি কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে তার অভিষেক হয়েছিল। সেই বছরই আর্জেন্টিনা সর্বশেষ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল। এরপর আর এই দুই দলের দেখা হয়নি।"
ম্যাচ বিশ্লেষণে বলা হয়, এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন যেমন নাটকীয়তা তৈরি করছে, তেমনি তাদের দুর্বলতাগুলিও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। তবুও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ জিতে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
সুইজারল্যান্ড ম্যাচের শেষটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ থাকবে। বিশেষ করে দশজনের দল নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় যেভাবে আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল, তা অনেক দর্শককেই বিস্মিত করেছে।
ব্রিল এমবোলোর লাল কার্ড নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপজুড়েই রেফারিং, শৃঙ্খলা এবং ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকের ধারণা, এই বিতর্ক হয়তো ফাইনালেও বড় কোনো সিদ্ধান্তের জন্ম দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ৩-১ হলেও ম্যাচের বাস্তব চিত্র ছিলো অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে ইতিহাস মনে রাখবে, কঠিন পরীক্ষায় আবারও টিকে গেল আর্জেন্টিনা এবং সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।