একটি শিশু এখন জানুয়ারির তীব্র শীতে ঠিক ততোটাই সহজে ফুটবল অনুশীলন করতে পারে, যতোটা পারে গ্রীষ্মের সময়। বছরজুড়ে অনুশীলনের এই অবিরাম সুযোগই নরওয়ের ফুটবলে এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে।
শিহাব আহসান খান
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ এএমআপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
এবারের বিশ্বকাপে রূপকথা লিখছে অনেক দেশই। কেপ ভার্দের কথাই ধরুন। মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই দেশটাই কি-না খেলে ফেলেছে নকআউটে। কুরাসাও কিংবা মিশরের মতো দেশগুলোও তাদের মতো করে গল্প লিখেছে এবার।
নরওয়ের যাত্রাটাও কিন্তু কম রোমাঞ্চকর নয়। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দলটির পথচলা সহজ ছিলো না একদমই। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে, তারা ছিলো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ‘আন্ডারঅ্যাচিভার’। দলগুলোর তালিকায় শুরুর দিকেই থাকার কথা নরওয়ের নাম।
২০০০ সালের ইউরোর পর তারা কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। অথচ এই সময়েই আর্লিং হাল্যান্ড–মার্টিন ওডেগার্ডের মতো বৈশ্বিক তারকাদের উত্থান হয়েছে দেশটিতে। তবু কেন তারা পারছিলো না?
এবার বাছাইপর্বে টানা ৮টি ম্যাচ জিতে এবার বিশ্বকাপে এসেছে তারা। শুধু এতোটুকুতেই থামেনি। গ্রুপ পর্ব আর শেষ ৩২–এর বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে বিদায় করে দিয়েছে নরওয়ে। এসব সম্ভব হয়েছে কিছু পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই।
‘ভাইকিংরা আসছে’
এবারের বিশ্বকাপ খেলতে আসার সময়ই নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তনের আভাস দিয়ে রেখেছিলো নরওয়ে। প্রথাগত নিয়মে কোনো দল যখন কোনো বড় মঞ্চে রওনা দেয়, তখন সাধারণত দেখা যায় খেলোয়াড়রা ম্যাচিং করা ডিজাইনার স্যুট পরে কমার্শিয়াল বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অফিশিয়াল ফটোশুট করছেন। নরওয়ে এই চেনা স্ক্রিপ্টকে স্রেফ ছুঁড়ে ফেলেছে।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ফাইন আর্ট ফটোগ্রাফার ডেভিড ইয়ারোর সঙ্গে জুটি বেঁধে নরওয়ে দল ওসলোর কাছের এক বিচে জড়ো হয়েছিলো। গায়ে লোহার বর্ম, হাতে ঢাল আর খোলা তলোয়ার, পেছনে আসল ভাইকিং যুদ্ধজাহাজ আর মেঘাচ্ছন্ন ঝোড়ো আকাশ। এই পুরো আবহ তৈরি করে তারা প্রতিপক্ষদের এক রোমাঞ্চকর ও সিনেমাটিক বার্তা পাঠিয়েছিলো, ‘ভাইকিংরা আসছে’।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিজ ক্লাভেনেস তখন এমন ফটোশ্যুটের ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, “আমরা শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলাম যে ভাইকিং তকমাটি আমাদের সঙ্গে জুড়বেই। তাই আমরা নিজেরাই এর মালিকানা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই...মূলত আমাদের মূল্যবোধের প্রকাশ। একতা, দলীয় মনোভাব এবং একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার প্রতীকী দৃশ্য এটি।”
অবকাঠামোগত বিপ্লব
মাঠের এই সাফল্যের পেছনে, বাইরেও অনেক কিছু নতুন করে সাজাতে হয়েছে তাদের। ভৌগোলিক কারণে নরওয়েতে বছরের অর্ধেক সময়ই প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠগুলো খেলার অনুপযোগী থাকে।
বরফ পড়ে, দিনের আলোরও স্বল্পতা থাকে চরম। তরুণদের জন্য ফুটবল খেলার সুযোগ শুধু অল্পদিনের গ্রীষ্মেই সীমাবদ্ধ থাকতো। প্রকৃতির এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়নের অভিযান শুরু করে নরওয়ে। পুরো নরওয়েতে এগারোশোরও বেশি অত্যাধুনিক কৃত্রিম ঘাসের (আর্টিফিশিয়াল টার্ফ) মাঠ তৈরি করা হয়।
এর ফলে একটি শিশু এখন জানুয়ারির তীব্র শীতে ঠিক ততোটাই সহজে ফুটবল অনুশীলন করতে পারে, যতোটা পারে গ্রীষ্মের সময়। বছরজুড়ে অনুশীলনের এই অবিরাম সুযোগই নরওয়ের ফুটবলে এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে।
অস্কার বব–আন্তোনিও নুসার মতো খেলোয়াড়রা, যারা মাঠের অল্প জায়গার মধ্যেও প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে ওস্তাদ। তারা প্রথাগত শারীরিক ফুটবল খেলা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলগুলোর চেয়ে ভিন্ন ও শৈল্পিক ঘরানার ফুটবল খেলছেন।
‘ভাইকিং রো’ এবং আমেরিকা জয়
এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের জন্য সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন তারা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে ৭ গোল করা আর্লিং হাল্যান্ডের নেতৃত্বে পুরো দল কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে যায় এবং মাঠে এক লাইনে বসে সারিবদ্ধভাবে বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ (নৌকা বাওয়ার ভঙ্গিতে) উদযাপনে মেতে ওঠে, যেখানে যোগ দেন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান সমর্থকও।
এই উদযাপন মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতোটাই ছড়িয়ে পড়ে যে টেক জায়ান্ট গুগলও একটি অফিশিয়াল ইস্টার-এগ (অ্যানিমেশন) চালু করে দেয়।
গুগলে ‘Viking Row’ বা ‘Erling Haaland’ লিখে সার্চ করলেই ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে ডিজিটাল ভাইকিং জাহাজের বহর ভেসে ওঠে আর সঙ্গে বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা।
একটি সফল প্রজেক্ট
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তৃণমূল পর্যায়ে কোচেদের জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিয়ে, সঠিক অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রতিকূল আবহাওয়াকে জয় করে ও নিজেদের ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে নরওয়ে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো একটি দলই গঠন করেনি, তারা ফুটবল বিশ্বে একটি নতুন বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে।
ব্যর্থতার সেই ‘স্যুট-টাই’ পরা দিনগুলো এখন তাদের জন্য অতীত। একটা সোনালী প্রজন্ম, আধুনিক টেকনিক্যাল ফুটবল ও পূর্বপুরুষদের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে সত্যি সত্যিই নতুনের গান গাইছে নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত একটায় কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে ইংল্যান্ড।
ফুটবলে কীভাবে বদলে গেলো শীতের দেশ নরওয়ে
একটি শিশু এখন জানুয়ারির তীব্র শীতে ঠিক ততোটাই সহজে ফুটবল অনুশীলন করতে পারে, যতোটা পারে গ্রীষ্মের সময়। বছরজুড়ে অনুশীলনের এই অবিরাম সুযোগই নরওয়ের ফুটবলে এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে রূপকথা লিখছে অনেক দেশই। কেপ ভার্দের কথাই ধরুন। মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই দেশটাই কি-না খেলে ফেলেছে নকআউটে। কুরাসাও কিংবা মিশরের মতো দেশগুলোও তাদের মতো করে গল্প লিখেছে এবার।
নরওয়ের যাত্রাটাও কিন্তু কম রোমাঞ্চকর নয়। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দলটির পথচলা সহজ ছিলো না একদমই। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে, তারা ছিলো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ‘আন্ডারঅ্যাচিভার’। দলগুলোর তালিকায় শুরুর দিকেই থাকার কথা নরওয়ের নাম।
২০০০ সালের ইউরোর পর তারা কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। অথচ এই সময়েই আর্লিং হাল্যান্ড–মার্টিন ওডেগার্ডের মতো বৈশ্বিক তারকাদের উত্থান হয়েছে দেশটিতে। তবু কেন তারা পারছিলো না?
এবার বাছাইপর্বে টানা ৮টি ম্যাচ জিতে এবার বিশ্বকাপে এসেছে তারা। শুধু এতোটুকুতেই থামেনি। গ্রুপ পর্ব আর শেষ ৩২–এর বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে বিদায় করে দিয়েছে নরওয়ে। এসব সম্ভব হয়েছে কিছু পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই।
‘ভাইকিংরা আসছে’
এবারের বিশ্বকাপ খেলতে আসার সময়ই নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তনের আভাস দিয়ে রেখেছিলো নরওয়ে। প্রথাগত নিয়মে কোনো দল যখন কোনো বড় মঞ্চে রওনা দেয়, তখন সাধারণত দেখা যায় খেলোয়াড়রা ম্যাচিং করা ডিজাইনার স্যুট পরে কমার্শিয়াল বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অফিশিয়াল ফটোশুট করছেন। নরওয়ে এই চেনা স্ক্রিপ্টকে স্রেফ ছুঁড়ে ফেলেছে।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ফাইন আর্ট ফটোগ্রাফার ডেভিড ইয়ারোর সঙ্গে জুটি বেঁধে নরওয়ে দল ওসলোর কাছের এক বিচে জড়ো হয়েছিলো। গায়ে লোহার বর্ম, হাতে ঢাল আর খোলা তলোয়ার, পেছনে আসল ভাইকিং যুদ্ধজাহাজ আর মেঘাচ্ছন্ন ঝোড়ো আকাশ। এই পুরো আবহ তৈরি করে তারা প্রতিপক্ষদের এক রোমাঞ্চকর ও সিনেমাটিক বার্তা পাঠিয়েছিলো, ‘ভাইকিংরা আসছে’।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিজ ক্লাভেনেস তখন এমন ফটোশ্যুটের ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, “আমরা শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলাম যে ভাইকিং তকমাটি আমাদের সঙ্গে জুড়বেই। তাই আমরা নিজেরাই এর মালিকানা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই...মূলত আমাদের মূল্যবোধের প্রকাশ। একতা, দলীয় মনোভাব এবং একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার প্রতীকী দৃশ্য এটি।”
অবকাঠামোগত বিপ্লব
মাঠের এই সাফল্যের পেছনে, বাইরেও অনেক কিছু নতুন করে সাজাতে হয়েছে তাদের। ভৌগোলিক কারণে নরওয়েতে বছরের অর্ধেক সময়ই প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠগুলো খেলার অনুপযোগী থাকে।
বরফ পড়ে, দিনের আলোরও স্বল্পতা থাকে চরম। তরুণদের জন্য ফুটবল খেলার সুযোগ শুধু অল্পদিনের গ্রীষ্মেই সীমাবদ্ধ থাকতো। প্রকৃতির এই প্রতিকূলতাকে জয় করতে দেশজুড়ে অবকাঠামো উন্নয়নের অভিযান শুরু করে নরওয়ে। পুরো নরওয়েতে এগারোশোরও বেশি অত্যাধুনিক কৃত্রিম ঘাসের (আর্টিফিশিয়াল টার্ফ) মাঠ তৈরি করা হয়।
এর ফলে একটি শিশু এখন জানুয়ারির তীব্র শীতে ঠিক ততোটাই সহজে ফুটবল অনুশীলন করতে পারে, যতোটা পারে গ্রীষ্মের সময়। বছরজুড়ে অনুশীলনের এই অবিরাম সুযোগই নরওয়ের ফুটবলে এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে।
অস্কার বব–আন্তোনিও নুসার মতো খেলোয়াড়রা, যারা মাঠের অল্প জায়গার মধ্যেও প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে ওস্তাদ। তারা প্রথাগত শারীরিক ফুটবল খেলা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলগুলোর চেয়ে ভিন্ন ও শৈল্পিক ঘরানার ফুটবল খেলছেন।
‘ভাইকিং রো’ এবং আমেরিকা জয়
এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের জন্য সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন তারা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে ৭ গোল করা আর্লিং হাল্যান্ডের নেতৃত্বে পুরো দল কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে যায় এবং মাঠে এক লাইনে বসে সারিবদ্ধভাবে বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ (নৌকা বাওয়ার ভঙ্গিতে) উদযাপনে মেতে ওঠে, যেখানে যোগ দেন গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার নরওয়েজিয়ান সমর্থকও।
এই উদযাপন মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতোটাই ছড়িয়ে পড়ে যে টেক জায়ান্ট গুগলও একটি অফিশিয়াল ইস্টার-এগ (অ্যানিমেশন) চালু করে দেয়।
গুগলে ‘Viking Row’ বা ‘Erling Haaland’ লিখে সার্চ করলেই ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে ডিজিটাল ভাইকিং জাহাজের বহর ভেসে ওঠে আর সঙ্গে বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা।
একটি সফল প্রজেক্ট
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তৃণমূল পর্যায়ে কোচেদের জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিয়ে, সঠিক অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রতিকূল আবহাওয়াকে জয় করে ও নিজেদের ঐক্যবদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে নরওয়ে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো একটি দলই গঠন করেনি, তারা ফুটবল বিশ্বে একটি নতুন বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে।
ব্যর্থতার সেই ‘স্যুট-টাই’ পরা দিনগুলো এখন তাদের জন্য অতীত। একটা সোনালী প্রজন্ম, আধুনিক টেকনিক্যাল ফুটবল ও পূর্বপুরুষদের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে সত্যি সত্যিই নতুনের গান গাইছে নরওয়ে। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত একটায় কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে ইংল্যান্ড।