আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড: ১২ বছর আগের স্মৃতি কি আবার ফিরবে
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা চাপেই ছিল এবার। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য হারানোর কিছু নেই। সাত দশকেরও বেশি সময় পর তাদের প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ইতোমধ্যেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ভয়ডরহীন একটা ম্যাচই খেলবে তারা। আর আর্জেন্টিনার জন্য লড়াইটা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগোনোর।
শিহাব আহসান খান
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ পিএমআপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে সহজ জয় পেয়েছিল। ২০১৪ সালে পরের দেখার স্মৃতিটা অবশ্য খুব সুখকর নয়।
আরও একটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। শেষের কাব্যে আরও একটা রঙিন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ লিওনেল মেসির সামনে। আগের দুটি ম্যাচে বড় পরীক্ষা দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে তাদের ভিতই কাঁপিয়ে দিয়েছিল একরকম। শেষ ষোলোতে দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে মিসরও। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দু'বারই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন মেসি।
শেষ ষোলেতে এসে এবার আর্জেন্টিনার সামনে সম্ভবত সবচেয়ে অস্বস্তিকর চ্যালেঞ্জ। এবারও কোনো সংশয় ছাড়াই মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকবে তারা। আর্জেন্টিনার মতো বড় নাম নেই আর আক্রমণভাগের ঝলকানিও নেই সুইজারল্যান্ডের। কিন্তু তাদের আছে ‘ধৈর্য।’
চোখ ধাঁধানো ফুটবল খেলে সুইসরা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেনি। তারা টিকে থেকেছে ডিসিপ্লিন, কৌশল আর ভুল না করার একরোখা মানসিকতার জোরে। টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে কলম্বিয়াকে বিদায় করার পর, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা নামবে একটু বাড়তি আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলটির সবচেয়ে বড় তারকা গ্রানিত শাকাও জানিয়ে গেছেন তা, ‘‘আমি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারদের চিনি। তারা প্রিমিয়ার লিগে খেলে, তাই আমরা তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে জানি। আমি নিশ্চিত যে আগামীকাল আমরা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেবো।’’
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে সহজ জয় পেয়েছিল। ২০১৪ সালে পরের দেখার স্মৃতিটা অবশ্য খুব সুখকর নয়।
সাও পাওলোর সেই ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ১১৭ মিনিট ধরে আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দেয়নি। যখন পেনাল্টি শুটআউট একদম অনিবার্য বলে মনে হচ্ছিল, তখনই মেসি মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে গিয়ে অ্যানহেল ডি মারিয়ার উদ্দেশ্যে পাস বাড়িয়ে দেন। আর ১১৮তম মিনিটে ডি মারিয়া বাঁকানো শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘ ১২ বছর পর যখন দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন ওই ম্যাচের কেবল তিনজন খেলোয়াড় আছে এবার। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, সুইস অধিনায়ক গ্রানিত শাকা ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ। এবারও দলের জন্য ত্রাতা হতে পারেন এই তিনজনই।
আর্জেন্টিনার জন্য লড়াইটা একটু ভিন্নই হবে এবার৷
কেপ ভার্দে ও মিসরের মতো দলগুলো নিয়মিতই আক্রমণে উঠেছে। সুইজারল্যান্ড সম্ভবত তেমন কোনো সুযোগ দেবে না। তারা নিঁখুত রক্ষণাত্মক লাইনে রক্ষণভাগ সামলায়, কেবল সঠিক সময়ে প্রেসিং করে এবং প্রতিপক্ষকে উইংয়ের দিকে ঠেলে দেয়, যেখানে ক্রস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
তাই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই হতে যাচ্ছে এই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার যদি গ্রানিত শাকা ও সুইজারল্যান্ডের মাঝমাঠকে ভেঙে দেওয়ার মতো দ্রুতগতিতে বল পাস করতে পারেন, তবেই আর্জেন্টিনা সুযোগ তৈরি করতে পারবে। আর তা না হলে, ম্যাচজুড়ে হতাশা ভর করতে পারে আলবিসেলেস্তেদের।
তবে এমন সময়গুলোতেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে মেসি।
স্কালোনির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন দলের ভারসাম্য বজায় রাখা। আক্রমণাত্মক স্বভাবের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডের পেছনের বিশাল খালি জায়গা সামলানোর দায়িত্ব আবারও পড়তে পারে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের কাঁধে। সুইজারল্যান্ড সাধারণত খুব বেশি খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণে ওঠে না, তবে যখনই ওঠে, গতির সঙ্গে তখন পরিকল্পনাও থাকে ঠিকঠাক।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা চাপেই ছিল এবার। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য হারানোর কিছু নেই। সাত দশকেরও বেশি সময় পর তাদের প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ইতোমধ্যেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ভয়ডরহীন একটা ম্যাচই খেলবে তারা। আর আর্জেন্টিনার জন্য লড়াইটা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগোনোর।
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড: ১২ বছর আগের স্মৃতি কি আবার ফিরবে
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা চাপেই ছিল এবার। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য হারানোর কিছু নেই। সাত দশকেরও বেশি সময় পর তাদের প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ইতোমধ্যেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ভয়ডরহীন একটা ম্যাচই খেলবে তারা। আর আর্জেন্টিনার জন্য লড়াইটা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগোনোর।
আরও একটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। শেষের কাব্যে আরও একটা রঙিন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ লিওনেল মেসির সামনে। আগের দুটি ম্যাচে বড় পরীক্ষা দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দে তাদের ভিতই কাঁপিয়ে দিয়েছিল একরকম। শেষ ষোলোতে দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে মিসরও। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের দু'বারই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন মেসি।
শেষ ষোলেতে এসে এবার আর্জেন্টিনার সামনে সম্ভবত সবচেয়ে অস্বস্তিকর চ্যালেঞ্জ। এবারও কোনো সংশয় ছাড়াই মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকবে তারা। আর্জেন্টিনার মতো বড় নাম নেই আর আক্রমণভাগের ঝলকানিও নেই সুইজারল্যান্ডের। কিন্তু তাদের আছে ‘ধৈর্য।’
চোখ ধাঁধানো ফুটবল খেলে সুইসরা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেনি। তারা টিকে থেকেছে ডিসিপ্লিন, কৌশল আর ভুল না করার একরোখা মানসিকতার জোরে। টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে কলম্বিয়াকে বিদায় করার পর, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা নামবে একটু বাড়তি আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলটির সবচেয়ে বড় তারকা গ্রানিত শাকাও জানিয়ে গেছেন তা, ‘‘আমি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারদের চিনি। তারা প্রিমিয়ার লিগে খেলে, তাই আমরা তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে জানি। আমি নিশ্চিত যে আগামীকাল আমরা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেবো।’’
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে সহজ জয় পেয়েছিল। ২০১৪ সালে পরের দেখার স্মৃতিটা অবশ্য খুব সুখকর নয়।
সাও পাওলোর সেই ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ১১৭ মিনিট ধরে আর্জেন্টিনাকে গোল করতে দেয়নি। যখন পেনাল্টি শুটআউট একদম অনিবার্য বলে মনে হচ্ছিল, তখনই মেসি মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে গিয়ে অ্যানহেল ডি মারিয়ার উদ্দেশ্যে পাস বাড়িয়ে দেন। আর ১১৮তম মিনিটে ডি মারিয়া বাঁকানো শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘ ১২ বছর পর যখন দুই দল আবার মুখোমুখি হচ্ছে, তখন ওই ম্যাচের কেবল তিনজন খেলোয়াড় আছে এবার। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, সুইস অধিনায়ক গ্রানিত শাকা ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ। এবারও দলের জন্য ত্রাতা হতে পারেন এই তিনজনই।
আর্জেন্টিনার জন্য লড়াইটা একটু ভিন্নই হবে এবার৷
কেপ ভার্দে ও মিসরের মতো দলগুলো নিয়মিতই আক্রমণে উঠেছে। সুইজারল্যান্ড সম্ভবত তেমন কোনো সুযোগ দেবে না। তারা নিঁখুত রক্ষণাত্মক লাইনে রক্ষণভাগ সামলায়, কেবল সঠিক সময়ে প্রেসিং করে এবং প্রতিপক্ষকে উইংয়ের দিকে ঠেলে দেয়, যেখানে ক্রস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
তাই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই হতে যাচ্ছে এই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার যদি গ্রানিত শাকা ও সুইজারল্যান্ডের মাঝমাঠকে ভেঙে দেওয়ার মতো দ্রুতগতিতে বল পাস করতে পারেন, তবেই আর্জেন্টিনা সুযোগ তৈরি করতে পারবে। আর তা না হলে, ম্যাচজুড়ে হতাশা ভর করতে পারে আলবিসেলেস্তেদের।
তবে এমন সময়গুলোতেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে মেসি।
স্কালোনির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন দলের ভারসাম্য বজায় রাখা। আক্রমণাত্মক স্বভাবের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডের পেছনের বিশাল খালি জায়গা সামলানোর দায়িত্ব আবারও পড়তে পারে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের কাঁধে। সুইজারল্যান্ড সাধারণত খুব বেশি খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণে ওঠে না, তবে যখনই ওঠে, গতির সঙ্গে তখন পরিকল্পনাও থাকে ঠিকঠাক।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা চাপেই ছিল এবার। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য হারানোর কিছু নেই। সাত দশকেরও বেশি সময় পর তাদের প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ইতোমধ্যেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ভয়ডরহীন একটা ম্যাচই খেলবে তারা। আর আর্জেন্টিনার জন্য লড়াইটা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগোনোর।
বিষয়: