নরওয়ে ও সেমিফাইনালের মাঝে দাঁড়িয়ে গেলেন একজন বেলিংহাম
যখন দলে জুড বেলিংহাম থাকেন, তখন ইংল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায় না। বড় ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিজের করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তিনি আবারও দেখালেন।
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ এএমআপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অনেক সময় পুরো ম্যাচের গল্প লিখে দেন একজন ফুটবলার। নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালেও সেটিই দেখা গেলো।
মায়ামির তীব্র গরম আর অসহনীয় আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল থমাস টুখেলের দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নরওয়ে আর সেমিফাইনালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলেন একজন জুড বেলিংহাম।
তার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম পুরুষ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলো ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো ম্যাচটি সহজ হবে না। দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলছিলো। ইংল্যান্ড বলের দখল রাখলেও নরওয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদ তৈরি করছিলো। ৩৬ মিনিটে সেই চাপেরই ফল পায় নরওয়ে।
এই বিশ্বকাপে বারবার যেমন হয়েছে, আবারও কঠিন মুহূর্তে সামনে এলেন বেলিংহাম। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত পাস নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে দারুণ দক্ষতায় নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ডকে পরাস্ত করেন তিনি।
গোল করার পর তার প্রতিক্রিয়াও ছিলো ব্যতিক্রম। উচ্ছ্বাসে সময় নষ্ট না করে বল তুলে নিয়ে দ্রুত মাঝমাঠে ফিরে যান। যেন তার বার্তা ছিল, সমতা ফিরেছে, কিন্তু কাজ এখনও শেষ হয়নি।
বিরতির সময় টুখেলকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অসুস্থতা ও চোটের কারণে ভুগতে থাকা ডেকলান রাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেন তিনি। একই সঙ্গে ননি মাদুয়েকের জায়গায় নামান এবেরেচি এজে ও বুকায়ো সাকাকে। এই পরিবর্তনের পর ইংল্যান্ড কিছুটা গতি পেলেও নরওয়ে আক্রমণের ধার কমায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে আরও কয়েকবার ইংল্যান্ডকে ভয় পাইয়ে দেয়। টরবইর্ন হেগেম বল জালে পাঠালেও আর্লিং হাল্যান্ডের অপ্রয়োজনীয় ধাক্কার কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ডেভিড মোলার উলফের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই সময় ইংল্যান্ডের রক্ষণ বারবার চাপে পড়ে এবং মনে হচ্ছিলো ম্যাচটি যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারে।
নির্ধারিত সময়ে কোনো দল আর গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর সেখানেই আবারও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হাজির হন বেলিংহাম। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মরগান রজার্সের শট নিল্যান্ড ঠেকালেও বল ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে কাছ থেকে জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহাম। সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের জয়সূচক গোল।
ইংল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ভুগেছে। মায়ামির গরমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর কঠিন ম্যাচের পর এই ম্যাচেও সেই ক্লান্তির প্রভাব দেখা যায়। তারপরও যখন দলে জুড বেলিংহাম থাকেন, তখন ইংল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায় না। বড় ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিজের করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তিনি আবারও দেখালেন।
এই বিশ্বকাপে বেলিংহামের গোলসংখ্যা এখন ছয়। পানামার বিপক্ষে হ্যারি কেইনের গোলে অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি। গোল করা, সুযোগ তৈরি করা, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্ব দেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে দলকে টেনে তোলা, সব মিলিয়ে তিনি এখন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে অপরিহার্য ফুটবলার। অনেকের কাছেই তিনি এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
আজকের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। ২০১৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্মিংহাম সিটির হয়ে অভিষেকের পরই তার প্রতিভা নজর কাড়ে। সেই ম্যাচ দেখেই এক প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের স্কাউট প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিলো, এই তরুণকে যত দ্রুত সম্ভব দলে নেওয়া উচিত।
তার অসাধারণ অ্যাথলেটিক সামর্থ্য, দীর্ঘ পদক্ষেপ, বল নিয়ে চাপের মধ্যে থেকেও বেরিয়ে আসার ক্ষমতা এবং খালি জায়গা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা তখনই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রিমিয়ার লিগে না গিয়ে যোগ দেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। প্রায় ২০ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ডে হওয়া সেই দলবদলের আগে বার্মিংহাম সিটির হয়ে মাত্র ৪৪টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তবু ক্লাবটি তার ২২ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
তখন অনেকের কাছেই সিদ্ধান্তটি বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। কিন্তু বার্মিংহাম জানত তারা কী হারাচ্ছে। খুব দ্রুতই জার্মানিও বুঝে যায় তারা কী পেয়েছে। ডর্টমুন্ডের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নিজের আগমনের ঘোষণা দেন বেলিংহাম।
এরপর রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এখন সেই প্রতিভার পূর্ণতা দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার মিশন যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তিনি।
এই জয়ে ইংল্যান্ড টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানির কাছে এবং ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে শেষ চারে থেমে গিয়েছিল ইংলিশরা। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ তাদের সামনে। আর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় নাম এখন একজনই, জুড বেলিংহাম।
নরওয়ে ও সেমিফাইনালের মাঝে দাঁড়িয়ে গেলেন একজন বেলিংহাম
যখন দলে জুড বেলিংহাম থাকেন, তখন ইংল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায় না। বড় ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিজের করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তিনি আবারও দেখালেন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অনেক সময় পুরো ম্যাচের গল্প লিখে দেন একজন ফুটবলার। নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালেও সেটিই দেখা গেলো।
মায়ামির তীব্র গরম আর অসহনীয় আর্দ্রতার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল থমাস টুখেলের দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নরওয়ে আর সেমিফাইনালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলেন একজন জুড বেলিংহাম।
তার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম পুরুষ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলো ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো ম্যাচটি সহজ হবে না। দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলছিলো। ইংল্যান্ড বলের দখল রাখলেও নরওয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদ তৈরি করছিলো। ৩৬ মিনিটে সেই চাপেরই ফল পায় নরওয়ে।
আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের দূরপাল্লার নিচু শট ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড সমর্থকদের গ্যালারি।
এই বিশ্বকাপে বারবার যেমন হয়েছে, আবারও কঠিন মুহূর্তে সামনে এলেন বেলিংহাম। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত পাস নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে দারুণ দক্ষতায় নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ডকে পরাস্ত করেন তিনি।
গোল করার পর তার প্রতিক্রিয়াও ছিলো ব্যতিক্রম। উচ্ছ্বাসে সময় নষ্ট না করে বল তুলে নিয়ে দ্রুত মাঝমাঠে ফিরে যান। যেন তার বার্তা ছিল, সমতা ফিরেছে, কিন্তু কাজ এখনও শেষ হয়নি।
বিরতির সময় টুখেলকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অসুস্থতা ও চোটের কারণে ভুগতে থাকা ডেকলান রাইসকে মাঠ থেকে তুলে নেন তিনি। একই সঙ্গে ননি মাদুয়েকের জায়গায় নামান এবেরেচি এজে ও বুকায়ো সাকাকে। এই পরিবর্তনের পর ইংল্যান্ড কিছুটা গতি পেলেও নরওয়ে আক্রমণের ধার কমায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে আরও কয়েকবার ইংল্যান্ডকে ভয় পাইয়ে দেয়। টরবইর্ন হেগেম বল জালে পাঠালেও আর্লিং হাল্যান্ডের অপ্রয়োজনীয় ধাক্কার কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ডেভিড মোলার উলফের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই সময় ইংল্যান্ডের রক্ষণ বারবার চাপে পড়ে এবং মনে হচ্ছিলো ম্যাচটি যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারে।
নির্ধারিত সময়ে কোনো দল আর গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর সেখানেই আবারও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হাজির হন বেলিংহাম। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মরগান রজার্সের শট নিল্যান্ড ঠেকালেও বল ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে কাছ থেকে জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহাম। সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের জয়সূচক গোল।
ইংল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ভুগেছে। মায়ামির গরমে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর কঠিন ম্যাচের পর এই ম্যাচেও সেই ক্লান্তির প্রভাব দেখা যায়। তারপরও যখন দলে জুড বেলিংহাম থাকেন, তখন ইংল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে যায় না। বড় ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিজের করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তিনি আবারও দেখালেন।
এই বিশ্বকাপে বেলিংহামের গোলসংখ্যা এখন ছয়। পানামার বিপক্ষে হ্যারি কেইনের গোলে অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি। গোল করা, সুযোগ তৈরি করা, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্ব দেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে দলকে টেনে তোলা, সব মিলিয়ে তিনি এখন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে অপরিহার্য ফুটবলার। অনেকের কাছেই তিনি এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
আজকের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। ২০১৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্মিংহাম সিটির হয়ে অভিষেকের পরই তার প্রতিভা নজর কাড়ে। সেই ম্যাচ দেখেই এক প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের স্কাউট প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিলো, এই তরুণকে যত দ্রুত সম্ভব দলে নেওয়া উচিত।
তার অসাধারণ অ্যাথলেটিক সামর্থ্য, দীর্ঘ পদক্ষেপ, বল নিয়ে চাপের মধ্যে থেকেও বেরিয়ে আসার ক্ষমতা এবং খালি জায়গা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা তখনই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রিমিয়ার লিগে না গিয়ে যোগ দেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। প্রায় ২০ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ডে হওয়া সেই দলবদলের আগে বার্মিংহাম সিটির হয়ে মাত্র ৪৪টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তবু ক্লাবটি তার ২২ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
তখন অনেকের কাছেই সিদ্ধান্তটি বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। কিন্তু বার্মিংহাম জানত তারা কী হারাচ্ছে। খুব দ্রুতই জার্মানিও বুঝে যায় তারা কী পেয়েছে। ডর্টমুন্ডের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নিজের আগমনের ঘোষণা দেন বেলিংহাম।
এরপর রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এখন সেই প্রতিভার পূর্ণতা দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার মিশন যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তিনি।
এই জয়ে ইংল্যান্ড টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানির কাছে এবং ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে শেষ চারে থেমে গিয়েছিল ইংলিশরা। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ তাদের সামনে। আর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় নাম এখন একজনই, জুড বেলিংহাম।