বিদায়ের দ্বার থেকে ইতিহাসের পথে দক্ষিণ আমেরিকান ডার্ক হর্স ইকুয়েডর
আলাপ স্পোর্টস
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএমআপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
নিউ জার্সিতে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় এক অন্যরকম দৃশ্য। মাঠের সীমানা পেরিয়ে গ্যালারির দিকে ছুটলেন ইকুয়েডরের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। এরপর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে উদযাপন করলেন এমন এক জয়, যা হয়তো তার ক্যারিয়ারই বদলে দিতে পারে।
জার্মানির বিপক্ষে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় শুধু ইকুয়েডরকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলেনি, বদলে দিয়েছে কোচ বেকাসেসের ভাগ্যও।
ম্যাচের আগে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, দল যদি গ্রুপ পর্ব পার হতে না পারে তাহলে হয়তো দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে তাকে।
সেটা বলার পেছনেও কারণ ছিলো। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকেই সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়ছিলো। এমনকি সেই ম্যাচের পর বেকাসেসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সমর্থকের বাকবিতণ্ডার খবরও সামনে আসে।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বেকাসেস বলেছিলোেন, এই দলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে যদি ফল না আসে তাহলে আমাকে এমন একটি জায়গা ছেড়ে যেতে হবে যেটাকে আমি খুব ভালোবাসি। কারণ শেষ পর্যন্ত ফুটবলে ফলই সবকিছু নির্ধারণ করে।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের বড় একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিলো ইকুয়েডর আর তাদের কোচ দুজনেরই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে এনে ইতিহাস গড়ে দলটি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর।
এই জয়কে অনেকে বেকাসেসের সবচেয়ে বড় কোচিং সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলছেন, ইকুয়েডর যদি এই ম্যাচে না জিততো তাহলে বেকাসেস হয়তো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিলোেন এবং তারা সেটা দারুণভাবে দিয়েছে। তারা লড়েছে, ঝাঁপিয়েছে, নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে।
ইকুয়েডরের পথটা শুরু থেকেই সহজ ছিলো না।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলোয়াড় নিবন্ধন বিতর্কের কারণে ইকুয়েডরকে তিন পয়েন্ট কাটা হয়েছিলো। এরপরও তারা লড়াই করে এগিয়েছে।
ফেলিক্স সানচেজের অধীনে ভালো শুরু করেও ২০২৪ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর তাকে বিদায় জানানো হয়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে কোচদের প্রতি ধৈর্য খুব কম বলেই পরিচিত।
সেই জায়গা থেকেই দায়িত্ব নেন বেকাসেসে।
তার শুরুটা হয়েছিলো ব্রাজিলের কাছে হার দিয়ে। কিন্তু এরপর টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকায় তারা শেষ করে শুধু ব্রাজিলের পিছনে।
তাই বিশ্বকাপে দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশাও ছিলো অনেক।
কিন্তু প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে শেষ মুহূর্তের হারে শুরু হয় হতাশা। এরপর বিশ্বকাপ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র সমর্থকদের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে দেয়।
সমর্থকদের সঙ্গে নিজের দূরত্ব নিয়েও অকপট ছিলোেন বেকাসেসে।
তিনি বলেছিলোেন, আমি হয়তো ইকুয়েডরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারিনি। সবাই আমাকে পছন্দ করবে এমন নয়।
খেলোয়াড়ি জীবনে বড় পরিচিতি না থাকলেও কোচ হিসেবে নিজের পরিচয় গড়েছেন তিনি। চিলির স্বর্ণযুগে হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও ছিলোেন। ধাপে ধাপে এসে এখন ইকুয়েডরের দায়িত্বে।
আর এখন হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন সামনে।
জার্মানিকে হারানোর পর তার কণ্ঠেও ছিলো সংযম। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের কখনো নরকে ভাবি না, আবার স্বর্গেও ভাবি না। আমরা মাটিতে পা রেখেই এগোতে চাই।”
ইকুয়েডর এবার খেলছে তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ। এর আগে শুধু ২০০৬ সালে তারা গ্রুপ পর্ব পার হতে পেরেছিলো।
বিশ বছর পর আবার এসেছে সেই সুযোগ।
তবে এবার তাদের দলটা আরও পরিণত। রক্ষণে উইলিয়ান পাচো আর পিয়েরো হিনকাপিয়ে, মাঝমাঠে মইসেস কাইসেদো, সামনে অভিজ্ঞ এননার ভ্যালেন্সিয়া। এই দলকে হারানো সহজ হবে না।
বেকাসেসের শেষ কথাটাই হয়তো সবচেয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরে ইকুয়েডরের বর্তমান অবস্থান। তিনি বলেছেন, আমি চাই মানুষ এই ফুটবলারদের ভালোবাসুক। কারণ এই ইকুয়েডর দল মানুষকে ভালোবাসতে বাধ্য করে। এরপর দেখা যাবে আমরা কতদূর যেতে পারি।
বিদায়ের কিনারা থেকে দাঁড়িয়ে ছিলো দলটি এখন ইকুয়েডরের সামনে নতুন স্বপ্ন।
বিদায়ের দ্বার থেকে ইতিহাসের পথে দক্ষিণ আমেরিকান ডার্ক হর্স ইকুয়েডর
নিউ জার্সিতে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় এক অন্যরকম দৃশ্য। মাঠের সীমানা পেরিয়ে গ্যালারির দিকে ছুটলেন ইকুয়েডরের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। এরপর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে উদযাপন করলেন এমন এক জয়, যা হয়তো তার ক্যারিয়ারই বদলে দিতে পারে।
জার্মানির বিপক্ষে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় শুধু ইকুয়েডরকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলেনি, বদলে দিয়েছে কোচ বেকাসেসের ভাগ্যও।
ম্যাচের আগে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, দল যদি গ্রুপ পর্ব পার হতে না পারে তাহলে হয়তো দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে তাকে।
সেটা বলার পেছনেও কারণ ছিলো। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকেই সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়ছিলো। এমনকি সেই ম্যাচের পর বেকাসেসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সমর্থকের বাকবিতণ্ডার খবরও সামনে আসে।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বেকাসেস বলেছিলোেন, এই দলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে যদি ফল না আসে তাহলে আমাকে এমন একটি জায়গা ছেড়ে যেতে হবে যেটাকে আমি খুব ভালোবাসি। কারণ শেষ পর্যন্ত ফুটবলে ফলই সবকিছু নির্ধারণ করে।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের বড় একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিলো ইকুয়েডর আর তাদের কোচ দুজনেরই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে এনে ইতিহাস গড়ে দলটি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর।
এই জয়কে অনেকে বেকাসেসের সবচেয়ে বড় কোচিং সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলছেন, ইকুয়েডর যদি এই ম্যাচে না জিততো তাহলে বেকাসেস হয়তো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিলোেন এবং তারা সেটা দারুণভাবে দিয়েছে। তারা লড়েছে, ঝাঁপিয়েছে, নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে।
ইকুয়েডরের পথটা শুরু থেকেই সহজ ছিলো না।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলোয়াড় নিবন্ধন বিতর্কের কারণে ইকুয়েডরকে তিন পয়েন্ট কাটা হয়েছিলো। এরপরও তারা লড়াই করে এগিয়েছে।
ফেলিক্স সানচেজের অধীনে ভালো শুরু করেও ২০২৪ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর তাকে বিদায় জানানো হয়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে কোচদের প্রতি ধৈর্য খুব কম বলেই পরিচিত।
সেই জায়গা থেকেই দায়িত্ব নেন বেকাসেসে।
তার শুরুটা হয়েছিলো ব্রাজিলের কাছে হার দিয়ে। কিন্তু এরপর টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকায় তারা শেষ করে শুধু ব্রাজিলের পিছনে।
তাই বিশ্বকাপে দলটিকে নিয়ে প্রত্যাশাও ছিলো অনেক।
কিন্তু প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে শেষ মুহূর্তের হারে শুরু হয় হতাশা। এরপর বিশ্বকাপ অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র সমর্থকদের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে দেয়।
সমর্থকদের সঙ্গে নিজের দূরত্ব নিয়েও অকপট ছিলোেন বেকাসেসে।
তিনি বলেছিলোেন, আমি হয়তো ইকুয়েডরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারিনি। সবাই আমাকে পছন্দ করবে এমন নয়।
খেলোয়াড়ি জীবনে বড় পরিচিতি না থাকলেও কোচ হিসেবে নিজের পরিচয় গড়েছেন তিনি। চিলির স্বর্ণযুগে হোর্হে সাম্পাওলির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও ছিলোেন। ধাপে ধাপে এসে এখন ইকুয়েডরের দায়িত্বে।
আর এখন হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন সামনে।
জার্মানিকে হারানোর পর তার কণ্ঠেও ছিলো সংযম। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের কখনো নরকে ভাবি না, আবার স্বর্গেও ভাবি না। আমরা মাটিতে পা রেখেই এগোতে চাই।”
ইকুয়েডর এবার খেলছে তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ। এর আগে শুধু ২০০৬ সালে তারা গ্রুপ পর্ব পার হতে পেরেছিলো।
বিশ বছর পর আবার এসেছে সেই সুযোগ।
তবে এবার তাদের দলটা আরও পরিণত। রক্ষণে উইলিয়ান পাচো আর পিয়েরো হিনকাপিয়ে, মাঝমাঠে মইসেস কাইসেদো, সামনে অভিজ্ঞ এননার ভ্যালেন্সিয়া। এই দলকে হারানো সহজ হবে না।
বেকাসেসের শেষ কথাটাই হয়তো সবচেয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরে ইকুয়েডরের বর্তমান অবস্থান। তিনি বলেছেন, আমি চাই মানুষ এই ফুটবলারদের ভালোবাসুক। কারণ এই ইকুয়েডর দল মানুষকে ভালোবাসতে বাধ্য করে। এরপর দেখা যাবে আমরা কতদূর যেতে পারি।
বিদায়ের কিনারা থেকে দাঁড়িয়ে ছিলো দলটি এখন ইকুয়েডরের সামনে নতুন স্বপ্ন।
বিষয়: