সমঝোতার পর্ব শেষ, শুক্রবার শি চিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সঙ্গে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএমআপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
সমঝোতার পর্ব শেষ, শুক্রবার শি চিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক
চীন সফরের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে। সফরের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যা দুই দেশের ভবিষ্যত সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব পিপল’-এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের চীন সফর।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।
এর আগে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান।
সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার ১৩টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এসব সমঝোতা স্মারক সই করা হয়।
গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
স্বাক্ষরিত ১৩টি সমঝোতা স্মারক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এসব চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
লালগালিচা সংবর্ধনা, সশস্ত্র সালাম, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও গার্ড অব অনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। পরে দুই নেতা প্যারেড পরিদর্শন করেন।
এর আগে সকালে তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের একটি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
সরকারপ্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে ২৪ জন প্রতিনিধি ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা।
তিস্তা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আশ্বাস
তিস্তা ও নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছে চীন। চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
চীনা পক্ষ এ খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।
চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ও বিডা’র যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবারের এই প্রোগ্রামে চীনের প্রায় ৮০টি শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও নীতিগত সংস্কার তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান আরও জানান, নতুন লাইসেন্স অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে।
জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নত টেক্সটাইল খাতে বিশেষ প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী চীনা বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন।
বিএনপি-চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সমঝোতা
রাষ্ট্রীয় সফরে পার্টি-টু-পার্টি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে পার্টি-টু-পার্টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও জনগণের সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করে। এ বৈঠকে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, চীনা পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চীনা রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে যান। সেখানে দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন এবং পরে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান। এর আগে ২০০১ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন তারেক রহমান।
সমঝোতার পর্ব শেষ, শুক্রবার শি চিনপিং-তারেক রহমান বৈঠক
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের সঙ্গে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
চীন সফরের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে। সফরের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যা দুই দেশের ভবিষ্যত সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব পিপল’-এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের চীন সফর।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।
এর আগে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান।
সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার ১৩টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এসব সমঝোতা স্মারক সই করা হয়।
গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
স্বাক্ষরিত ১৩টি সমঝোতা স্মারক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এসব চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
লালগালিচা সংবর্ধনা, সশস্ত্র সালাম, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও গার্ড অব অনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। পরে দুই নেতা প্যারেড পরিদর্শন করেন।
এর আগে সকালে তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের একটি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
সরকারপ্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে ২৪ জন প্রতিনিধি ছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা।
তিস্তা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আশ্বাস
তিস্তা ও নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছে চীন। চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
চীনা পক্ষ এ খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।
চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ও বিডা’র যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবারের এই প্রোগ্রামে চীনের প্রায় ৮০টি শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও নীতিগত সংস্কার তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান আরও জানান, নতুন লাইসেন্স অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যেই নতুন ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে।
জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নত টেক্সটাইল খাতে বিশেষ প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী চীনা বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন।
বিএনপি-চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সমঝোতা
রাষ্ট্রীয় সফরে পার্টি-টু-পার্টি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে পার্টি-টু-পার্টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন ও পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও জনগণের সংযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করে। এ বৈঠকে বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
উন্নয়ন সহযোগিতার আশ্বাস
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, চীনা পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একইসঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
চীনা রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে যান। সেখানে দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন এবং পরে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান। এর আগে ২০০১ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন তারেক রহমান।
বিষয়: