বিলাসী জীবন ও কোটি টাকার পারিশ্রমিক নিয়ে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন বলিউড তারকারা। বলিউড বাদশা শাহরুখ খান থেকে শুরু করে ভাইজান সালমান খান ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকেন।
অনেক সময় এই ভক্তদের জন্য স্বাভাবিক চলাফেরাও করতে পারেন না। সবসময় সঙ্গে রাখতে হয় বডিগার্ড বা দেহরক্ষী। এই দেহরক্ষীদের নিয়েও আগ্রহের কমতি নেই। তারকাদের বিলাসবহুল জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বডিগার্ডদের পারিশ্রমিক কোটি টাকার ওপরে।
বলিউডের দেহরক্ষীদের কথা বললেও প্রথম নাম আসে শাহরুখ খান ও সালমান খানের। শাহরুখের দেহরক্ষী রবি সিং এবং সালমানের দীর্ঘদিনের দেহরক্ষী শেরাকে নিয়েও প্রায় সংবাদ হয় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায়ই দাবি করা হয়, বলিউড তারকাদের দেহরক্ষীরা বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করেন। তবে নিরাপত্তা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব তথ্যের বড় অংশই অতিরঞ্জিত।
জি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে বলিউডের তারকারা মূলত নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে দেহরক্ষী নিয়োগ করতেন। সেই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা মাসিক নির্দিষ্ট বেতন পেতেন এবং দীর্ঘ সময় সেবা দিতেন।
কিন্তু এখন অনেক তারকার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি তারকার নিজস্ব টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ফলে তাদের কাজের ধরন ও পারিশ্রমিক দুটোই বদলে গেছে।

শাহরুখ খানের দেহরক্ষী রবি সিং
শাহরুখ খানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রবি সিং বর্তমানে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত দেহরক্ষীদের একজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তার বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। শাহরুখ যেখানে যান, প্রায় সব জায়গাতেই তাকে দেখা যায় অভিনেতার পাশে। ভিড়ের মধ্যে শাহরুখকে নিরাপদে বের করে আনার দায়িত্ব মূলত তারই।

সালমান খানের দেহরক্ষী শেরা
সালমান খানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত দেহরক্ষী শেরা বলিউডে প্রায় তারকার মতোই পরিচিত। ১৯৯৫ সাল থেকে সালমানের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। শুধু দেহরক্ষী হিসেবেই নয়, শেরা নিজের “টাইগার সিকিউরিটি” নামের একটি নিরাপত্তা সংস্থাও পরিচালনা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমানের কাছ থেকে তিনি বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা পান।

দীপিকা পাড়ুকোনের দেহরক্ষী জালালউদ্দিন শেখ
দীপিকা পাড়ুকোনের দেহরক্ষী জালালউদ্দিন শেখও বলিউডে পরিচিত মুখ। বহু বছর ধরে তিনি দীপিকার সঙ্গে আছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা বিমানবন্দরে দীপিকার পাশে সবসময় তাকেই দেখা যায়। তার বার্ষিক আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়।

অমিতাভ বচ্চনের দেহরক্ষী জিতেন্দ্র শিন্ডে
অমিতাভ বচ্চনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিতেন্দ্র শিন্ডেও আলোচিত নাম। তাকে প্রায়ই হাতে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে অমিতাভের নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। জানা গেছে, তিনি নিজেও একটি নিরাপত্তা সংস্থা পরিচালনা করেন। প্রতিবেদনে তার আয় প্রায় দুই কোটি টাকা বলা হয়েছে।
আনুষ্কা শর্মার দেহরক্ষী প্রকাশ সিং
আনুষ্কা শর্মার দেহরক্ষী প্রকাশ সিং, যাকে অনেকে “সোনু” নামে চেনেন, বহু বছর ধরে অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করছেন। আনুষ্কার বিয়ে হওয়ার আগ থেকেই তিনি তার নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। বর্তমানে বিরাট কোহলি ও আনুষ্কার সফরেও তাকে দেখা যায়। তার আয়ও বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অক্ষয় কুমারের দেহরক্ষী শ্রেসে থেলে
অক্ষয় কুমারের দেহরক্ষী শ্রেসে থেলে এবং আমির খানের নিরাপত্তাকর্মী যুবরাজ ঘোরপাদের আয় নিয়েও আলোচনা হয় প্রায়ই। জি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারাও বছরে কোটি টাকার কাছাকাছি আয় করেন।
কতটা সত্যি?
তারকাদের নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী এক সংস্থার প্রধান ইউসুফ ইব্রাহিম, যিনি বর্তমানে আলিয়া ভাটের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি বলেন, দেহরক্ষীদের প্রকৃত বেতনের তথ্য সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না। তবে মাসিক কোটি টাকার বেতন বাস্তবসম্মত নয় বলেই তার মন্তব্য।

সালমান খানের দেহরক্ষী শেরা বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান। এ প্রসঙ্গে ইউসুফ ইব্রাহিম বলেন, সালমান খানের নিজস্ব নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যবসা থাকায় শেরার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা থাকতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, আগে তারকাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেমন অভিনেতা রনিত রায়-এর নিরাপত্তা সংস্থা বহু বলিউড তারকাকে সুরক্ষা দিত। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা নির্দিষ্ট বেতনে কাজ করতেন এবং অতিরিক্ত সুবিধা তুলনামূলক কম ছিল।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। অনেক দেহরক্ষী সরাসরি তারকার ব্যক্তিগত টিমের অংশ হিসেবে কাজ করেন। ফলে মাসিক বেতনের পাশাপাশি সিনেমার শুটিং, বিজ্ঞাপন বা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে আলাদা পারিশ্রমিকও পান তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইভেন্টভেদে প্রতিদিন ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় হতে পারে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দীপিকা পাডুকোন, আনুশকা শর্মা কিংবা আমির খান-এর নিরাপত্তাকর্মীদের উচ্চ পারিশ্রমিকের দাবি করা হলেও, বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ বেতন কাঠামো অনুসরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের শুটিং চলাকালে নিরাপত্তা ব্যয় সাধারণত প্রযোজনা সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড বহন করে।
ভ্রমণ, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচও সেই পক্ষের দায়িত্বে থাকে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবহার করলে তারকারাই ব্যয় বহন করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তবে বেতনের বাইরে দেহরক্ষীরা আরও কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার ফলে তারকা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসা ব্যয়ের মতো সহায়তাও দেওয়া হয়।



