দুই বাংলাদেশির স্টার্টআপে জাপান-যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএমআপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
একটি রেস্টুরেন্টে বিনিয়োগ করতে চাইলে তার পুরোটি । জিম, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর কিংবা খামারের ক্ষেত্রেও একই কথা। ব্যবসাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে, তার এক অংশের মালিকানা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে দুই বাংলাদেশির তৈরি আর্থিক প্রযুক্তি উদ্যোগ ‘ওয়াইজারগেটস’। বাংলাদেশে শুরু হওয়া এই স্টার্টআপটির যাত্রা এখন গড়িয়েছে দুবাইয়ে। সেখান থেকে এবার জাপান ও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদেরও নজর কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে প্রি-সিড বিনিয়োগ পর্ব শুরু করেছে ওয়াইজারগেটস। এতে টোকিওভিত্তিক নিউভিশন জাপান এবং লন্ডনভিত্তিক ওয়ান সিএস হোল্ডিংস বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ওয়াইজারগেটসের মূল উদ্যোগ ‘ন্যানো অ্যাসেটস’। ধারণাটি সরল, বড় ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা। একটি লাভজনক ছোট ব্যবসার মালিকানা অনেকগুলো ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে দেওয়া হবে। ফলে তুলনামূলক কম টাকা দিয়েও একজন বিনিয়োগকারী সেই ব্যবসার মালিকানার অংশ পাবেন এবং মুনাফার ভাগ পাবেন। প্রথম পর্যায়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেস্টুরেন্ট, লন্ড্রি, জিম, ডিপার্ট্মেন্টাল স্টোর, কৃষি ও পণ্য ব্যবসার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হতে পারে নতুন ধরনের মূলধন সংগ্রহের পথ, ব্যাংক ঋণ বা বড় বিনিয়োগকারীর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে ছোট ছোট বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া। ওয়াইজারগেটস বলছে, তাদের লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা নয়। সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের ‘ফিনানশিয়াল নলেজ’ বাড়ানোর বিষয়টিও তাদের লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ রিফায়েত চৌধুরীর মতে, উৎপাদনশীল খাতের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক বিনিয়োগের সুযোগ মানুষের মৌলিক অধিকার । দুবাইকে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে বড় বাজারের হিসাব। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ওয়াইজারগেটস দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের (ডিআইএফসি) অধীনে নিবন্ধিত হয়ে সেখানে চার সদস্যের একটি দল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশের জন্যও অবশ্য তাদের পরিকল্পনা আলাদা। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে আনার সম্ভাবনাকে তারা বলছে ‘ন্যানো এফডিআই’। প্রতিষ্ঠাতাদের হিসাবে, প্রবাসী আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা গেলে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং ও ডিজিটাল শেয়ারের জন্য কার্যকর নীতিমালা তৈরি হলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশেও প্ল্যাটফর্মটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াইজারগেটসের। প্রায় পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা রিফায়েত চৌধুরী ও মো. নাজিবুর রহমান, দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক শিক্ষার্থী। একজন বহুজাতিক ব্যাংকে, অন্যজন বহুজাতিক টেলিকম প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন। ওয়াইজারগেটসের দাবি, গত পাঁচ বছরে তারা ১০টির বেশি কোম্পানি ও বিভিন্ন খাতে ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এবার জাপান ও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়, দুবাই থেকে যুক্তরাজ্য, আর সেখান থেকে এমন এক বিনিয়োগব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ব্যবসার মালিকানা আর শুধু বড় পুঁজির জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না।
দুই বাংলাদেশির স্টার্টআপে জাপান-যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ
একটি রেস্টুরেন্টে বিনিয়োগ করতে চাইলে তার পুরোটি । জিম, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর কিংবা খামারের ক্ষেত্রেও একই কথা। ব্যবসাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে, তার এক অংশের মালিকানা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে দুই বাংলাদেশির তৈরি আর্থিক প্রযুক্তি উদ্যোগ ‘ওয়াইজারগেটস’।
বাংলাদেশে শুরু হওয়া এই স্টার্টআপটির যাত্রা এখন গড়িয়েছে দুবাইয়ে। সেখান থেকে এবার জাপান ও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদেরও নজর কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে প্রি-সিড বিনিয়োগ পর্ব শুরু করেছে ওয়াইজারগেটস। এতে টোকিওভিত্তিক নিউভিশন জাপান এবং লন্ডনভিত্তিক ওয়ান সিএস হোল্ডিংস বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়াইজারগেটসের মূল উদ্যোগ ‘ন্যানো অ্যাসেটস’। ধারণাটি সরল, বড় ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনা। একটি লাভজনক ছোট ব্যবসার মালিকানা অনেকগুলো ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে দেওয়া হবে। ফলে তুলনামূলক কম টাকা দিয়েও একজন বিনিয়োগকারী সেই ব্যবসার মালিকানার অংশ পাবেন এবং মুনাফার ভাগ পাবেন।
প্রথম পর্যায়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেস্টুরেন্ট, লন্ড্রি, জিম, ডিপার্ট্মেন্টাল স্টোর, কৃষি ও পণ্য ব্যবসার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হতে পারে নতুন ধরনের মূলধন সংগ্রহের পথ, ব্যাংক ঋণ বা বড় বিনিয়োগকারীর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে ছোট ছোট বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া।
ওয়াইজারগেটস বলছে, তাদের লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা নয়। সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের ‘ফিনানশিয়াল নলেজ’ বাড়ানোর বিষয়টিও তাদের লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ রিফায়েত চৌধুরীর মতে, উৎপাদনশীল খাতের প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক বিনিয়োগের সুযোগ মানুষের মৌলিক অধিকার ।
দুবাইকে বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে বড় বাজারের হিসাব। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ওয়াইজারগেটস দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের (ডিআইএফসি) অধীনে নিবন্ধিত হয়ে সেখানে চার সদস্যের একটি দল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।
বাংলাদেশের জন্যও অবশ্য তাদের পরিকল্পনা আলাদা। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে আনার সম্ভাবনাকে তারা বলছে ‘ন্যানো এফডিআই’। প্রতিষ্ঠাতাদের হিসাবে, প্রবাসী আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা গেলে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং ও ডিজিটাল শেয়ারের জন্য কার্যকর নীতিমালা তৈরি হলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশেও প্ল্যাটফর্মটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াইজারগেটসের।
প্রায় পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা রিফায়েত চৌধুরী ও মো. নাজিবুর রহমান, দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সাবেক শিক্ষার্থী। একজন বহুজাতিক ব্যাংকে, অন্যজন বহুজাতিক টেলিকম প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন।
ওয়াইজারগেটসের দাবি, গত পাঁচ বছরে তারা ১০টির বেশি কোম্পানি ও বিভিন্ন খাতে ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
এবার জাপান ও যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়, দুবাই থেকে যুক্তরাজ্য, আর সেখান থেকে এমন এক বিনিয়োগব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ব্যবসার মালিকানা আর শুধু বড় পুঁজির জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না।