এনবিআরের সেই ২০ কর্মচারীর শাস্তি মওকুফ করেছেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মচারীদের শাস্তি মওকুফ করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে রবিবার এ বিষয়ে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। 

২০২৫ সালের জুনে রাজস্ব খাতের সংস্কার নিয়ে আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এনবিআরের এসব কর্মচারী। আন্দোলনের সময় কেউ বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, কেউ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন, আবার কোথাও এনবিআরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এসব ঘটনাকে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০এ বিধি এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কয়েকজনের বেতন গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

পরে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব সম্মেলনে কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এসব শাস্তি প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

তারা বলেন, শাস্তির কারণে কর্মচারীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, যা রাজস্ব আদায়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তাদের অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং শাস্তি প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন বলে সংবাদ প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ও শাস্তি মওকুফের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি শাস্তি মওকুফের অনুমোদন দেন। রবিবার আইআরডির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

মওকুফ পাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- জাকির হোসেন, হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।

প্রসঙ্গত, আন্দোলনের সময় এনবিআরের কার্যক্রম প্রায় দেড় মাস ব্যাহত হয়েছিলো। জুনের শেষ দিকে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিলে দেশের বিভিন্ন কাস্টমস ও কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এতে অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আদায় নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।