রম্য

যাদবপুরের প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থী নির্যাতন স্পষ্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আমরা এমন এক সভ্যতায় পৌঁছেছি, যেখানে ছাত্র রচনা লেখে না, রচনা ছাত্রকে লেখে। আগে পরীক্ষার হলে নকল ধরার জন্য শিক্ষক ঘুরে বেড়াতেন, এখন শিক্ষক ভাবেন—“এটা ছাত্র লিখেছে, নাকি ছাত্রের হয়ে তার ডিজিটাল মামা লিখেছে?”

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

বাংলাদেশের একজন গড়পড়তা পরীক্ষার্থী হিসেবে আমি যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৬ সালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটি দেখলাম, তখন প্রথমে ভেবেছিলাম এটি নিশ্চয়ই প্রশ্নপত্র নয়। সম্ভবত কোনো সাহিত্য পত্রিকার শারদীয় সংখ্যার কিছু অংশ ভুল করে পরীক্ষার হলে বিতরণ করা হয়েছে।

কারণ আমাদের পরিচিত প্রশ্নপত্রে সাধারণত থাকে—

“রবীন্দ্রনাথের জন্মসাল কত?”

ক. ১৮৬১
খ. ১৯৬১
গ. ২০৬১
ঘ. পরীক্ষকের ইচ্ছা

এ ধরনের প্রশ্ন।

কিন্তু যাদবপুরের প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে আমার মনে হলো, এরা ছাত্র ভর্তি করতে চায় নাকি ছাত্রদের মানসিক সহনশীলতা পরীক্ষা করতে চায়!

দেখুন প্রশ্নগুলো।

প্রথমেই বলছে—

“সাহিত্য-গল্প বা সিনেমায়-দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী নারী-চরিত্র।”

এটা কোনো প্রশ্ন হলো?

আমাদের এমসিকিউ প্রজন্ম তো অভ্যস্ত—

“বেগম রোকেয়া ছিলেন— ক. কবি খ. লেখক গ. সমাজসংস্কারক ঘ. উপরোক্ত সব”

এখানে অন্তত চারটি অপশন আছে। ছাত্র নিশ্চিন্তে আন্দাজ করতে পারে। কিন্তু “সবচেয়ে শক্তিশালী নারী চরিত্র” তো প্রত্যেকের কাছে আলাদা হতে পারে!

অর্থাৎ পরীক্ষক ছাত্রকে নিজের মতামত দিতে বলছেন! নারীদের নিয়ে আবার মতামত দেওয়ার কী আছে। তারা তো নারী? নারী বলার মধ্য দিয়েই তো সব ধরনের মতামত দেওয়া হয়ে গেলো। এরপর আর কীসের মতামত? যারা এই প্রশ্ন করেছেন তারা কি নারী কী বস্তু বোঝেন না? এমন নরম কোমল বস্তু না বোঝার কী আছে হে বাপু! তাছাড়া নারীর আবার চরিত্র! নারীর চরিত্র বুঝবে তার স্বামী। আপনি আমি কে এ নিয়ে রচনা লেখার। এ এক ভয়ংকর অবস্থা।

“তোমার ছোটবেলার ইচ্ছেগুলো, খামখেয়ালগুলো নিয়েও নিবন্ধ লিখতে হবে!"

বিষয়টা ভাবুন একবার।

একজন ছাত্র কোচিংয়ে তিন বছর ধরে শিখেছে কীভাবে সঠিক বৃত্ত ভরাট দিতে হয়। সে পরীক্ষা হলে গিয়ে আবিষ্কার করছে, তাকে নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে হবে।

নিজের ছোটবেলার স্বপ্ন নিয়ে লিখতে হবে।

এ কেমন নিষ্ঠুরতা?

শিক্ষাব্যবস্থার কাজ কি ছাত্রকে স্বপ্ন দেখতে শেখানো, নাকি অপশন মুখস্থ করানো? ইচ্ছেগুলো নিয়ে লিখতে বলাই যেখানে অন্যায় সেখানে আবার খামখেয়ালগুলো নিয়ে লিখতে বলা হয়েছে! এটা আমার বিবেচনায় রীতিমত মানবাধিকার লঙ্ঘন। খামখেয়াল নিয়ে তো খামখেয়ালী করা যাবে না। এসব রচনা লিখতে গেলে ছাত্রদের মধ্যে খামখেয়ালী প্রবণতা বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি এসব করতে পারে! দারুণ মেধার অপচয় হবে না? বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো জনগণের টাকায় চলে। সেই টাকার অপচয়! ছিঃ!

এরপর আরও বিপজ্জনক প্রশ্ন—

“পথের পাঁচালীর দুর্গার সঙ্গে তোমার এক কাল্পনিক ট্রেন-সফর।”

আমি নিশ্চিত, এই প্রশ্ন পড়ার পর বাংলাদেশের অন্তত অর্ধেক পরীক্ষার্থী ট্রেনের নিচে চলে যেতে রাজি হবে, কিন্তু দুর্গার সঙ্গে কাল্পনিক সফরে যেতে রাজি হবে না। কারণ এখানে শুধু বই পড়লেই হবে না।

কল্পনাও থাকতে হবে! এখন কল্পনাশক্তি নামক বিষয়টি কোচিংয়ের সিলেবাসে নেই। কল্পনা শক্তি ছাত্রদের দৃষ্টি শক্তিই তো নাই। ফলে ছাত্র বিপদে।

তাছাড়া ট্রেন তো বাংলাদেশে কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠানও নয়! বছরে যে প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকা লোকসান করে সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে রচনা লেখা অন্যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানে উদ্বুদ্ধ হবে।
আরেকটি কথা দুর্গার সঙ্গে কেন ট্রেন ভ্রমণ করতে হবে? দুর্গা নারী হোক সে শিশু/কিশোরী। সে তো ঘরে থাকবে। সে কেন একজন অচেনার মানুষের সঙ্গে ট্রেন ভ্রমণ করবে? দেশে কি আইন-কানুন, ধর্মীয় রীতি-নীতি বলে কিছু নেই? এমনিতেই মেয়েরা এই দেশে খুব বাড় বেড়েছে। তারা অভিভাবকদের মানতে চায় না। বন্ধুদের সঙ্গে চা খায় (সিগারেট খায় বলতেও লজ্জা লাগছে)। সেই প্রেক্ষাপটে দুর্গাকে নিয়ে আমি বা আমার বন্ধুরা কোনোভাবেই ট্রেন ভ্রমণে যেতে চাই না। পরিবারের লোকজন জানলে দুর্নাম রটবে। বিয়েতেও ঝামেলা হবে দুর্গার।

এরপর আসে—

“উত্তম কুমার বনাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়”

এই ধরনের প্রশ্ন দেখে আমার সন্দেহ হয়, পরীক্ষকরা আসলে ছাত্র খুঁজছেন নাকি পাঠক/দর্শক খুঁজছেন!

কারণ এখানে সিনেমা দেখতে হবে। ছাত্রদের সিনেমা দেখায় উদ্বুদ্ধ করা যাবে! ছিঃ। সিনেমায় কত অশ্লীল দৃশ্য থাকে। গান-বাজনা-নাচন-কুদন থাকে। তাছাড়া এখনকার ছাত্ররা সিনেমার পরিবর্তে দেখে শর্টস, রিলস। এসবে কে আসল উত্তম কে নকল সৌমিত্র তা কে বলবে? ফলে এই ধরনের প্রশ্নে ছাত্রদের ফেইসবুক ও ইউটিউবে মূল্যবান সময় ব্যয়ে বাধা তৈরি করতে পারে।

এরপর প্রশ্ন—

“প্রিয় সাহিত্যিকের উদ্দেশে লেখা তোমার খোলা-চিঠি।”

খোলা চিঠি?

মানে ছাত্রকে চিঠি লিখতে হবে? নিজের ভাষায়? নিজের অনুভূতি দিয়ে? কোনো অপশন নেই? এভাবে একটা জাতির ভবিষ্যত নিয়ে খেলা করা যায়?

তারপর এলো আমার সবচেয়ে প্রিয় আতঙ্ক—

“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সুখের কথা, ভয়ের কথা।”

বাংলাদেশি পরীক্ষার্থী এখানে গিয়ে লিখতে পারে—

“এই উত্তরটি ChatGPT-এর সাহায্যে লেখা।”

কিন্তু সমস্যা হলো, পরীক্ষা হলে ইন্টারনেট থাকে না।

ফলে হঠাৎ আবিষ্কার করা যায়, সারা জীবনে প্রথমবার নিজের মাথা ব্যবহার করতে হবে।

আরেকটি রত্ন—

“সাহিত্যিকদের আড্ডা: বৈকুণ্ঠ মল্লিক, লালমোহন গাঙ্গুলী ও সত্যজিত রায়।  

এই প্রশ্ন দেখে মনে হলো পরীক্ষক সম্ভবত সকালবেলায় চা খেতে খেতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—দেখি, আজ ক’জন মানুষ ভর্তি হতে আসে। কারণ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে মাথার ভেতর সংযোগ তৈরি করতে হবে। চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ ছাত্রকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এছাড়া আড্ডা বিষয়ক নিবন্ধ! তাও আবার সাহিত্যিকদের আড্ডা? সাহিত্য জিনিসটাই ফালতু। আর এর যারা স্রষ্টা তারা তো আরও! কী সব আজগুবি লেখে। ওসব পড়ে ছাত্রদের মাথাও নষ্ট হয়। আড্ডা এবং সাহিত্য দুটোই মূলত সমাজ বিরোধী কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। বরং এবিষয়ে যদি রচনা লিখতে বলা হতো তাহলে বরং সমাজ হিতৈষী কাজ হতো। তা না কচুর প্রশ্ন করেছেন!

এরপর দেখি—

“যে-জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে তার পাখিদের কথোপকথন।”

এটা তো সরাসরি পাখিদের মুখপাত্র হওয়ার আহ্বান! মানুষ হয়ে পাখির ভাষায় কথা বলতে হবে। যে শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রকে পাখির দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে শেখায়, সে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমসিকিউ-নির্ভর সমাজ সহজে ক্ষমা করবে না। তাছাড়া পাখিরা তো মানুষের কোনো কাজেও আসে না। তারা মানুষকে কোনোভাবে সাহায্য করেছে বলতে পারলে একটা পাখির মাংসের রোস্ট খাওয়াবো। পাখিরা জঙ্গলে থাকে জঙ্গলে হাগু করে। জঙ্গল নষ্ট হয়। জঙ্গলের গাছ কাটতে গেলে মাস্ক পরতে হয়। ফলে পাখিরা সবভাবেই মানুষের শত্রু, তাদের কথোপকথন কোনোভাবেই শিক্ষার বিষয় হতে পারে না।

সবশেষে আছে—

“ঈশ্বরকে যদি তিনটি প্রশ্ন করার সুযোগ পেতে...”

এটা তো একেবারে সর্বনাশ।

ছাত্র জীবনে এতদিন শুনেছে, প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এখানে তাকে উল্টো প্রশ্ন বানাতে বলা হচ্ছে!

এটা তো শিক্ষার্থী অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড! তাও আবার ঈশ্বরকে প্রশ্ন করতে হবে? কী ধরনের ধৃষ্টতা হে বাপু! ঈশ্বরের পাইক পেয়াদাদের হাতে তো এই প্রশ্ন কর্তারা পড়েনি, তাই যা তা প্রশ্ন করে যাচ্ছে। একবার পাইক-বরকন্দাজরা টের পেলে ঘুচিয়ে দেবে প্রশ্ন করার সব খায়েশ।

সত্যি বলতে কী, এই প্রশ্নপত্র দেখে আমি বাংলাদেশের এমসিকিউ ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে শ্রদ্ধা অনুভব করেছি।

এমসিকিউ কাকে বলে? এমসিকিউ হলো গণতন্ত্রের সবচেয়ে নিরাপদ রূপ।

আপনি জানেন না? কোনো সমস্যা নেই। মার্ক করুন। দ্বিধায় আছেন? মার্ক করুন।

কিছুই পড়েননি? তবুও মার্ক করুন।

এমনকি আমার জায়গায় যদি একটি মাঝারি মানের ছাগল বসানো হয়, সেও চারটি অপশনের মধ্যে কোনো না কোনো বৃত্তে কলম লাগাতে পারবে।

ভাগ্য ভালো হলে নম্বরও পাবে।

কারণ এখানে জ্ঞানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অনুমানক্ষমতা।

কিন্তু যাদবপুরের এই প্রশ্নপত্রে বিপদ অন্য জায়গায়।

এখানে আন্দাজ কাজ করে না। এখানে ছাত্রকে পড়তে হয়, ভাবতে হয়, কল্পনা করতে হয়, প্রশ্ন করতে হয়, নিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ এখানে পরীক্ষা হয় মানুষের।

বাংলাদেশের এমসিকিউ-সংস্কৃতিতে আমরা ধীরে ধীরে “সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা” জাতিতে পরিণত হয়েছি।

আর যাদবপুরের প্রশ্নপত্র বলছে— “সঠিক উত্তর নয়, তোমার উত্তর কী?” এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।

কারণ এর উত্তর গাইডবইয়ে নেই। কোচিং সেন্টারের শর্টকাটে নেই। ইউটিউবের ‘লাস্ট মিনিট সাজেশন’-এ নেই।

এটা খুঁজতে হয় নিজের মাথার ভেতরে। আর আমাদের শিক্ষা-বাস্তবতার সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি সম্ভবত এটাই—বইয়ের ভেতর আমরা অনেক কিছু খুঁজেছি, গুগলের ভেতর আরও বেশি কিছু খুঁজেছি, কিন্তু নিজের মাথার ভেতরে শেষ কবে খুঁজেছি, সেটাই আর মনে নেই।

তাই যাদবপুরের প্রশ্নপত্রকে আমি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বলবো না। এটি আসলে একটি সাহিত্যিক সতর্কবার্তা। এটি ছাত্রদের জিজ্ঞেস করছে— “তুমি কি কেবল উত্তর জানো, নাকি সত্যিই চিন্তা করতে পারো?”

আর এই প্রশ্নের কোনো এমসিকিউ অপশন নেই। সেখানেই সমস্ত ভয়।

বৃত্ত ভরাট ও এআই

একসময় মানুষ গর্ব করে বলতো, “মানুষের মতো বুদ্ধিমান আর কেউ নেই।” এখন সেই মানুষই সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বলে, “ওহে এআই, আজ আমি কী খাবো?”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আমরা এমন এক সভ্যতায় পৌঁছেছি, যেখানে ছাত্র রচনা লেখে না, রচনা ছাত্রকে লেখে। আগে পরীক্ষার হলে নকল ধরার জন্য শিক্ষক ঘুরে বেড়াতেন, এখন শিক্ষক ভাবেন—“এটা ছাত্র লিখেছে, নাকি ছাত্রের হয়ে তার ডিজিটাল মামা লিখেছে?”

একদিন এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুই এতো সুন্দর প্রেমপত্র লিখিস কী করে?”

সে গর্ব করে বললো, “ভাই, প্রেম আমি করি, ভাষা দেয় এআই!”

প্রেমিকার উত্তরও নাকি এআই-নির্ভর। ফলে এখন সম্পর্কের অবস্থা এমন যে দুইজন মানুষের মধ্যে প্রেম হচ্ছে, কিন্তু কথোপকথন করছে চারটা অ্যালগরিদম।

অফিসেও একই অবস্থা। আগে বস বলতেন, “নিজের মাথা খাটাও।” এখন বলেন, “এআই ব্যবহার করে রিপোর্ট বানাও।” অর্থাৎ মাথা খাটানো থেকে মাথা ভাড়া দেওয়ার যুগে প্রবেশ করেছি আমরা।

সবচেয়ে মজার অবস্থা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। একজন পোস্ট দিলেন— “আমি আজ খুব কষ্টে আছি।”

নিচে প্রথম মন্তব্য: “এই মন্তব্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি।”

দ্বিতীয় মন্তব্য: “ভাই, শক্ত থাকুন।”

সেটাও এআই-লিখিত।

তৃতীয় মন্তব্য: “ইনবক্স চেক করুন।”

এটাও এআই।

অর্থাৎ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, সমবেদনাও পাচ্ছে রোবটের কাছ থেকে।

শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে চাকরির ইন্টারভিউও নেবে এআই। তখন প্রার্থী বলবে, “স্যার, আমি অত্যন্ত পরিশ্রমী।”

এআই জিজ্ঞেস করবে, “এই উত্তরটি কি আপনি নিজে লিখেছেন, নাকি আমার কোনো আত্মীয় লিখে দিয়েছে?”

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—এটি মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে, মানুষের প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কতো কম ছিলো!

যে মানুষ ক্যালকুলেটর ছাড়া দুই অংক যোগ করতে ভয় পায়, সে এখন এআইকে ভয় দেখিয়ে বলে, “দেখিস, একদিন তোদের নিয়ন্ত্রণ করবো।”

এআই হয়তো তখন শান্তভাবে উত্তর দেবে, “আপনার পাসওয়ার্ড গত তিন বছরে তিনবার ভুলে গেছেন। নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে একটু পরে কথা বলি।”

শেষ পর্যন্ত মনে হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পৃথিবী দখল করবে কি-না, সেটা বড় প্রশ্ন নয়। আসল প্রশ্ন হলো—মানুষ নিজের বুদ্ধিমত্তা কোথায় রেখে এসেছে?

কারণ যেদিন এআই মানুষকে জিজ্ঞেস করবে, “আপনার কাজ কী?” সেদিন অনেকেই উত্তর দেবে, “আমি আপনার দেওয়া উত্তরগুলো কপি-পেস্ট করি!”

আর তখন ইতিহাস লিখবে— মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টি করেছিলো, কিন্তু শেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই মানুষকে অলস হওয়ার শিল্প শিখিয়েছিলো।