সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার থার্ড টার্মিনাল এবার আটকে গেছে অ্যানালগ সমস্যায়
চলতি মাসে থার্ড টার্মিনালটি উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে নকশাগত ত্রুটি এবং জাপানিজ অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তি সমস্যায়।
আলাপ রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ পিএমআপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম
স্থপতি তার মূল নকশায় রাখেননি মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য কোনো ‘ইন-বিল্ট’ অবকাঠামো
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবার আটকে গেছে অ্যানালগ সম্যায়, চলতি মাসে উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবার পিছিয়ে যাচ্ছে নকশাগত ত্রুটির কারনে।
অভিযোগ উঠেছে, সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন লিমিটেডের স্থপতি রোহানি বাহারিন তার নকশায় রাখেননি মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের কোনো ব্যবস্থা।
আধুনিক এই টার্মিনাল ভবনের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি নজরে আসে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর কর্মকর্তাদের।
বিশেষ ধরনের প্যানেল ও লাইটিং দিয়ে অনেকটা শাপলা ফুলের পাপড়ির মতো করে ডিজাইন করা এই সিলিং নকশায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তোলার মতো খুঁটিনাটি নান্দনিক বিষয়গুলো রাখা হয়েছে।
তবে স্থপতি তার মূল নকশায় রাখেননি মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য কোনো ‘ইন-বিল্ট’ অবকাঠামো।
এর ফলে থার্ড টার্মিনালের নান্দনিক সিলিংটি আংশিক ভেঙে নতুন করে নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সরকারকে।
শুরুতে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার এই প্রকল্প ধীরে ধীরে বেড়ে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকায় এসে পৌঁছলেও নতুন এই সমস্যা আরও বাড়াবে এই প্রকল্পের খরচ।
সবমিলে বিতর্ক আর জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পার হলেও চালু করা যায়নি শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল।
নকশাগত ত্রুটি নজরে আসার পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ৩০৯তম বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে এখন সিলিং ভাঙা ও পুনর্গঠন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে টার্মিনালের নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শুক্রবার তার ফেইসবুক পোস্টে থার্ড টার্মিনালকে “কমিউনিকেশন টেকনোলোজি ছাড়া দেখতে সুন্দর একটা বাস টার্মিনাল ভবন,” এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তিনি যে সব সমস্যার কথা বলেছেনঃ
> ডিজাইনে টেলিকমের ইনফ্রা প্ল্যান নাই। ইনডোর কভারেজের জন্য দরকারি অবকাঠামো বিবেচনায় ছিল না। ইনডোর বেজ স্টেশন বসানোর, বা ইনডোর রেডিও বসানো, আরবিএস হোটেল-এর স্পেইস টুকু পর্যন্ত ডিজাইনে নাই। অ্যাক্টিভ ডাস, অ্যান্টেনা, মাউন্টিং পোল, রেডিও মাউন্টিং পোল, রাউটার এগুলা বসানোর জন্য কোনো স্পেইস এবং ইনফ্রা রাখা হয়নি ডিজাইনে। এগুলো সব আউট অফ ডিজাইন বসাতে হবে।
> এমনকি অপটিক্যাল ফাইবার লে করার জন্য কোনো ডাক্ট নাই। আইএসপি সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর রাউটার রুম/সার্ভার রুম ডেসিগ্নেটেড করা নাই। এগুলো এখন বাইরে দিয়ে কিংবা আন ডেসিগ্নেটেড প্লেসমেন্ট করে টানতে হবে।
> বিমানবন্দর চালাতে অতি দরকারি একটি ডেটা সেন্টার স্পেইসও ডিজাইনে নাই। কি হাস্যকর, কী লজ্জার কথা! ইমিগ্রেশন সিস্টেমস/ (অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেমস, APIS) /চেক-ইন ডেস্ক পরিচালনার সিস্টেমস সহ বাদবাকি কারিগরি সেটাপের জন্য সফ্টওয়্যার/হার্ডওয়্যার/ফায়ারওয়াল এসব বিষয়ের বিবেচনা টার্মিনাল ডিজাইনে নাই।
> ডেটা সেন্টার, বেজ স্টেশন, রাউটার এগুলার জন্য নতুন করে কুলিং/চিলার ডাইমেনশন করা লাগবে।
আগ্রহ নেই মোবাইল অপারেটরদের
মোবাইল থার্ড টার্মিনালের ভেতরে নেটওয়ার্ক স্থাপনার দায়িত্ব নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক বেবিচককে রাজস্বের ভাগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তারা শুধু জায়গার ভাড়া দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখিয়ে সম্মত হয়।
জানা গেছে, টেলিটক সিলিং ভেঙে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে এবং অন্য অপারেটরদের সংযোগ সুবিধা দেবে।
পাশাপাশি আয়ের একটি অংশ বেবিচককে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়া ২.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
আরও যত সমস্যা
গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাতে নেয়া মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম এই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প।
কিন্তু শুরু থেকেই ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে বিলম্ব এবং ৫ই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে পিছিয়ে যায় এর কার্যক্রম।
এদিকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে বেবিচক ও নির্বাচিত জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আলোচনায় আবারও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
রাজস্ব বণ্টন এবং আয়–ব্যয়ের কাঠামো নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
২৪–২৫ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দুই দিনের আলোচনাও কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়, কারণ রাজস্ব ভাগাভাগি ও আয়-ব্যয়ের মডেল নিয়ে মূল মতপার্থক্য এখনো দূর হয়নি।
অপারেটর বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ বিমানের সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “সরকার উন্মুক্ত দরপত্র চায় নাকি লিমিটেড ইনভাইটেশন তা স্পষ্ট নয়।
আগে জাপানি কনসোর্টিয়ামের ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি ছিল যে বিকল্প ভাবাই হয়নি। এখন সেই একই কনসোর্টিয়াম শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, আর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতি তার সুযোগ করে দিচ্ছে।"
অন্যদিকে কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা জানান, বেবিচক প্রধান আয়ের উৎসগুলো থেকে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে রাজি নয় এবং বরং "ভারতীয় ধাঁচের আয়–ব্যয় মডেল চাইছে, যা কনসোর্টিয়ামের আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তাবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অনিশ্চিত যাত্রা
টার্মিনালটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সফট লঞ্চ হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। তবে যন্ত্রপাতি আমদানির বিলম্ব, নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে এখন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়িয়েছে।
বেবিচক এখন বলছে তারা আর কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা দিতে পারছে না। অর্থাৎ অনিশ্চিত সময়ের জন্য পিছিয়ে গেল থার্ড টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ বিমানের সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “পুরো প্রকল্পই ঝুঁকিতে পড়েছে। বিভিন্ন সরঞ্জামের ওয়্যারেন্টি শেষ হচ্ছে, ঝুঁকি বাড়ছে, আর এক বছরের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ শুরু হবে—কিন্তু এখন কোনো রাজস্ব নেই। পৃথিবীর কোথাও এমন বিশাল স্থাপনা এভাবে অচল পড়ে থাকে না।”
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পটিতে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা অর্থায়ন করে জাইকা। বাকি টাকা দেয় বাংলাদেশ সরকার।
নকশা করেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন-সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের আন্তর্জাতিক মানের স্থপতি। নির্মাণ করছে জাপানের সিমুজি ও কোরিয়ার স্যামসাংয়ের যৌথ উদ্যোগ এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)।
সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার থার্ড টার্মিনাল এবার আটকে গেছে অ্যানালগ সমস্যায়
চলতি মাসে থার্ড টার্মিনালটি উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে নকশাগত ত্রুটি এবং জাপানিজ অপারেটরদের সঙ্গে চুক্তি সমস্যায়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এবার আটকে গেছে অ্যানালগ সম্যায়, চলতি মাসে উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবার পিছিয়ে যাচ্ছে নকশাগত ত্রুটির কারনে।
অভিযোগ উঠেছে, সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন লিমিটেডের স্থপতি রোহানি বাহারিন তার নকশায় রাখেননি মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের কোনো ব্যবস্থা।
আধুনিক এই টার্মিনাল ভবনের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি নজরে আসে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর কর্মকর্তাদের।
বিশেষ ধরনের প্যানেল ও লাইটিং দিয়ে অনেকটা শাপলা ফুলের পাপড়ির মতো করে ডিজাইন করা এই সিলিং নকশায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও প্রকৃতিকে ফুটিয়ে তোলার মতো খুঁটিনাটি নান্দনিক বিষয়গুলো রাখা হয়েছে।
তবে স্থপতি তার মূল নকশায় রাখেননি মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য কোনো ‘ইন-বিল্ট’ অবকাঠামো।
এর ফলে থার্ড টার্মিনালের নান্দনিক সিলিংটি আংশিক ভেঙে নতুন করে নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সরকারকে।
শুরুতে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার এই প্রকল্প ধীরে ধীরে বেড়ে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকায় এসে পৌঁছলেও নতুন এই সমস্যা আরও বাড়াবে এই প্রকল্পের খরচ।
সবমিলে বিতর্ক আর জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পার হলেও চালু করা যায়নি শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল।
এদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনার দায়িত্ব নিয়েও চলছে জটিলতা। দফায় দফায় বৈঠক করেও সমাধান হয়নি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি নিয়েও চলা অচলাবস্থার।
আধুনিক টার্মিনালে অ্যানালগ সমস্যা
নকশাগত ত্রুটি নজরে আসার পর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ৩০৯তম বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে এখন সিলিং ভাঙা ও পুনর্গঠন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে টার্মিনালের নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শুক্রবার তার ফেইসবুক পোস্টে থার্ড টার্মিনালকে “কমিউনিকেশন টেকনোলোজি ছাড়া দেখতে সুন্দর একটা বাস টার্মিনাল ভবন,” এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তিনি যে সব সমস্যার কথা বলেছেনঃ
> ডিজাইনে টেলিকমের ইনফ্রা প্ল্যান নাই। ইনডোর কভারেজের জন্য দরকারি অবকাঠামো বিবেচনায় ছিল না। ইনডোর বেজ স্টেশন বসানোর, বা ইনডোর রেডিও বসানো, আরবিএস হোটেল-এর স্পেইস টুকু পর্যন্ত ডিজাইনে নাই। অ্যাক্টিভ ডাস, অ্যান্টেনা, মাউন্টিং পোল, রেডিও মাউন্টিং পোল, রাউটার এগুলা বসানোর জন্য কোনো স্পেইস এবং ইনফ্রা রাখা হয়নি ডিজাইনে। এগুলো সব আউট অফ ডিজাইন বসাতে হবে।
> এমনকি অপটিক্যাল ফাইবার লে করার জন্য কোনো ডাক্ট নাই। আইএসপি সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর রাউটার রুম/সার্ভার রুম ডেসিগ্নেটেড করা নাই। এগুলো এখন বাইরে দিয়ে কিংবা আন ডেসিগ্নেটেড প্লেসমেন্ট করে টানতে হবে।
> বিমানবন্দর চালাতে অতি দরকারি একটি ডেটা সেন্টার স্পেইসও ডিজাইনে নাই। কি হাস্যকর, কী লজ্জার কথা! ইমিগ্রেশন সিস্টেমস/ (অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেমস, APIS) /চেক-ইন ডেস্ক পরিচালনার সিস্টেমস সহ বাদবাকি কারিগরি সেটাপের জন্য সফ্টওয়্যার/হার্ডওয়্যার/ফায়ারওয়াল এসব বিষয়ের বিবেচনা টার্মিনাল ডিজাইনে নাই।
> ডেটা সেন্টার, বেজ স্টেশন, রাউটার এগুলার জন্য নতুন করে কুলিং/চিলার ডাইমেনশন করা লাগবে।
আগ্রহ নেই মোবাইল অপারেটরদের
মোবাইল থার্ড টার্মিনালের ভেতরে নেটওয়ার্ক স্থাপনার দায়িত্ব নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক বেবিচককে রাজস্বের ভাগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তারা শুধু জায়গার ভাড়া দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখিয়ে সম্মত হয়।
জানা গেছে, টেলিটক সিলিং ভেঙে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে এবং অন্য অপারেটরদের সংযোগ সুবিধা দেবে।
পাশাপাশি আয়ের একটি অংশ বেবিচককে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়া ২.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।
আরও যত সমস্যা
গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাতে নেয়া মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম এই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প।
কিন্তু শুরু থেকেই ঘন ঘন প্রকল্পের নেতৃত্বে পরিবর্তন, বিদেশ থেকে কিছু উপকরণ আনতে বিলম্ব এবং ৫ই অগাস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে পিছিয়ে যায় এর কার্যক্রম।
এদিকে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে বেবিচক ও নির্বাচিত জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আলোচনায় আবারও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
রাজস্ব বণ্টন এবং আয়–ব্যয়ের কাঠামো নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পরও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
২৪–২৫ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দুই দিনের আলোচনাও কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়, কারণ রাজস্ব ভাগাভাগি ও আয়-ব্যয়ের মডেল নিয়ে মূল মতপার্থক্য এখনো দূর হয়নি।
অপারেটর বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ বিমানের সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “সরকার উন্মুক্ত দরপত্র চায় নাকি লিমিটেড ইনভাইটেশন তা স্পষ্ট নয়।
আগে জাপানি কনসোর্টিয়ামের ওপর নির্ভরশীলতা এত বেশি ছিল যে বিকল্প ভাবাই হয়নি। এখন সেই একই কনসোর্টিয়াম শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, আর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতি তার সুযোগ করে দিচ্ছে।"
অন্যদিকে কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা জানান, বেবিচক প্রধান আয়ের উৎসগুলো থেকে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে রাজি নয় এবং বরং "ভারতীয় ধাঁচের আয়–ব্যয় মডেল চাইছে, যা কনসোর্টিয়ামের আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তাবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অনিশ্চিত যাত্রা
টার্মিনালটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সফট লঞ্চ হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। তবে যন্ত্রপাতি আমদানির বিলম্ব, নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সময়সীমা পিছিয়ে এখন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়িয়েছে।
বেবিচক এখন বলছে তারা আর কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা দিতে পারছে না। অর্থাৎ অনিশ্চিত সময়ের জন্য পিছিয়ে গেল থার্ড টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ বিমানের সাবেক বোর্ড সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “পুরো প্রকল্পই ঝুঁকিতে পড়েছে। বিভিন্ন সরঞ্জামের ওয়্যারেন্টি শেষ হচ্ছে, ঝুঁকি বাড়ছে, আর এক বছরের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ শুরু হবে—কিন্তু এখন কোনো রাজস্ব নেই। পৃথিবীর কোথাও এমন বিশাল স্থাপনা এভাবে অচল পড়ে থাকে না।”
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পটিতে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা অর্থায়ন করে জাইকা। বাকি টাকা দেয় বাংলাদেশ সরকার।
নকশা করেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন-সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের আন্তর্জাতিক মানের স্থপতি। নির্মাণ করছে জাপানের সিমুজি ও কোরিয়ার স্যামসাংয়ের যৌথ উদ্যোগ এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)।