নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন - রয়টার্স
রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি মনে করেন প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে হেয় করেছেন।
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৯ পিএমআপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম
“নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমি সাংবিধানিক কারণেই আছি।”
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তার এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
১১ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত আটটার দিকে সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি মনে করেন প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে হেয় করেছেন।
রয়টার্স লিখেছে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যদিও এই ভূমিকাটি আনুষ্ঠানিক, নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার উপর ন্যস্ত, যা ১৭ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার মুসলিম প্রধান দেশটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে যখন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের অগাস্টে নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল, তখন রাষ্ট্রপতির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনিই একমাত্র অবশিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে থেকে যান।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে হাসিনাপন্থী আওয়ামী লীগ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই দলটিকে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।
রয়টার্স জানায়, ঢাকাতে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ সাহাবু্দ্দিন বলেছেন, “আমি যেতে আগ্রহী। আমি চলে যেতে আগ্রহী।"
তিনি বলেন, “নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমি সাংবিধানিক কারণেই আছি।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তার সাথে দেখা করেননি, তার প্রেস উইং সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে সারা বিশ্বের বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সমস্ত কনস্যুলেট, দূতাবাস এবং হাই কমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল যা হঠাৎ একদিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এতে মানুষের ভুল বার্তা যায় যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে বাদ দেওয়া হবে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।”
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি ছবি নিয়ে ড. ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি যোগ করেন, “আমার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা হয়েছে।”
এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ইউনূসের প্রেস উপদেষ্টারা কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ আছে সেনাপ্রধানের
রয়টার্সের সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতি বলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে হাসিনাবিরোধী প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় সরকারের পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সৈনিকরা, যা বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, সেনাপ্রধান এটা স্পষ্ট করেছেন যে ক্ষমতা দখলের কোনও ইচ্ছা তার নেই।
বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস আছে, তবে সেনাপ্রধান বলেছেন তিনি গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন চান।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান, যদিও কিছু ছাত্র আন্দোলনকারী প্রথমদিকে তার পদত্যাগ দাবি করেছিল, তবে গত কয়েক মাসে কোনও রাজনৈতিক দল তাকে তা করতে বলেনি।
জনমত জরিপের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, জরিপ ইঙ্গিত দেয় যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং কট্টরপন্থী জামায়াতে ইসলামী পরবর্তী সরকার গঠনে এগিয়ে থাকবে। এই দুই দল ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকারে জোটবদ্ধ ছিল।
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন কিনা, রয়টার্সের এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন এবং কোনো দলের সাথে সংযুক্ত নন।
নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন - রয়টার্স
রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি মনে করেন প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে হেয় করেছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তার এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
১১ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত আটটার দিকে সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি মনে করেন প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে হেয় করেছেন।
রয়টার্স লিখেছে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যদিও এই ভূমিকাটি আনুষ্ঠানিক, নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার উপর ন্যস্ত, যা ১৭ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার মুসলিম প্রধান দেশটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে যখন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের অগাস্টে নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল, তখন রাষ্ট্রপতির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনিই একমাত্র অবশিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে থেকে যান।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে হাসিনাপন্থী আওয়ামী লীগ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই দলটিকে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।
রয়টার্স জানায়, ঢাকাতে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ সাহাবু্দ্দিন বলেছেন, “আমি যেতে আগ্রহী। আমি চলে যেতে আগ্রহী।"
তিনি বলেন, “নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমি সাংবিধানিক কারণেই আছি।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তার সাথে দেখা করেননি, তার প্রেস উইং সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে সারা বিশ্বের বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সমস্ত কনস্যুলেট, দূতাবাস এবং হাই কমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল যা হঠাৎ একদিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এতে মানুষের ভুল বার্তা যায় যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে বাদ দেওয়া হবে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।”
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি ছবি নিয়ে ড. ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি যোগ করেন, “আমার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা হয়েছে।”
এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ইউনূসের প্রেস উপদেষ্টারা কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ আছে সেনাপ্রধানের
রয়টার্সের সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতি বলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে হাসিনাবিরোধী প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় সরকারের পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সৈনিকরা, যা বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, সেনাপ্রধান এটা স্পষ্ট করেছেন যে ক্ষমতা দখলের কোনও ইচ্ছা তার নেই।
বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস আছে, তবে সেনাপ্রধান বলেছেন তিনি গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন চান।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান, যদিও কিছু ছাত্র আন্দোলনকারী প্রথমদিকে তার পদত্যাগ দাবি করেছিল, তবে গত কয়েক মাসে কোনও রাজনৈতিক দল তাকে তা করতে বলেনি।
জনমত জরিপের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, জরিপ ইঙ্গিত দেয় যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং কট্টরপন্থী জামায়াতে ইসলামী পরবর্তী সরকার গঠনে এগিয়ে থাকবে। এই দুই দল ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকারে জোটবদ্ধ ছিল।
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন কিনা, রয়টার্সের এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন এবং কোনো দলের সাথে সংযুক্ত নন।
(রয়টার্স অবলম্বনে)