রাজশাহীতে গভীর গর্তে আটকে পড়া শিশু সাজিদ কি জীবিত উদ্ধার পাবে
৩০-৩৫ ফুট গভীর এক গর্ত। খোঁড়া হয়েছিল নলকূপ বসানোর জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নলকূপ না বসিয়ে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল গর্তের মুখ। খেলতে খেলতে সেই গর্তে পড়ে গিয়েছে দুই বছরের সাজিদ। চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। জীবিত উদ্ধার করা যাবে তো সাজিদকে?
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএমআপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম
গভীর নলকূপ বসানোর জন্য খোঁড়া এক গর্তে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছে দুই বছরের সাজিদ।
গভীর অন্ধকার একটি গর্ত। ছোট্ট একটি শিশু আটকে রয়েছে তার তলায়। ঠিকঠাক কথা বলতে পারারও কথা নয় তার। শিশুটির বয়স মাত্র দুই বছর। এই বয়স মায়ের আঁচল ধরে থাকবার। অথচ সে চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে একাকী। আলো ছাড়া, খাদ্য ছাড়া, মা ছাড়া। শিশুটির এখন আর কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
তাকে উদ্ধার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে দমকল বাহিনী। যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনীও। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত জীবিত তুলে আনা যাবেতো শিশুটিকে? সারা বাংলাদেশ এখন প্রার্থনা করছে দুই বছর বয়সী সাজিদ নামের এই শিশুটির জন্য।
রাজশাহীর এই শিশুটি বুধবার দুপুরে খেলতে খেলতে একটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি ৩০-৩৫ ফুট গভীর। খোঁড়া হয়েছিল একটি গভীর নলকূপ বসানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত নলকূপ না বসিয়ে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল গর্তটির মুখ।
বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটবার পর থেকেই দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, এখনো সফল হয়নি তারা। এমনকি শিশুটিকে কখন নাগাদ উদ্ধার করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণাও দিতে পারছে না তারা।
খড়ে ঢাকা এক গভীর গর্ত
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার কোয়েলহাট গ্রামের বাসিন্দা সাজিদ। বুধবার বেলা ১টার দিকে মায়ের সঙ্গে খেলছিল সে, হঠাৎই গর্তে পা দিয়ে নিচে পড়ে যায়। গর্তটি গভীর নলকূপের জন্য খনন করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, গর্তটির মুখ ৩–৪ ফুট চওড়া। গভীরতা ৩০–৩৫ ফুট হতে পারে। নলকূপ করার জন্য সেটি খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু কূপটি স্থাপন করা হয়নি। পাইপ তুলে নেওয়া হলেও গর্ত থেকে গিয়েছিল। খড় দিয়ে ঢাকা ছিল গর্তের মুখ। আর সেই খড়ে পা দিয়েই নিচে পড়ে যায় শিশুটি।
সাজিদকে উদ্ধারে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকল সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়রাও। কিন্তু এখনো কোনো আশার আলো দেখা যায়নি।
সাজিদের বয়স মাত্র ২ বছর, সে হয়তো বুঝতেও পারছে না কীভাবে-কোথায় আছে সে। তার সাথে তাই যোগাযোগ করাও কঠিন বলে জানান উদ্ধারকর্মীরা।
বুধবার রাত পর্যন্ত গর্তে কয়েক দফা ক্যামেরা নামিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু দেখা যায়নি তাকে।
স্থানীয়রা বলছেন, গর্তে পড়ে যাওয়ার পর সাজিদের ডাকও শুনতে পেয়েছেন তারা। সাজিদের মা বলছেন, মা বলে ডাক দিয়েছে তার ছোট্ট সাজিদ।
সর্বোচ্চ সতর্কতা
সাজিদকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপপরিচালক মঞ্জিল হক।
তিনি বলেন, সতর্ক না হলে আঘাত পেতে পারে সাজিদ। তার বয়স অত্যন্ত কম। নিজে কীভাবে নিরাপদ থাকবে তা বোঝার বয়সও তার নেই। তাই সবগুলো পরিকল্পনা খুব সতর্কভাবে করতে হচ্ছে তাদের।
“আমরা পাইপ ঢুকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি যে কতটুকু গর্ত হয়েছে। মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ করারও চেষ্টা করা হচ্ছে যেন আমাদের কেউ ভেতরে ঢুকে সাজিদকে উদ্ধার করতে পারে,” বলেন মঞ্জিল হক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মূল গর্তের পাশে খননযন্ত্র দিয়ে আরেকটি গর্ত করা হচ্ছে। ৩০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করা হলেও এখনো সাজিদের খোঁজ মেলেনি। ৪৫ ফুট পর্যন্ত গর্ত করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
তানোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আব্দুর রউফ বলেন, তারা ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন, একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, তবে এখনো উদ্ধার করা যায়নি সাজিদকে।
তিনি জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত গর্তে কয়েক দফা ক্যামেরা নামিয়ে দেখার চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটিকে তারা দেখতে পায়নি।
বুধবার বিকেলে প্রথম উদ্ধারের জন্য খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) আনা হয় ঘটনাস্থলে। ৫টার দিকে মাটি খুঁড়তে শুরু করে তারা। সাজিদ যেখানে পড়েছে সেখানে খোঁড়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে পাশে একটি গর্ত করে তারা। পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকেই সুড়ঙ্গ করে সাজিদের কাছে পৌঁছাবেন উদ্ধারকর্মীরা।
এভাবে ৩০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সাজিদের খোঁজ মেলেনি। মাটি নরম হওয়ার কারণে সুড়ঙ্গও তৈরি করা যাচ্ছে না। সেজন্য কাছাকাছি আরেকটি গর্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিন্তু এতকিছুর পরও উদ্ধার করা যাচ্ছে না সাজিদকে।
অনিশ্চয়তা
সময় যত গড়াচ্ছে, পরিবেশ তত ভারী হয়ে উঠেছে। সাজিদকে দেখা যাচ্ছে না ক্যামেরায়, ডাক দিয়েও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সবার মনে প্রশ্ন, ঠিক আছে তো শিশুটি, কখন উদ্ধার করা হবে তাকে।
এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। উদ্ধারকারীরাও নিশ্চিত নন সাজিদ বেঁচে আছে কি না, বা কখন উদ্ধার হবে।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১টার দিকে শিশুটি খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে যায়, গর্তটি খড় দিয়ে ঢাকা থাকায় সে বুঝতে পারেনি। এখন কী অবস্থায় আছে বোঝ যাচ্ছে না। তিনি বলেন, অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। তাই নিশ্চিত করে কিছু বলা মুশকিল।
যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, এই মুহূর্তে শিশুটিকে উদ্ধার করাই সবচেয়ে জরুরি। তবে তার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব স্বাভাবিকভাবেই তার মানসিক অবস্থা এখন ভালো না। তাই সম্ভব হলে প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং অভয় দিতে হবে।
ড. হেলাল বলেন, “তার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে আমরা সবাই অনুমান করতে পারছি। নিশ্চিতভাবেই সে অত্যন্ত ভয় ও আতঙ্কে আছে। তাকে উদ্ধার করাটাই সবচেয়ে জরুরি, তবে এর সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে হবে যেন তাকে অভয় দেওয়া যায়।”
সাড়া নেই সাজিদের
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গর্তের ভেতরে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহও করা হয়েছে। তবে অনেকক্ষণ শিশুটির কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপপরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, “আমরা গর্ত করে পাইপ ঢুকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু ৩০ ফিটের পর পাইপ আর যাচ্ছে না। মাটি দেবে যাওয়ার কারণে এটা হতে পারে”।
“আমরা বোঝার চেষ্টা করছি যে শিশুটি কোথায় আছে। ক্যামেরা দিয়ে তাকে দেখা যাচ্ছে না। এখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় মানুষ সবাই আমাদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু শিশুটিকে কখন উদ্ধার করতে পারবো জানি না আসলে।”
এর আগে, ২০১৪ সালে এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। সে বছর এই ডিসেম্বর মাসেই পাম্পের পাইপে পড়ে মারা গিয়েছিল জিহাদ নামে এক শিশু।
ছাব্বিশে ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার শাহজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে গিয়েছিল জিহাদ।
প্রায় ২৩ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর ২৭ ডিসেম্বর বিকালে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
রাজশাহীতে গভীর গর্তে আটকে পড়া শিশু সাজিদ কি জীবিত উদ্ধার পাবে
৩০-৩৫ ফুট গভীর এক গর্ত। খোঁড়া হয়েছিল নলকূপ বসানোর জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নলকূপ না বসিয়ে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল গর্তের মুখ। খেলতে খেলতে সেই গর্তে পড়ে গিয়েছে দুই বছরের সাজিদ। চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। জীবিত উদ্ধার করা যাবে তো সাজিদকে?
গভীর অন্ধকার একটি গর্ত। ছোট্ট একটি শিশু আটকে রয়েছে তার তলায়। ঠিকঠাক কথা বলতে পারারও কথা নয় তার। শিশুটির বয়স মাত্র দুই বছর। এই বয়স মায়ের আঁচল ধরে থাকবার। অথচ সে চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে একাকী। আলো ছাড়া, খাদ্য ছাড়া, মা ছাড়া। শিশুটির এখন আর কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
তাকে উদ্ধার করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে দমকল বাহিনী। যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনীও। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত জীবিত তুলে আনা যাবেতো শিশুটিকে? সারা বাংলাদেশ এখন প্রার্থনা করছে দুই বছর বয়সী সাজিদ নামের এই শিশুটির জন্য।
রাজশাহীর এই শিশুটি বুধবার দুপুরে খেলতে খেলতে একটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি ৩০-৩৫ ফুট গভীর। খোঁড়া হয়েছিল একটি গভীর নলকূপ বসানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত নলকূপ না বসিয়ে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল গর্তটির মুখ।
বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটবার পর থেকেই দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, এখনো সফল হয়নি তারা। এমনকি শিশুটিকে কখন নাগাদ উদ্ধার করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণাও দিতে পারছে না তারা।
খড়ে ঢাকা এক গভীর গর্ত
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার কোয়েলহাট গ্রামের বাসিন্দা সাজিদ। বুধবার বেলা ১টার দিকে মায়ের সঙ্গে খেলছিল সে, হঠাৎই গর্তে পা দিয়ে নিচে পড়ে যায়। গর্তটি গভীর নলকূপের জন্য খনন করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, গর্তটির মুখ ৩–৪ ফুট চওড়া। গভীরতা ৩০–৩৫ ফুট হতে পারে। নলকূপ করার জন্য সেটি খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু কূপটি স্থাপন করা হয়নি। পাইপ তুলে নেওয়া হলেও গর্ত থেকে গিয়েছিল। খড় দিয়ে ঢাকা ছিল গর্তের মুখ। আর সেই খড়ে পা দিয়েই নিচে পড়ে যায় শিশুটি।
সাজিদকে উদ্ধারে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দমকল সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়রাও। কিন্তু এখনো কোনো আশার আলো দেখা যায়নি।
সাজিদের বয়স মাত্র ২ বছর, সে হয়তো বুঝতেও পারছে না কীভাবে-কোথায় আছে সে। তার সাথে তাই যোগাযোগ করাও কঠিন বলে জানান উদ্ধারকর্মীরা।
বুধবার রাত পর্যন্ত গর্তে কয়েক দফা ক্যামেরা নামিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু দেখা যায়নি তাকে।
শিশুটির বাবা-মা ও স্বজনরা সেখানেই রয়েছেন। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। সারারাত গর্তের পাশে বসে দোয়া করছেন। এছাড়াও ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষ। সবাই সাজিদকে নিয়ে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয়রা বলছেন, গর্তে পড়ে যাওয়ার পর সাজিদের ডাকও শুনতে পেয়েছেন তারা। সাজিদের মা বলছেন, মা বলে ডাক দিয়েছে তার ছোট্ট সাজিদ।
সর্বোচ্চ সতর্কতা
সাজিদকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপপরিচালক মঞ্জিল হক।
তিনি বলেন, সতর্ক না হলে আঘাত পেতে পারে সাজিদ। তার বয়স অত্যন্ত কম। নিজে কীভাবে নিরাপদ থাকবে তা বোঝার বয়সও তার নেই। তাই সবগুলো পরিকল্পনা খুব সতর্কভাবে করতে হচ্ছে তাদের।
“আমরা পাইপ ঢুকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি যে কতটুকু গর্ত হয়েছে। মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ করারও চেষ্টা করা হচ্ছে যেন আমাদের কেউ ভেতরে ঢুকে সাজিদকে উদ্ধার করতে পারে,” বলেন মঞ্জিল হক।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মূল গর্তের পাশে খননযন্ত্র দিয়ে আরেকটি গর্ত করা হচ্ছে। ৩০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করা হলেও এখনো সাজিদের খোঁজ মেলেনি। ৪৫ ফুট পর্যন্ত গর্ত করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
তানোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আব্দুর রউফ বলেন, তারা ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন, একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, তবে এখনো উদ্ধার করা যায়নি সাজিদকে।
তিনি জানান, বুধবার রাত পর্যন্ত গর্তে কয়েক দফা ক্যামেরা নামিয়ে দেখার চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটিকে তারা দেখতে পায়নি।
বুধবার বিকেলে প্রথম উদ্ধারের জন্য খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) আনা হয় ঘটনাস্থলে। ৫টার দিকে মাটি খুঁড়তে শুরু করে তারা। সাজিদ যেখানে পড়েছে সেখানে খোঁড়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে পাশে একটি গর্ত করে তারা। পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকেই সুড়ঙ্গ করে সাজিদের কাছে পৌঁছাবেন উদ্ধারকর্মীরা।
এভাবে ৩০ ফুট পর্যন্ত গর্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সাজিদের খোঁজ মেলেনি। মাটি নরম হওয়ার কারণে সুড়ঙ্গও তৈরি করা যাচ্ছে না। সেজন্য কাছাকাছি আরেকটি গর্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিন্তু এতকিছুর পরও উদ্ধার করা যাচ্ছে না সাজিদকে।
অনিশ্চয়তা
সময় যত গড়াচ্ছে, পরিবেশ তত ভারী হয়ে উঠেছে। সাজিদকে দেখা যাচ্ছে না ক্যামেরায়, ডাক দিয়েও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সবার মনে প্রশ্ন, ঠিক আছে তো শিশুটি, কখন উদ্ধার করা হবে তাকে।
এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। উদ্ধারকারীরাও নিশ্চিত নন সাজিদ বেঁচে আছে কি না, বা কখন উদ্ধার হবে।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১টার দিকে শিশুটি খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে যায়, গর্তটি খড় দিয়ে ঢাকা থাকায় সে বুঝতে পারেনি। এখন কী অবস্থায় আছে বোঝ যাচ্ছে না। তিনি বলেন, অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। তাই নিশ্চিত করে কিছু বলা মুশকিল।
যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, এই মুহূর্তে শিশুটিকে উদ্ধার করাই সবচেয়ে জরুরি। তবে তার সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব স্বাভাবিকভাবেই তার মানসিক অবস্থা এখন ভালো না। তাই সম্ভব হলে প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং অভয় দিতে হবে।
ড. হেলাল বলেন, “তার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে আমরা সবাই অনুমান করতে পারছি। নিশ্চিতভাবেই সে অত্যন্ত ভয় ও আতঙ্কে আছে। তাকে উদ্ধার করাটাই সবচেয়ে জরুরি, তবে এর সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে হবে যেন তাকে অভয় দেওয়া যায়।”
সাড়া নেই সাজিদের
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গর্তের ভেতরে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহও করা হয়েছে। তবে অনেকক্ষণ শিশুটির কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপপরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, “আমরা গর্ত করে পাইপ ঢুকানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু ৩০ ফিটের পর পাইপ আর যাচ্ছে না। মাটি দেবে যাওয়ার কারণে এটা হতে পারে”।
“আমরা বোঝার চেষ্টা করছি যে শিশুটি কোথায় আছে। ক্যামেরা দিয়ে তাকে দেখা যাচ্ছে না। এখানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় মানুষ সবাই আমাদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু শিশুটিকে কখন উদ্ধার করতে পারবো জানি না আসলে।”
এর আগে, ২০১৪ সালে এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। সে বছর এই ডিসেম্বর মাসেই পাম্পের পাইপে পড়ে মারা গিয়েছিল জিহাদ নামে এক শিশু।
ছাব্বিশে ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার শাহজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে গিয়েছিল জিহাদ।
প্রায় ২৩ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর ২৭ ডিসেম্বর বিকালে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।