দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক গ্রেপ্তার

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পর ঢাকা প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান ওরফে এইচ আর শফিককে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

তবে মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরে নয়; প্রায় ১৫ দিন আগে দায়ের করা হয়েছিল। 

মামলার অভিযোগও সংবাদ প্রতিবেদনের বিষয়ে নয়। সেখানে অর্থ দাবি, হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত মিথ্যা ও বানোয়াট ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আলাপকে বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা।”

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “মামলায় বলা হয়েছে, তিনি ফেসবুকে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তার নামে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছিলেন।”

ঢাকা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মঞ্জুরুল বারী নয়ন আলাপকে বলেন, “আমি যতটুকু জানি তাকে রিপোর্টের কারণেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার জামিন হয়নি, জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বেশি আর কিছু আমার জানা নেই।”

মামলার নথিতে যা পাওয়া গেছে

মামলার নথিতে অভিযোগকারী হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী সাদ্দাম হোসেনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি শাহবাগ থানায় হাফিজুর রহমান শফিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযোগকারীর সইয়ের পাশে লেখা ৬ই জুলাই, ২০২৬ তারিখ। নথির পাশে হাতে লেখা পুলিশি নোটেও একই তারিখে মামলা রুজুর তথ্য পাওয়া যায়।

ফায়ার সার্ভিসের কথিত ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ নিয়ে শফিকের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২১এ জুলাই। সে হিসাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের প্রায় ১৫ দিন আগেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও ওই প্রতিবেদনের কারণেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, এমন তথ্য মামলার নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলায় শফিক ছাড়াও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন মো. ফজলুল হক ও মো. লিয়ন মিয়া। মামলার সঙ্গে দুজনের ফেসবুক আইডির তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযোগকারী দাবি করেছেন, হাফিজুর রহমান শফিক তার কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে মিথ্যা বা বানোয়াট ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তী সময়ে অভিযোগকারীকে নিয়ে একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ ও শেয়ার করা হয়। ভিডিওটির ছবি বা তথ্য পরিবর্তনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

এ বিষয়ে আগে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। জিডির তারিখ দেওয়া হয়েছে ২১এ মে ২০২৬। অভিযোগকারীর ভাষ্য, অর্থ দাবি ও হুমকির ঘটনায় ওই সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার সাংবাদিক বা তার আইনজীবীর বক্তব্যও এখনেো পাওয়া যায়নি।