জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলার আসামি বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ‘অভিজাত’ একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার সকালে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঢাকার উপকণ্ঠের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ‘জইতা’ ভবনে অভিযান চালায়। তারা সেখানকার নয়তলা বাড়িতে “ইনভেন্টরির (সম্পদের তালিকা) কাজ করছে” বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৩৯টি স্থাবর সম্পদ ২০২৫ সালের ২৪এ এপ্রিল জব্দ করা হয়। এসব সম্পত্তির মধ্যে নয়তলা বাড়িটিও রয়েছে।
জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ‘জইতা’ ভবনের ৮ ও ৯ তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটটি পরিপাটি ও সাজানো-গোছানো। শোবার ঘর থেকে ডাইনিং রুম, ব্যালকনি- সর্বত্রই প্রাচুর্যের প্রভাব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ফ্ল্যাটেই বসবাস করতেন ‘বিতর্কিত’ সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও তার পরিবার।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ‘জইতা’ ভবনের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ জমি কেনা হয় ২০১৬ সালের ১৩ই নভেম্বর।
গত ৭ই জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ই অগাস্ট জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবেক এই ‘বিতর্কিত’ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে আছেন।
দুর্নীতির মামলায় এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে জিয়াউল আহসানের নানা স্থাবর সম্পদ। এরমধ্যে রয়েছে- ঢাকার দক্ষিণখান, পল্লবী, মিরপুর ডিওএইচএস ও আশুলিয়ার জমি ও ফ্ল্যাট; রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি, কায়েতপাড়া ও নাওড়ার বাড়ি, প্লট ও কৃষিজমি; বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জের বাড়ি, বাগানবাড়ি ও জমি; ঝালকাঠির বাড়ি, পুকুর ও কৃষিজমি; পটুয়াখালীর কুয়াকাটার জমি এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কৃষিজমি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় জিয়াউল আহসান ছিলেন টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক।
শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৬ই অগাস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।



