রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জিতলে পাঁচ হাজার ডলার পাবে আমেরিকানরা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস, দুই জায়গাতেই জেতে, তাহলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে।

বুধবার টেক্সাসের ডালাসে নির্বাচন উপলক্ষে রিপাবলিকানদের আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তৃতায় এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বক্তৃতায় ডেমোক্র্যাটদের ‘উগ্রপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পক্ষেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্পa।

সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জিতবেন, আর আপনারা পাবেন পাঁচ হাজার ডলার।”

যুক্তরাষ্ট্রে এখন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রে তার জনপ্রিয়তার হার প্রায় ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থীই দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নেননি।

তবে ট্রাম্পের দাবি, তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সির প্রথম দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময়। আর্থিকভাবে এবং অন্যান্য সব দিক থেকে তিনিই সফল প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাকি দুই বছর নানা সমস্যার মধ্যে কাটতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের ওপর এক অসুস্থ ছায়া নেমে এসেছে। আমরা আমেরিকায় কমিউনিজমকে পরাজিত করব।”

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি প্রথমবারের মতো এমন সম্মেলনের আয়োজন করেছে। দলটি আশা করছে, এ আয়োজন তাদের জনসমর্থন বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল ভালো ফল করতে পারে না- এ কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এটা বদলাতে হবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি হেরে যাই, তাহলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, কর ছাড় হারাবেন, নিরাপত্তা হারাবেন এবং নিজেদের সম্পদ হারাবেন। আমাদের দেশ আবার নরক হয়ে যাবে যেমনটা দুই বছর আগে ছিলো।”

ইরান নিয়ে সতর্কবার্তা

সম্মেলনের আগে পুরো আয়োজন ঘিরেই কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়। শুরুতে বলা হয়েছিলো ট্রাম্প দ্বিতীয় রাতে বক্তব্য় দিবেন। পরে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি (আরএনসি) জানায়, বুধবারই তিনি মূল বক্তব্য দেবেন এবং বৃহস্পতিবার শেষ বক্তব্য দেবেন। বৃহস্পতিবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সেরও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

বক্তৃতায় ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গও একাধিকবার তোলেন। তেহরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ইরান কোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তবে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও স্বীকার করে নেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান শিগগিরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিলো না। কারণ তখন মার্কিন অর্থনীতি ভালো চলছিলো এবং যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা তিনি চাননি।

সম্মেলনে কম উপস্থিতি 

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনস্থলে রিপাবলিকানদের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে খুব বেশি উৎসাহ দেখা যায়নি।

দুই বছর আগে মিলওয়াকিতে অনুষ্ঠিত চার দিনের সম্মেলনের তুলনায় এবার বুধবারের প্রথম দিনটি ছিলো অনেকটাই নিষ্প্রভ। সম্মেলনে ঢোকার জন্য দীর্ঘ কোনো সারি দেখা যায়নি। খাবার বা টয়লেট ব্যবহারের জন্যও দীর্ঘ লাইন ছিলো না। ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ও গ্যালারির বিভিন্ন অংশে খালি আসন দেখা গেছে।

তবে ট্রাম্প সেটি স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানস্থল পুরোপুরি পূর্ণ ছিলো। তিনি বলেন,  “শুধু এই জায়গাটিই পরিপূর্ণ নয়, বাইরেও এখানকার সমান মানুষ দাঁড়িয়েও আছে।”

তবে গার্ডিয়ানের সাংবাদিকরা বাইরে এমন কোনো দৃশ্য দেখতে পাননি।

অগাস্টের মাঝামাঝি আরএনসি জানিয়েছিলো, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য টিকিটের আবেদন করতে পারবেন। তারা ঘোষণা করেছিলো আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ভাগ্যবান কয়েকজনকে টিকিট দেওয়া হবে। তবে সম্মেলন শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, আরএনসির ওয়েবসাইটে টিকিটের জন্য আবেদন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

রিপাবলিকানদের এই ব্যতিক্রমী মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে দুই দিনে মোট ১২ ঘণ্টার কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

রিপাবলিকানরা জানিয়েছিলো, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হবে পণ্যের দাম কমানো, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, মানুষের বসবাসের জায়গাগুলোকে আরও নিরাপদ করা এবং মার্কিন শ্রমিক ও পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কিন্তু সম্মেলনে একের পর এক বক্তা ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নীতির সমালোচনা করেন, বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার অধিকার নিয়ে তাদের অবস্থানের বিরোধিতা করেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যু নিয়ে বিরোধকে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে রিপাবলিকানরা।

বৃহস্পতিবারও বক্তব্য দেবেন ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, এবারের বক্তব্য বুধবারের তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত হবে। বুধবারের বক্তব্য শেষ করার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমি আপনাদের অনেক কিছু বলে ফেলেছি।”

এরপর ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আবারও অনুরোধ করেন, “দয়া করে ভাবুন, যেন আমিই নির্বাচনে প্রার্থী।”

(দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে)