পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় কেন জরুরি অবস্থা

কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতাকর্মীরা পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে চৌঠা অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ শুরু করেন। পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে শনিবার প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেন।

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ১১ই অক্টোবর রবিবার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করার পর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকারের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অসহযোগিতা করার’ বিষয়টি বিবেচনায় নেন।

বিবৃতি অনুযায়ী, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করার প্রস্তাব দেন তারা। পরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া সুপারিশ অনুমোদন করেছেন।

কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তার দল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতাকর্মীরা পাখতুনখাওয়া প্রদেশ থেকে চৌঠা অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ শুরু করেন। পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে শনিবার প্রেসিডেন্ট ভবনে আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৈঠক করেন।

জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কেপি প্রদেশে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে।

প্রদেশটিতে মুখ্য সচিব হিসাবে ড. মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে নিয়োগ দিয়েছেন গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের কর্মকর্তা ড. ইরফান এর আগে কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরেকটি প্রজ্ঞাপনে মুহাম্মদ ইয়াহিয়া আখুনজাদাকে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কেপি প্রদেশে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পিটিআই চেয়ারম্যান গওহর আলি খান। তিনি এই সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান’ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গওহর বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর রাজনৈতিক ভুল এবং একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। মানুষের অধিকারবিরোধী এমন পদক্ষেপ তারা কখনো মেনে নেবে না।”

জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বুঝে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানান পিটিআই চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, “জনগণের রায় উপেক্ষা করে, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দুর্বল করে এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয়।”

পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনকে জানান,  পালটা কৌশল হিসেবে আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো, জাতীয় পরিষদ, সিনেট ও প্রাদেশিক পরিষদগুলোর কার্যক্রম বর্জন করা এবং দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের কথা বিবেচনা করছে দলটি।

কেন্দ্রীয় বিরোধীজোটে পিটিআইয়ের অংশীদার তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তানও এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেন।  

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে মতবিরোধ ছিলো কেপির প্রাদেশিক সরকারের। যার মধ্যে অন্যতম সন্ত্রাসবাদ দমননীতি। এই মতবিরোধের কারণেই ৩রা অক্টোবর দুই পক্ষের আলোচনা ভেঙে যায়। 

পিটিআই চেয়ারম্যান গওহর বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়ে কোনো মতবিরোধ নেই। তবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে জনগণের কণ্ঠ রোধ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল কিংবা প্রদেশের সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় সরকার অস্বীকার করলেও পিটিআইয়ের অভিযোগ, প্রদেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলটিকে আলোচনায় রাখা হয়নি। 

অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে কেন্দ্রীয় সরকার। আফগান তালেবানের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের অবস্থান নিয়েও আপত্তি রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।

খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেছেন, প্রদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, জনগণের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

জনগণের উদ্দেশ্যে পিপিপির এই নেতা বলেন, “আমাদের মতপার্থক্য যেন প্রদেশের অভিন্ন স্বার্থের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, পিটিআইকে অর্থনীতি অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শাফি জান দাবি করেন, প্রদেশটির সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে আটক করা হয়েছে।