যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন, গ্রেপ্তার ৩
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএমআপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদনে সাহায্য করার অভিযোগে সন্দেহভাজন একটি অপরাধী চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রটি কয়েক ডজন বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করেছে।
মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন কর্মকর্তারা।
প্রথমে দুজনকে প্রতারণা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গয়না ও হাজার হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে থাকার সন্দেহে পরে আরও একজন গ্রেপ্তার হন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নকল ছবি, জাল নথি ও বিভিন্ন প্রমাণপত্র বানিয়ে দিতো। এসবের বিনিময়ে তারা একেকজনের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নিতো বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ভুয়া নথি ও সাজানো প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশি পুরুষদের জন্য করা আশ্রয়ের আবেদনে বলা হয়েছিলো, দেশে ফিরলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে ‘আপনজন’ নামে বাংলাদেশিদের একটি এলজিবিটি সংগঠন আছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার বলছেন, ‘আপনজন’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভুয়া আশ্রয় আবেদনকে কেন্দ্র করেই এই গ্রেপ্তারগুলো করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তারা কিছু আবেদনে সন্দেহজনক তথ্য দেখতে পান। এরপর কয়েক মাস ধরে অভিবাসন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করেন।
তদন্তে দেখা যায়, সংগঠনটি জাল চিঠি ও নথি সরবরাহ করতে পারে, যেটা হতে পারে ‘আপনজন’-এর প্যাডে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র, হতে পারে সাজানো ছবি বা অন্য কোনো তথ্য যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এ ব্যক্তিরা সমকামী।
চক্রটির সঙ্গে যুক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন এখন পর্যালোচনা করছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফস্টার বলেন, এর মধ্যে ‘নিঃসন্দেহে’ কিছু ভুয়া আবেদন অনুমোদন পেয়েছিলো।
এর আগে অভিবাসনবিষয়ক বিচারকেরা ‘আপনজন’-এর দেওয়া প্রমাণকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে সমালোচনা করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক বাংলাদেশি পুরুষ প্রথমে রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তারা সমকামী হওয়ার ভিত্তিতে নতুন করে আবেদন করেন। এসব আবেদনে ‘আপনজন’ তাদের পক্ষে সুপারিশ করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কিছু অভিবাসীকে সমকামী সেজে আবেদন করতে আইনজীবী ও পরামর্শকেরা সহায়তা করছেন। ওই অনুসন্ধানের পর মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।
ওই অনুসন্ধানে তানিসা খান নামের এক আইনি পরামর্শকের মন্তব্য গোপনে রেকর্ড করেন বিবিসির প্রতিবেদক। তানিসা বলেন, তিনি আশ্রয় আবেদনের জন্য একটি ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের’ ব্যবস্থা করে দিতে পারেন, যেখানে সমকামীদের ক্লাবে তোলা ছবি এবং আবেদনের পক্ষে অন্যান্য প্রমাণ থাকবে। ‘উস্টার এলজিবিটি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তানিসা।
পূর্ব লন্ডনের বেকটনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওই সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিবিসির সাংবাদিককে বলেছিলেন, তারা আসলে সমকামী নন। তাদের একজন বলেন, সেখানে ১ শতাংশও সমকামী ব্যক্তি নেই, এমনকি ০.০১ শতাংশও নয়।
বিবিসির ওই অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, ভুয়া আশ্রয় আবেদনকে শক্তিশালী করতে ভুয়া স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং ভুয়া সংবাদ ওয়েবসাইটও ব্যবহার করা হচ্ছিলো। পরে ‘উস্টার এলজিবিটি’ বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভান করেন, তারা প্রকৃত সুরক্ষাপ্রার্থীদের উপহাস করছেন। ভুয়া আশ্রয় আবেদন থেকে লাভ করা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে মামলা, অর্থ জব্দ এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এ ছাড়া আশ্রয় ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতারণা করলে আবেদন বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাজ্যে আশ্রয় জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন, গ্রেপ্তার ৩
সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদনে সাহায্য করার অভিযোগে সন্দেহভাজন একটি অপরাধী চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রটি কয়েক ডজন বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করেছে।
মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন কর্মকর্তারা।
প্রথমে দুজনকে প্রতারণা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গয়না ও হাজার হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে থাকার সন্দেহে পরে আরও একজন গ্রেপ্তার হন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নকল ছবি, জাল নথি ও বিভিন্ন প্রমাণপত্র বানিয়ে দিতো। এসবের বিনিময়ে তারা একেকজনের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নিতো বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ভুয়া নথি ও সাজানো প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশি পুরুষদের জন্য করা আশ্রয়ের আবেদনে বলা হয়েছিলো, দেশে ফিরলে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে ‘আপনজন’ নামে বাংলাদেশিদের একটি এলজিবিটি সংগঠন আছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার বলছেন, ‘আপনজন’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভুয়া আশ্রয় আবেদনকে কেন্দ্র করেই এই গ্রেপ্তারগুলো করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তারা কিছু আবেদনে সন্দেহজনক তথ্য দেখতে পান। এরপর কয়েক মাস ধরে অভিবাসন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করেন।
তদন্তে দেখা যায়, সংগঠনটি জাল চিঠি ও নথি সরবরাহ করতে পারে, যেটা হতে পারে ‘আপনজন’-এর প্যাডে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র, হতে পারে সাজানো ছবি বা অন্য কোনো তথ্য যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এ ব্যক্তিরা সমকামী।
চক্রটির সঙ্গে যুক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন এখন পর্যালোচনা করছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফস্টার বলেন, এর মধ্যে ‘নিঃসন্দেহে’ কিছু ভুয়া আবেদন অনুমোদন পেয়েছিলো।
এর আগে অভিবাসনবিষয়ক বিচারকেরা ‘আপনজন’-এর দেওয়া প্রমাণকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে সমালোচনা করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক বাংলাদেশি পুরুষ প্রথমে রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তারা সমকামী হওয়ার ভিত্তিতে নতুন করে আবেদন করেন। এসব আবেদনে ‘আপনজন’ তাদের পক্ষে সুপারিশ করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিবিসির এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কিছু অভিবাসীকে সমকামী সেজে আবেদন করতে আইনজীবী ও পরামর্শকেরা সহায়তা করছেন। ওই অনুসন্ধানের পর মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।
ওই অনুসন্ধানে তানিসা খান নামের এক আইনি পরামর্শকের মন্তব্য গোপনে রেকর্ড করেন বিবিসির প্রতিবেদক। তানিসা বলেন, তিনি আশ্রয় আবেদনের জন্য একটি ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের’ ব্যবস্থা করে দিতে পারেন, যেখানে সমকামীদের ক্লাবে তোলা ছবি এবং আবেদনের পক্ষে অন্যান্য প্রমাণ থাকবে। ‘উস্টার এলজিবিটি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তানিসা।
পূর্ব লন্ডনের বেকটনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ওই সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিবিসির সাংবাদিককে বলেছিলেন, তারা আসলে সমকামী নন। তাদের একজন বলেন, সেখানে ১ শতাংশও সমকামী ব্যক্তি নেই, এমনকি ০.০১ শতাংশও নয়।
বিবিসির ওই অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, ভুয়া আশ্রয় আবেদনকে শক্তিশালী করতে ভুয়া স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং ভুয়া সংবাদ ওয়েবসাইটও ব্যবহার করা হচ্ছিলো। পরে ‘উস্টার এলজিবিটি’ বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভান করেন, তারা প্রকৃত সুরক্ষাপ্রার্থীদের উপহাস করছেন। ভুয়া আশ্রয় আবেদন থেকে লাভ করা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে মামলা, অর্থ জব্দ এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এ ছাড়া আশ্রয় ব্যবস্থার সঙ্গে প্রতারণা করলে আবেদন বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাজ্যে আশ্রয় জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিষয়: