ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করা হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে পুলিশের ব্যবহার করা গ্রেনেডে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ফরাসি রেডিও আরটিএলকে জানিয়েছেন, সোমবার লঁস শহরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রকৃত তথ্য ‘স্পষ্ট না হওয়া’ পর্যন্ত স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারও বিক্ষোভের কারণে ৫০০টির বেশি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ আছে। এদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় স্কুলের বিক্ষোভ নিয়ে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর।
কয়েকটি সংগঠন অভিযোগ করেছে, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।
স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষার পরিস্থিতি উন্নত করার দাবিতে মঙ্গলবার লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই দিন ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৩ সদস্য।

উত্তর ফ্রান্সের লিলে শহরের কাছে অগুস্ত বেহাল হাইস্কুলের কাছে একটি ‘অ্যান্টি-এনসার্কলমেন্ট গ্রেনেড’ ছোড়া হয়। ওই সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত ছিন্ন হয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কিশোর গ্রেনেডটি হাতে তুলে নিয়েছিল। এরপর সেটি বিস্ফোরিত হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেনেডটি ছোড়ার পর সেটি সরাসরি কিশোরের গায়ে লাগে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বিক্ষোভের কিছু ঘটনায় সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার তিনি জানান, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ২১৫ জন শিক্ষার্থী, ৮৫ জন স্কুলকর্মী এবং ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু এবং সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বিক্ষোভের কারণে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হাইস্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর চলমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতেই এ বৈঠক করা হয়।



