ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে সকল বোমারু বিমান সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

ইরানে হামলায় ব্যবহার হওয়া যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা নিয়ে করা তদন্তের পর বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা রবিবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়। 

এভিয়েশন পর্যবেক্ষকদের সংগঠন মিলিটারি এয়ার ট্র্যাকিং অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে কয়েক ডজন বি-৫২ ও বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিলো। রবিবারও বেশ কয়েকটি বি-১ বোমারু বিমান ঘাঁটি ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে হামলার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। শনিবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তিনি বলেন, ইরানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। তার মতে, ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখন বিষয়টি সহজ পথে, নাকি কঠিন পথে সমাধান হবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এদিকে, গত সপ্তাহে মধ্য লন্ডনে এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার পর শুরু হয় তদন্ত। এ ঘটনায় মোট ছয়জনকে আটক করে পরে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছে। তবে তেহরান এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। যদিও ইরান আগে জানিয়েছিল, তাদের দেশে হামলায় যদি কোনো সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই ঘাঁটিতে হামলা বৈধ হিসাবে তারা বিবেচিত করবে। 

যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্সিরা দেশটিতে এবং অন্যান্য দেশে একাধিক অগ্নিসংযোগ ও হামলার সঙ্গে জড়িত। এসব হামলার অনেকগুলো ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এবং আতংক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি।  মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান পরিচালনার কাজে এ ঘাঁটি ব্যবহার হয়ে আসছে।

তবে ইউরোপ থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি মোতায়েন করা ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং ইউএসএস ম্যালকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। এসব জাহাজে সম্মিলিতভাবে ৭ হাজারের বেশি নাবিক ও ২ হাজার মেরিন রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, এই মোতায়েনের ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি থাকতে পারে।