বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার পরও মারা যাননি ক্রিস্টা পাইক

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন ৫০ বছর বয়সী নারী ক্রিস্টা পাইক। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে এ ঘটনা ঘটেছে।

তাকে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি। জ্ঞান হারানোর পরও তার হৃদস্পন্দন চলছিলো বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বুধবার রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তাকে পেন্টোবারবিটালের দুইটি ডোজ দেওয়া হয়েছিলো বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পাইকের আইনজীবীরা জরুরি আবেদনে জানান, তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন, তবে তার হৃদস্পন্দন চলছিলো এবং নিশ্বাস নেওয়ার শব্দও শোনা যাচ্ছিলো। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী, চিকিৎসাকর্মীরা তার চিকিৎসা শুরু করেন এবং তাকে কারাগারের বাইরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালে একটি  প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পরিচয়ের পর পাইক ও তার সাবেক প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ স্লেমারকে হত্যা করেন বলে মামলার বিচারে প্রমাণিত হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা তা স্থগিতের জন্য একাধিক আবেদন করেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের দেওয়া সাময়িক স্থগিতাদেশ বাতিল করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেয়।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য স্বাধীন তৃতীয় পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান।  এ বছর আরো যতো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা আছে তাও স্থগিত করা হয়েছে।

টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, কর্মকর্তারা অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রোটোকল অনুসরণ করেছেন। প্রোটোকলে প্রথম দফার ওষুধ কাজ না করলে দ্বিতীয় সেটের সিরিঞ্জ ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে বিভাগটি থেকে জানানো হয়।

অন্যদিকে পাইকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তার শিরায় ওষুধ প্রয়োগে সমস্যা হয়েছিলো এবং পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না।

এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড. জোয়েল জিভট, যিনি পাইকের আইনজীবী দলের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, বিবিসিকে বলেন, পাইকের শরীরে পেন্টোবারবিটালের পর্যাপ্ত মাত্রা সম্ভবত পৌঁছায়নি। চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব হলে মস্তিষ্কে ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

পাইক টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর দেশটিতে ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে পুরুষের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা এক হাজার ৬৬৩।