২৩ বছর পর ইরাকের মাটি ছাড়ছে মার্কিন সেনারা  

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের শেষ ধাপ শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী সামরিক অভিযানের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

তবে মার্কিন সেনাদের বিদায়ের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, ৩০এ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১লা অক্টোবর থেকে ইরাকে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি না থাকার কথা জানানো হয় বিবৃতিতে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের আলোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

২০০৩ সালে ইরাকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ওই বছরের ১৯এ মার্চ অভিযান শুরুর পর ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম হোসেন। বিচারের পর ২০০৬ সালের ৩০এ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

তবে সাদ্দামের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকে। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়লেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের পর আবারও দেশটিতে ফিরে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহায়তা দেওয়াও ছিল তাদের দায়িত্বের অংশ।

২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় নেওয়া এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২০ সাল থেকেই ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিলো।

মার্কিন সেনাদের বিদায়কে ইরানের সরকার ও দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিজয় হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ হলে দেশটিতে ইরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাদের গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ নজরদারি ও অন্যান্য সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে আইএস আবারও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিদায়ে ইরানে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তেহরান কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। তার মতে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনাকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে।

তবে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকের জনগণের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতির অবসানকে অনেকে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি ইরাকি বাহিনীর হাতে যাওয়ার পর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলা করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।