জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে যেসব মিথ্যা বলেছেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

মিথ্যা বলেছেন ট্রাম্প। তাও একটি-দুটি নয়। বেশ কয়েকটি মিথ্যা। তাও আবার জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিভিন্ন তথ্যের ফ্যাক্ট চেক করেছে সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।

তার লিখিত বক্তব্যটি আপাতদৃষ্টিতে পরিমার্জিত ও গোছানো মনে হলেও, তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে উঠে এসেছে বেশ কিছু অসঙ্গতি।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি থেকে শুরু করে পরিবেশ বিজ্ঞান কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, প্রায় প্রতিটি সংবেদনশীল বিষয়েই তিনি বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।

বিশ্বের অন্তত আটটি যুদ্ধ থামানোর যে বীরত্বপূর্ণ দাবি তিনি উপস্থাপন করেছেন, অনুসন্ধানে তার ভিত্তি নড়বড়ে বলেই প্রমাণিত হয়।

তিনি এমন কিছু কূটনৈতিক বিরোধকে 'যুদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা আদতে কখনো সশস্ত্র সংঘাতের রূপই নেয়নি। যেমন মিশর ও ইথিওপিয়ার বাঁধসংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্ক কিংবা কসোভো ও সার্বিয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা।

এছাড়া রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর সংঘাত চুক্তি সত্ত্বেও অব্যাহত আছে এবং গাজায় হামলা এখনও বন্ধ হয়নি।

২০২৫ সালে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের কৃতিত্ব নিলেও, ২০২৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইসরায়েলের সঙ্গী হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈজ্ঞানিক ইস্যুকেও তিনি অত্যন্ত হালকা চালে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তাকে উপহাস করে তিনি দাবি করেন যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির গল্পটি ভুল প্রমাণিত হওয়ায় এর নাম বদলে নাকি 'জলবায়ু পরিবর্তন' রাখা হয়েছে।

যদিও নাসা এবং জাতিসংঘের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্ব ইতিহাসে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণতম সময়।

বিজ্ঞানের পরিভাষাকে ভিত্তিহীনভাবে অস্বীকার করার পাশাপাশি জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি ও লক্ষাধিক প্রাণহানির ভয়াবহ সত্যকেও তিনি এড়িয়ে গেছেন।

অর্থনীতি এবং দেশের সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে তার দেওয়া পরিসংখ্যানগুলো ছিল একইভাবে অতিরঞ্জিত।

বিশ্বমঞ্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল বিনিয়োগের যে দাবি তিনি করেছেন, হোয়াইট হাউসের নিজস্ব অফিশিয়াল সাইটেই তার পরিমাণ বলা হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই সাধারণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি।

ট্রাম্প দাবি করেছেন মার্কিন সেনাবহরে গোলাবারুদের কোনো ঘাটতি নেই। ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিরক্ষা দপ্তরের নিজস্ব ইন্সপেক্টর জেনারেল ও কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট।

সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমেছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশটির অন্তত পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি যা বলেছেন তা সত্য নয়। সেখানে অপরাধের হার ৮৭ শতাংশ কমানোর দাবি করা হলেও স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত হ্রাসের হার ছিলো সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ।