জাপানে রেকর্ড বৃষ্টিতে ৪ জনের মৃত্যু, ঘরবন্দি মানুষ 

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

এক রাতেই যেন বদলে গেলো ব্যস্ত জাপানের চিত্র। কোথাও সড়ক পানির নিচে, কোথাও বিদ্যুৎহীন ঘরবাড়ি, আবার কোথাও বিমানবন্দর ও স্টেশনে রাত কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

পূর্ব জাপানের চিবা প্রিফেকচারে ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের পর নেমে আসে ভয়াবহ বন্যা। এতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একজন নিখোঁজ এবং আরও একজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় ২৫ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন বলছে, পানির তীব্রতায় বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়। এছাড়াও ভূমিধসের আশংকায় বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয় সতর্কতা।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় বৃষ্টি হচ্ছিলো। পরে শুক্রবার সকালে সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা এক ধাপ কমিয়ে চতুর্থ মাত্রায় নামিয়ে আনা হলেও ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে জাপান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর দিয়ে একের পর এক ঝড় বয়ে যাওয়ার পর এই প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সক্রিয় টাইফুন মৌসুমের আশংকা করা হচ্ছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে ওপরের স্তরের ঠাণ্ডা বাতাস মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এর ফলেই এমন প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বৃষ্টিপাত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই বৃষ্টির পরিমাণ

অগাস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন গুণ এবং দেশটিতে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। 

তিনি আরও জানান, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন, যিনি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর মারা যান। আরও দুজনকে সড়কে পড়ে যাওয়ার পর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জাপান আবহাওয়া সংস্থা এর আগে পরিস্থিতিকে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় বৃষ্টি’ হিসেবে উল্লেখ করে।

অন্যদিকে, নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েন ৬ হাজারেরও বেশি যাত্রী। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেককে বিমানবন্দরেই রাত কাটাতে হয়। চিবা স্টেশনেও আটকা পড়েন শত শত মানুষ।

বন্যার কারণে নারিতা থেকে টোকিওর কেন্দ্রীয় অংশে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চালকদের বিকল্প পথে যেতে হয়। শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি মেট্রো চলাচল বন্ধ ছিলো। বন্ধ আছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়কও। তবে নারিতা ও টোকিওর মধ্যে কিছু ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়েছে।

এদিকে, বৃষ্টিতে ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার এক লাখের বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে। অর্থাৎ আকাশপথ সচল থাকলেও স্থলপথের বিপর্যয় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

ছুটির ব্যস্ত সময়ে এমন দুর্যোগে জাপানের যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আর এই অতিবৃষ্টি নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তাও স্পষ্ট, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। 

 

(বিবিসি, ডয়চে ভেলে অবলম্বনে)